নিঃসন্দেহে ইসলামি শারী‘আত তথা ইসলামের বিধি-বিধান সব কিছুই আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত ওহী মাতলূ ও ওহী গায়রে মাতলূ তথা পবিত্র কুরআন ও হাদিসের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এতে নিজে বানিয়ে কিছু করার কোন প্রকার অবকাশ নেই। যার কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজের বিধান গ্রহণ করো” (মুসলিম, হা নং ১২৯৭)। আল্লাহ তা‘আলা সামার্থ্যবান বান্দাদের উপর হজ ফরজ করেছেন। পবিত্র কুরআনে হজ শব্দটি বিভিন্ন রূপে তেরো বার এসেছে এবং ওমরা শব্দটি বিভিন্ন রূপে তিন বার এসেছে। হজ কিন্তু আর্থিক ও দৈহিক ইবাদত। তাই অর্থের সাথে সাথে শারীরিক সামর্থ্যবান হওয়াও শর্ত। হজ একটি ফরজ কাজ ও মু’মিনের আকাক্সিক্ষত ইবাদত।
হজ সমগ্র জীবনে একবারই ফরজ। যে ব্যক্তির হজ কবুল হয়েছে তার জীবনে ইবাদতে ও আমলে নতুনত্ব চলে আসে। এই হজ যাতে হজে মাবরূর হয় সেজন্য হজের যাবতীয় বিধান বিশুদ্ধভাবে জেনে হজ করা প্রয়োজন। সেই হিসেবে আমি নিজেও ২০২৪ সালের হজযাত্রী হওয়ার কারণে হজের আহকাম ও মাসাইল আয়ত্ত করতে গিয়ে মনে করলাম “হজ-ওমরা ও যিয়ারতে মদীনা” বিষয়ে একটি সহীহ গাইড থাকা দরকার। সেই লক্ষ্যে লেখা আরম্ভ করেছি এবং সমাপ্তও করেছি আল-হামদুলিল্লাহ। চেষ্টা করেছি বিশুদ্ধভাবে লেখার জন্যে। মূলত আমার শ্রদ্ধেয় ওস্তাদগণ ও শুভাকাক্সিক্ষদের প্রেরণায় হজ ও ওমরার উপর “হজ-ওমরা গাইড ও যিয়ারতে মদীনা” গ্রন্থটির রচনার সূচনা হয়েছে।
সাধারণ পাঠকদের কথা বিবেচনা করে দু‘আর উচ্চারণসহ হজ-ওমরার বিশুদ্ধ মাসাইল ও আহকাম ধারাবাহিকভাবে সন্নিবেশিত করার চেষ্টা করেছি। পবিত্র হজ ও ওমরা পালনকারীদের জন্য বইটি খুবই উপকারে আসবে বলে আমি মনে করি।