‘অপরাহ্ণে সূর্যস্নান’ কবি বাদল মেহেদীর এক অনবদ্য সৃষ্টি। কবি সবসময় তার যাপিত জীবনের চারপাশের যান্ত্রিকতা, মানুষে মানুষে বৈষম্য, সমাজের নানান অসঙ্গতি এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশে তিনি যারপরনাই বিরক্ত, ক্লান্ত। শৈশব-কৈশোর-যৌবন পেরিয়ে মানুষ যখনÑ বৃদ্ধ বা পৌঢ়ত্বের দিকে এগুতে থাকেÑ তখন তিনি যদি পেছন ফিরে তাকান; নিজেকে প্রশ্ন করেনÑ কি হতে চেয়েছিলাম? প্রতিউত্তর ফিরে আসে তুমি যা হয়েছো এটাই যথেষ্ট। এই দোলাচালেই একজন মানুষ তার জীবনের পেণ্ডুলামে নিজেকে খুঁজে ফেরেন। তার ওপর যদি তিনি আশির কোঠা পেরিয়ে যানÑ তখন গা ঝাড়া দিয়ে তার ভেতরের আরেক শক্তিমত্তা কাজ করে। তেমনি এক চির তরুণ কবি বাদল মেহেদী। ইতোমধ্যে আশির কোঠা পেরিয়েছেন তাঁর ফেলে আসা দিনগুলোর ভেতর দিয়ে। তারপরেও সবুজ সতেজতায় নিজেকে জিইয়ে রেখেছেন সকল শুভ ও মঙ্গলের আলোয় উদ্ভাসিত করে।
এখনো এই চির তরুণ কবি প্রেমপ্রীতি, ভালোবাসা, সুনাম-দুর্নাম, আরো কত কী বাঁক বদলের এই মানবজীবনের আঁকাবাঁকা পথের কোণ দেখতে চেয়েছেন। হতে চেয়েছেন বটবৃক্ষ। প্রেমময় একটি পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে বিভোর হয়েছেন। মানবিক শেষণহীন সমাজব্যবস্থার স্বপ্নে যে তরুণ জীবন হাতের মুঠোয় রেখে দেশমাতৃকার জন্য জীবনপন লড়াই-সংগ্রাম করেছেন; শোষণহীন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেছেন-- আজ সবার জন্য বাসযোগ্য আবাস গড়বার উদগ্রীব আকাঙ্ক্ষা-- তাঁর ভেতরে সবসময় অতন্ত্র প্রহরীর মতো জেগে থাকে।
তাঁর কবিতায় মানুষের যাপিত জীবনের দর্শন, বোধ ও ব্যাধি, প্রেম, স্বপ্ন ও পরাবাস্তবতার লিরিকে রূপকে-প্রতীকে, উপমায়-উৎপ্রেক্ষায় অনুরণিত হয়েছে। কবি ও কথাসাহিত্যিক বাদল মেহেদী জীবনযুদ্ধে জয়ী এক সংগ্রামী মানুষ-- যাঁর কবিতার চরণে তারই আবেগ ও উচ্ছ্বাস সমুচ্চারিত হতে দেখা যায়।
‘অপরাহ্ণে সূর্যস্নান’ তবে কি কবিকে জীবন সায়াহ্নে নিয়ে এসেছেন? মোটেই নয়। তিনি সদা তারুণ্যময় এক টগবগে যুবকের মতো কবিতা ছড়ি ঘোরাতে সক্ষম। তাঁর এ কবিতাগ্রন্থে ভিন্ন এক ধরনের ব্যঞ্জনা অনুরণিত হতে দেখা যায়। পাঠক নিশ্চয় এ কবিতাগ্রন্থে নানা মাত্রিক বোধের স্ফূরণ খুঁজে পাবেন; অনন্দের বারতা উপলব্ধি করবেন।