ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা শুধু আধ্যাত্মিকতা বা উপাসনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জীবনকেও সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে পরিচালিত করে। এই জীবনব্যবস্থার মূলভিত্তি হলো পবিত্র কুরআন ও হাদীস, যা থেকে বিকাশ লাভ করেছে শারিয়া আইন। ‘শারিয়া’ শব্দের অর্থ হলো— সঠিক পথ বা জীবন চলার বিধান। শারীয়া আইন মূলত ইসলামের নৈতিক, সামাজিক ও আইনি দিকগুলোকে কাঠামোবদ্ধ করে তুলে ধরে।
শারিয়া আইন মুসলিম সমাজে ন্যায়বিচার, সমতা ও সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত। এটি ব্যক্তিগত আচরণ থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা পর্যন্ত সব পর্যায়ে ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য নির্দেশনা প্রদান করে। বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শরীয়া আইনের প্রয়োগ ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখা যায়, যা ঐসব দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে।
লেখকের এ বইটি একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে লেখা হয়েছে। বিশেষ করে এ বইটিতে ইসলাম-ধর্মীয় বিধি-বিধান ও শারিয়া-আইন আশ্রিত বিধিবিধানের মধ্যে ফারাকসমূহ তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। লেখক উল্লেখ করেছেন, ইসলাম ধর্মীয় বিধিবিধান সরাসরি আল্লাহর “পবিত্র কুরআন” ও রাসূলুল্লাহ (সা) এর ‘সুন্নাহর’ সমন্বিত বিধি-বিধান। অপরদিকে ‘শারিয়া-আইন’ ও ‘সুন্নাহর’ ব্যাখায়িত ও প্রণীত আইনিধারার সমাহার। লেখক এ বইটিতে শারিয়া আইনের অনেক ক্ষেত্রেই পবিত্র ‘কুরআন’ ও ‘সুন্নাহর’ অপব্যাখ্যার কথা উল্লেখ করেছেন, বিশেষ করে ‘ইসলাম’ ধর্মের নাম ব্যবহার করে কিভাবে নারী ও মানবতা-বিরোধী আইন প্রণয়ন করতঃ এক অপদর্শনে প্রতিষ্ঠা করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বস্তুতঃ লেখক উল্লেখ করেছেন, আল্লাহর বিধান তথা ‘কুরআন’ এর বিধিবিধান পরিবর্তন-পরিবর্ধন করে অন্য কোনরূপ অধিকার কাউকে দেখা হয়নি।
অথচ ‘শারিয়া আইনের’ ভিত্তি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিভিন্ন ইসলামিক ফকীহগণ, অতীতের ‘চার মাযহাবের’ নীতিকথা এবং বাংলাদেশের ইসলামী ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত ‘বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন’ প্রণয়নের ভিত্তিতে রাষ্ট্রকে ও ‘ইসলামি-রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠায় প্ররোচিত করেছে। আর এরূপ রাষ্ট্রসমূহে নারী ও অন্য ধর্মের লোকদের জীবনধারা কিরূপে বিঘ্নিত করা হয়— উহা এ পুস্তকে আলোকপাত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এ বইটি বিশেষভাবে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করা হয়েছে যে, একজন মানুষ, হোক না সে মুসলমান, কিংবা অন্য ধর্মাবলম্বী, পবিত্র কুরআন বিধি-বিধান অনুযায়ী উক্ত মানুষটি আল্লাহর সৃষ্টি একজন মানব হিসেবে মূল্যায়ন করা সমীচীন। আর এটিই এ বইটির মূখ্য বিষয়।