রুদ্ধশ্বাসে একটানে পড়ে ফেলার মতোই উপন্যাস হাবিবুর রহমান বাবুর ‘ফেরার পথে’। উপন্যাসটি পড়ে উপন্যাসের নায়ক জয়ের মতোই মাদকের ঘুম ঘুম আবেগে গল্পের গহীনে ডুবে যাচ্ছিলাম। লেখক এ উপন্যাসে সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবারে মাদকের সর্বগ্রাসী জীবনবিনাশী বিষাক্ত ছোবল কীভাবে সবকিছু তছনছ করে দেয়, তা নিপুণ হাতে তুলে এনেছেন। সহজ সরল ভাষাভঙ্গী, অথচ জীবনের নির্মম বাস্তবতা আমরা দেখতে পাই।
ট্র্যাজেডি আর নির্মমতা এ উপন্যাসের অনিবার্য বাস্তবতা। হৃদয় আকুল হলেও এটি মেনে নিতে হয় যে নায়কের পরিণতি এমনই হওয়া উচিৎ। পাঠকের ভাবনার সঙ্গে লেখকের এই যোগসূত্র অনেক গভীর ও দূরসঞ্চারী। একই গল্পের ভেতর আরো অনেক গল্প, অনেক ঘটনা। সব মিলিয়ে কোলাজ। ‘ফেরার পথে’ এটি একটি সামাজিক উপন্যাস। বিদ্যমান সমাজের নানা অসংগতির বহুমাত্রিক রূপ আলোচ্য উপন্যাসে আমরা দেখতে পাই।
নানা ঘটনা-দুর্ঘটনার মাঝেও অবিশ্বাস্য গতিতে এ উপন্যাস তার গন্তব্যের দিকে ধাবিত হয়েছে। অনিয়ম আর অব্যাবস্থাপনার নির্মম নজির হিসেবে জয়ের পরিবার ও কতিপয় বন্ধু অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। এটিই এই সমাজের ভয়ংকর চিত্র যা নির্মোহভাবে লেখক এখানে উপস্থাপন করেছেন। উপন্যাসের পরিণতি এমন হবে তা আগা বোঝা মুস্কিল। এখানে লেখক গল্পের ভেতরে আরো বহু গল্পের ইঙ্গিত দিয়েছেন। লেখক এখানে সফল। গল্পের বুনন, শিল্পরূপ, ভাষা-ভঙ্গি, সমাজ, বাস্তবতা এসব বিবেচনা করলে লেখক পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছেন।
সাহিত্যদেশ-এর শফিক সাইফুল উপন্যাসটি প্রকাশের উদ্যোগ নেয়ায় তাকে আগাম অভিনন্দন। হাবিবুর রহমান বাবুর ‘ফেরার পথে’ উপন্যাস বিপুল পাঠকপ্রিয়তা পাবে বলে আমার প্রত্যাশা। সাহিত্যের মায়াবী চাদরে জড়িয়ে থাকুক আমাদের হৃদয়। মাদক নয়Ñ মানবিকতা ও ভালোবাসার জয় হোক।
জন্ম ১৯৮৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর। পিতা মো. মিনাজ মিয়া, ব্যবসায়ী। মাতা খাইরুননেছা, গৃহিণী। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি মেজো। বাবা-মা ভাই-বোন নিয়ে জন্মস্থান রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বসবাস করেন। পৈত্রিক বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়। পেশায় সাংবাদিক। ভালোবাসেন সংগঠন ও লেখালেখি। তিনি ইয়ুথ জার্নালিস্টস্ ফোরাম বাংলাদেশ (ওয়াইজেএফবি) এর কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি ঢাকাস্থ ‘কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম’-এর সদস্য এবং রোটারি ক্লাব অফ আহসান মঞ্জিল-এর সদস্য।