কবি মোল্লা সালেহর কবিতার সাথে পরিচয় প্রায় দেড় দশক। এই আবহমান সময়কালে কত কিছুর যুক্ত বা বিয়োগান্ত হয়েছে। কিন্তু তার সাথে সম্পর্কের কোনো রকমের হেরফের হয়নি। কবিতা তো মায়ার ঘর, বিরহ-বিচ্ছেদ, দেশপ্রেম, প্রকৃতি, ছন্নছাড়া রংহীন ক্যানভাস, কখনো রঙিন জালে আঁকা চিত্রকল্প। কবিতা তো আরও কত কিছু, যা হুব্বাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থে চিত্রায়িত হয়েছে। আমি কথাসাহিত্যের মানুষ হলেও, কবিতার নিমগ্ন পাঠক। মনের আনন্দে, মায়ার টানে কবিতাপাঠে অভ্যস্ত। এই কাব্যগ্রন্থ পাঠ করতে ভিন্নতার অন্বেষণ পেয়েছি। প্রতিটি কবিতা ভিন্ন রকম। একটির সাথে আরেকটির কোনো ছায়া নেই, তবে আছে মায়া টান, পাঠাভ্যাসে সচেতনতা। সরল বাক্যের, গভীর অনুসন্ধানের শ্লোকে সাজানো। তার কেউ অপেক্ষায় থাকে না পৃথিবীতে কবিতার শ্লোক যেন বাস্তবতার উপাখ্যান। এই কবিতার কয়েক লাইন, ‘কেউ কারও অপেক্ষায় থাকে না/আমাদের আলক্ষ্যে শুধু সময় প্রহর গোনে/একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য’। কখনো কবিতার ভেতর টেনে এনেছেন বিরহ। একই সাথে বসবাস অথচ দেখা নেই, কথা নেই, আছে কাছে না পাওয়ার দীর্ঘশ্বাস। তার ‘জীবনটা যদি হতো স্টপওয়াচ’, যেন সবার মনের কথা সংক্ষিপ্ততার মাধ্যমে রূপায়িত হয়েছে। মানুষ যেন ক্লান্ত অনেক কিছুর। একটু থেমে যেতে চায়। অনেক কবিতার নাম দেখে, কবিতার ভেতরের কথা অনুমান করা যায়। কিন্তু তার এই কাব্যগ্রন্থের সবগুলো কবিতা পড়ার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোনো ধারণা পাওয়া যাবে না। একজন কবির এটা বড় শক্তি। আমার কাছে সবগুলো কবিতা পাঠ করতে অন্য রকম আনন্দ অনুভব হয়েছে। পাঠকদের কাছে টানবে। কবিতার বইটি পাঠক মহলে সাড়া জাগিয়ে ছড়িয়ে যাক সবখানে। কবির জন্য শুভ কামনা।