আমি ওকে রেজা বলেই ডাকি। “বেকুবের দেশচিন্তা” এই বইটা সম্ভবত রেজার ১১ কিংবা ১২ তম বই। ওর প্রথম বই প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। “দূরের প্রবাস কাছের স্বদেশ”। এই নামের ভেতর থেকেই রেজার চিন্তা সম্পর্কে বোঝা যায়, ওর দেশপ্রেম কতোটা নিখাধ। আমার সৌভাগ্য হয়েছে রেজার বেশ কয়েকটা বই পড়ার এবং ওর অনেক নিয়মিত কলাম পড়ার। শুধু লেখা না টেলিভিশনে ওর আলোচনা এবং অনেক মঞ্চে ওর কথা শোনার, বলার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। রেজাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি ওর লেখালেখির মাধ্যমে। তাও প্রায় এক যুগের বেশি সময় হয়ে গেছে। এরপর ওর সাথে সামনাসামনি পরিচয়, এর পর থেকে আমাদের সম্পর্ক এবং উভয়, উভয়কে বোঝার গভীরতা বেড়েছে, আন্তরিকতা বেড়েছে। যতবারই আমি রেজা দেখা করেছি, আমার কাছে ওকে এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব বলে মনে হয়েছে।
ওর সহজ সরল মন। কিন্তু দৃঢ় চিত্ত এবং চিন্তা আমাকে বিমুগ্ধ করে। রেজার সব লেখালেখি অথবা বক্তব্যের সাথে আমি সহমত পোষণ না করলেও ওর চিন্তা এবং দর্শনের গভীরতা ও জ্ঞানকে আমি অস্বীকার করতে পারি না। রেজা পেশাদার লেখক না হয়েও যে পরিমাণে লিখেছে এবং লিখে যাচ্ছে তা অতুলনীয়। ওর দেখার চিন্তার গভীরতা আমাকে ভীষণ মুগ্ধ করে। ওর লেখার মূল বিষয়বস্তু, আত্মসচেতনতা বোধ, বিনয়, ইতিহাসবোধ, সমাজচিন্তা, আন্তরিকতা, সততা ও স্পষ্টবাদিতা। এইসব এই সময়ের অনেক লেখকের মধ্যে দেখা যায় না। বিশেষ করে ওর প্রজন্মের কারো লেখাতে আমি এরকম কিছু দেখেছি বলে মনেও পড়ে না।
সেদিক থেকেও রেজার লেখা ব্যতিক্রম। ওর সাথে অনেকে দ্বিমত বা ভিন্ন মত পোষণ করতেই পারি। কিন্তু ওর ইতিহাসকে এবং নৈর্ব্যক্তিক দেখাকে আমরা কেউ অস্বীকার করতে পারি না। রেজা কোন জনপ্রিয় লেখক না, কিন্তু আমার মনে হয় আগামী প্রজন্ম ওর লেখা থেকে অনেক কিছু শিখতে এবং জানতে পারবে যদি ওরা কেউ ওর লেখা এবং বই পড়ে।
রেজা বলে ও নিরপেক্ষ না কিন্তু আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হলেও যুক্তিদ্বারা পরিচালনা করে নিজেকে। প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস আছে রেজার। সেটা ওর সাথে কথা বললেই বোঝা যায়। সম্প্রতি রেজার প্রকাশিত আরেকটা গ্রন্থ “অটোবায়োগ্রাফি অফ আননোন উলানিয়ান”, প্রকাশিত হয়েছে, ২০২৪ সালে। এই বইটা পড়লেও রেজার শৈশব এবং ওর পারিবারিক পরিচয় সম্পর্কে পাঠক অনেক কিছু জানতে পারবেন ও কতটা ব্যতিক্রমী চরিত্রে একটা মানুষ।
নিঃসন্দেহে রেজার মতো একজন লেখক এবং বক্তার সংখ্যা বর্তমান সমাজে খুব কম। হাতে গণা যে কয়জন আছেন তারাও রেজার মতো নিভৃতে থাকেন। সমাজের ভালো মানুষগুলো এখন নিভৃতে চলে গেছে। স্বচ্ছ মুক্তচিন্তা এবং আন্তরিকতা ও এর গভীরতা চলতি সময়ে বিরল। মাঝে মাঝে অবাক হই রেজা দেশ থেকে বহু বছর ধরে অনেক দূরে। তারপরেও প্রবাসে বসে দেশ নিয়ে এত গভীরভাবে চিন্তা করা, সেটা বিশ্লেষণ করা। বই প্রকাশ করা। খুব সহজ ব্যাপার না। দেশের প্রতি ভালোবাসার কমিটমেন্ট না থাকলে তা সম্ভব না।
প্রবাসে তো অনেকেই আছেন আমাদের। আমি রেজার মতো এত উঁচু মাপের দেশপ্রেমিক দেখি নাই, যারা ওর মতো এমন দেশমাতৃকা ধারন করে লেখে। রেজার বর্তমান বইয়ের নাম দিয়েছে বেকুবের দেশ চিন্তা। আমি বলি, এইরকম বেকুবের সংখ্যা আমাদের সমাজে আরো বাড়ুক। আমি রেজার দীর্ঘ সুস্থ আয়ু প্রার্থনা করি। রেজার লেখা অব্যাহত থাকুক। আমি প্রত্যাশা করি।
আমার ভালোবাসা ও স্নেহ এবং দোয়া যতদিন বেঁচে আছি রোজার জন্য বিরতিহীনভাবে চলবে। ওর প্রকাশিত আরেকটা গ্রন্থ, “নিঃশব্দ শব্দাবলী” ২০২১ এ প্রকাশিত হয়। প্রকাশক, এ পি পি এল। একাডেমিক প্রেস এন্ড পাবলিশার্স লাইব্রেরি। আরেকটা অসাধারণ বই রেজার। এই বইটাও আমার পড়া। ওখানেও আমি রেজার সম্পর্কে লিখেছি। রেজা তুমি ভালো থাকো। অনেক অনেক দোয়া রইলো তোমার জন্য।
এ জি মাহমুদ
ফর্মার, এয়ার ভায়েস মার্শাল
বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স।
জুলাই, ১০,২০২৫