১০% ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে বই ও পণ্যে বিকাশে মাত্র ৬০০৳+ পেমেন্টে সর্বোচ্চ ১০০৳ পর্যন্ত! পুরো ক্যাম্পেইনে ক্যাশব্যাক পাবেন ১৫০৳ পর্যন্ত!*
আরো দেখুন
১০% ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে বই ও পণ্যে বিকাশে মাত্র ৬০০৳+ পেমেন্টে সর্বোচ্চ ১০০৳ পর্যন্ত! পুরো ক্যাম্পেইনে ক্যাশব্যাক পাবেন ১৫০৳ পর্যন্ত!*
অনলাইন বাণিজ্য মেলায় আপনার পছন্দের পণ্যে ৭৫% পর্যন্ত ছাড়! বছরের শুরুতেই সেরা ডিল, রকমারি অনলাইন বাণিজ্য মেলা, ২০২৬
কতদিক সামলাবে সে? তার পিয়াসকে সামলাতে হয়। তার উপর আছে পিয়াসের সংসার। পিয়াসের সংসারে তো সে আছেই। তবে তার মনে যে সংসারের ছবিটা আছে তাকে সে-রকমের একটা সংসার সাজাতে হবে তো, তারপর সে মা হবে।
স্কুলে ফোরে না ফাইভে পড়ে তখন তানজু, টিচার জিজ্ঞেস করেছিল ছাত্রীদের, কে কী হবে বড় হয়ে?
তানজু তার উত্তর রেডি করে বসেছিল। তার কাছে আসা মাত্র দাঁড়িয়ে সে বলেছে, আমি মা হব।
টিচারের তানজুর কথা বুঝতে হয়তো একটু সময় লেগেছে, তারপর যখন বুঝেছে, ছাত্রীদের সঙ্গে তারও কী হাসি!
তানজু এটাই জানত শুরু থেকে, তার বিয়ে হবে, সংসার হবে, বাচ্চা হবে। বিয়েটা তার হয়ে গেছে, এখন সংসার সাজানোর পালা।
সকালবেলা নাস্তা খেয়ে বেরিয়ে যায় পিয়াস। ফিরতে ফিরতে রাত আটটা নয়টা। ছুটির দিনও তাই, তার নাকি ছুটি নেই। কোথায় কোথায় তার ছুটির দিনেও কাজ করতে হয়। কেন যে তানজুর এখনো অভ্যাসটা হয়নি, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আগবাড়িয়ে সব কথা জিজ্ঞেস করা। তার কেন জানি মনে হয় এরকম করলে পিয়াস তার কাছে মিথ্যা কথা বলতে শুরু করবে। সে পারতপক্ষে মিথ্যা কথা বলে না, পিয়াসের সামনে তার মিথ্যা কোনো রূপ তুলে ধরতে চায় না। মোট কথা মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে সম্পর্কটা শুরু হোক তা সে চায় না।
আগে তো সে শুনেছে, বিয়ের রাতে বিড়াল মারতে হয়। মানেটা হয় তো এই যে, তারপর থেকে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু তানজুদের বিয়ের রাতটা এমনভাবে এমন জায়গায় কেটেছে তারও কোনো বিড়াল মারা হয়নি, পিয়াসেরও না। তাদের সম্পর্কটা কবে যে একটা পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াবে, সে কিছুটা বুঝবে পিয়াসকে বা পিয়াসও তাকে? তবে পিয়াস তাকে কতদূর কতটুকু বুঝবে সেটা তেমন ইম্পর্টেন্ট না, তার তো পিয়াসকে বুঝতে হবে একটু একটু করে, না হলে তার সংসারটা করা হবে কিভাবে?
সিরাজুল ইসলাম জন্ম ১৪ জুন ১৯৫১ সালে নারিন্দা, ঢাকায়। ষাটের ঢাকা এবং উৎকণ্ঠিত এক জায়মান সমাজবীক্ষা এই লেখকের ধমনিতে হয়তাে নিজের অজান্তেই জন্ম দিয়েছিল ভিন্ন এক শিল্পচেতনা, যা তাঁর গল্প-উপন্যাসগুলাে বহন করে চলেছে! লেখালেখিসহ সামাজিক বিভিন্ন পরীক্ষাপ্রবণ সময়ে সিরাজুল ইসলাম উপন্যাস লেখেন প্রথাবদ্ধ নিয়মে, কথাসাহিত্যের ঐতিহ্য মেনে। কিন্তু নিয়ম মানাও যে নতুন নিয়ম গড়ার আঁতুড়ঘর হতে পারে, সিরাজুল ইসলামের লেখা তা পাঠককে অতি মৃদুকণ্ঠে নিয়ত জানিয়ে দেয়! পলাতকা, অশেষ, সিংহাসন, সােনার আলােয়, পাথরগুলাে, ছত্রাক, কুশীলব, হৃদয়, প্রিয়তম, টাপুর টুপুর লেখকের প্রকাশিত অন্যান্য উপন্যাস। সিরাজুল ইসলামের প্রায় সব গল্প বা উপন্যাসের বেশিরভাগ উপাদান শহরজীবনের বেদনাক্রান্ত জটিল; কিন্তু অতি সূক্ষ্ম মানবিক ক্ষরণের কথা। সংক্ষিপ্ত পরিসরে প্রায়ই শিল্পমূর্তি ধারণ করে সেই অন্তর্গত দ্বন্দ্বদীর্ণ ও রক্তিম ক্ষরণগুলাে! প্রায় প্রতিটি লেখাই নিজের অভিজ্ঞতা-সংহত; কিন্তু মধ্যবিত্ত মূল্যবােধ দ্বারা জারিত, কখনাে কখনাে একটু বিস্ফোরণের আভায় জড়ানােও। মধ্যবিত্ত বাঙালির গণ্ডির ভেতর ও বাইরের ক্ষীণ সীমারেখায় দাঁড়িয়ে মানব-মানবীর মনােজগতের অজানা প্রদেশের নিত্য খোঁড়াখুঁড়ি সিরাজের বিরামহীন এক প্রয়াস! পরিবেশের কুৎসিত বীভৎসতা বা ইতরতার মধ্যেও সিরাজের অন্বেষণ ও অন্বিষ্ট মানবিক হৃদয়ের ছবি আঁকা! সিরাজের গল্প বা উপন্যাস ভাবালুতাবর্জিত; কিন্তু ভাবনা উদ্রেককারী । মানবের অদম্য প্রাণশক্তির জয়ই সকল বেদনা বা সংগ্রামের মধ্যে বিভিন্ন শব্দের জাদুতে আঁকেন তিনি।