প্রি-অর্ডারের এই পণ্যটি 02 Apr 2026 তারিখে প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রকাশনী থেকে জানানো হয়েছে। তবে বিশেষ কোন কারণে প্রকাশিত হওয়ার তারিখ পরিবর্তন হতেও পারে.
রক্তাক্ত ভোর: যখন তারুণ্যের ঐক্য ইতিহাসে নতুন সূর্য আঁকে
এটি এক সংঘাতপূর্ণ বর্ষার গাথা— যখন একটি জাতির বুক চিরে জেগে উঠেছিল তারুণ্যের দুর্বার সাহস। এই আখ্যান সেই মুহূর্তের, যখন সাধারণ দাবিদাওয়া পরিণত হয়েছিল জাতীয় মুক্তির আকাক্সক্ষায়।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে রায়হান নামের এক স্বপ্নবাজ ছাত্র এবং তার নির্ভীক সঙ্গীরা। তারা প্রথম দিকে কেবল ন্যায্যতার পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু যখন রাষ্ট্রযন্ত্রের বর্বর দমন—পীড়ন নেমে আসে, যখন রাফি—র মতো তরুণের আত্মত্যাগ এবং আব্দুল করিম—এর মতো নিরীহ কৃষকের রক্তে রাজপথ সিক্ত হয়, তখন ব্যক্তিগত সংগ্রাম পরিণত হয় গণ—বিদ্রোহে।
এই আখ্যানে প্রযুক্তির ভূমিকাও এক নতুন অধ্যায় লেখে। মনে হচ্ছিল সবকিছু স্তব্ধ, কিন্তু অনলাইন জগৎ থেকে উঠে আসে এক নতুন গণজাগরণ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ কাঁধে কাঁধ মেলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের সাথে—এই অভূতপূর্ব ঐক্য প্রমাণ করে, শ্রেণিভেদ নয়, বরং স্বপ্ন এক জাতি গঠনে আসল শক্তি। সারা দেশ যখন অপ্রতিরোধ্য জনস্রোতে পরিণত হলো, তখন বোঝা গেল, কোনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আর জনতাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।
এটি সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের বর্ণনা, যখন দীর্ঘদিনের এক প্রতীক্ষিত পরিবর্তন আসে। তবে এই বিজয় এসেছিল বিশাল মূল্যের বিনিময়ে। উৎসবের ঠিক আগ মুহূর্তেও ঝরে যাওয়া অসংখ্য প্রাণের বেদনা সেই নতুন ভোরের সাথে চিরকাল মিশে থাকবে।
এই উপন্যাসটি কেবল একটি রাজনৈতিক পালাবদলের গল্প নয়; এটি একটি জাতির আত্ম—অনুসন্ধান, আত্মত্যাগ এবং ক্ষতচিহ্নকে পুনর্গঠনের প্রেরণায় রূপান্তরের গল্প। এটি মনে করিয়ে দেয়: ঐক্যবদ্ধ হলে সাধারণ মানুষ কী করতে পারে এবং একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন দেশ গড়ার শপথ কতটা জরুরি।
পড়ার পর আপনার মনে হবে—‘আরে, এ তো আমাদের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া সময়েরই প্রতিচ্ছবি, যা আমরা টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছি!’
সালাম খোকন নামটি হয়তো বাংলা সাহিত্যে এক নতুন সংযোজন, কিন্তু তাঁর ভেতরের গল্পগুলো জমছিল দীর্ঘদিন ধরে- নিঃশব্দে, গভীর এক আত্মসংলাপে। ছোটবেলা থেকেই বইয়ের পাতায়, ক্যাসেটের আবৃত্তিতে কিংবা মঞ্চনাটকের আবহে বেড়ে ওঠা তাঁর সাহিত্যবোধকে করেছে সূক্ষ্ম, সংবেদনশীল এবং গভীরভাবে মানবিক। নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার বেলোয়া গ্রামে জন্ম, বগুড়ায় কৈশোর আর ঢাকায় শিক্ষা ও কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা- এই ভিন্ন ভিন্ন গ্রাম-শহরের বাস্তবতা তাঁর চোখে খুলে দিয়েছে জীবনের নানামুখী রূপ। প্রতিটি দেখা মানুষ, প্রতিটি হারানো মুহূর্ত তাঁর ভেতরে তৈরি করেছে গল্পের বীজ, যা একদিন ফুটে উঠেছে উপন্যাসে, কবিতায়, গল্পে। তিনি বিশ্বাস করেন সবচেয়ে গভীর কথাগুলো মানুষ মুখে বলে না, সেগুলো থাকে চোখে, অভিব্যক্তিতে, নীরবতায়। আর লেখকই পারেন সেই না-বলা অনুভবগুলোকেই ভাষায় রূপ দিতে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন 'কণ্ঠশীলন' নামক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে। আবৃত্তি, মঞ্চনাটক এবং সংগঠনচর্চার ভেতর দিয়েই তাঁর কণ্ঠ ও কলমে গড়ে উঠেছে এক নিজস্ব স্বর- সত্য, সরল এবং স্পর্শকাতর। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে দিয়েছে শব্দের প্রতি ভালোবাসা, চরিত্র নির্মাণে মনস্তত্ত্বের বোধ এবং শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতা। পেশাগতভাবে তিনি একজন সৃজনশীল পেশাজীবী- গ্রাফিক ডিজাইন, প্রিন্টিং ও প্রকাশনা তাঁর নিত্য সহচর হলেও, হৃদয়ের প্রথম আশ্রয় সাহিত্যে। লিখতে গিয়ে লেখক নিজেকে নতুন করে চিনেছেন: নিজের অতীত, শহর, নিজের নিঃশব্দ লড়াইগুলো। চরিত্রগুলোর অনেকেই আংশিক বাস্তব- তাঁর দেখা, জানা ও অনুভব করা মানুষদের ছায়া উপন্যাসে মিশে আছে নিঃশব্দে। সালাম খোকন এমন একজন লেখক, যিনি পাঠকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েন চোখে চোখ রেখে- ভানহীন, নিঃশর্ত, আত্মিক এক বন্ধনে। এই বই তাঁর কথা বলা, পাঠকের হাত ধরে আরও দূরে হেঁটে যাওয়ার এক অধ্যায়।