বাংলার মুসলিম সমাজ শিক্ষাদীক্ষায় পিছিয়ে ছিল। তাই স্বসম্প্রদায়ের মধ্যে শিক্ষাবিস্তার তাঁর প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য ছিল। দেশের বিদ্যালয়গুলোতে মুসলমান শিক্ষকের অভাব এবং পাঠ্যসূচিতে ইসলামী বিষয় অন্তর্ভুক্ত না থাকায় মুসলমান ছাত্ররা পড়াশোনায় অনীহা প্রকাশ করে Mohammedan Education in Bengal (১৯০০) গ্রন্থে আবদুল করিম এরূপ চিত্র তুলে ধরে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি এ বিষয়ে অনেকটা সফলতাও অর্জন করেন। পাঠ্যপুস্তকের অভাব দূর করার জন্য তিনি নিজেই গ্রন্থ রচনা শুরু করেন। ভারতবর্ষে মুসলমান রাজত্বের ইতিবৃত্ত (১৮৯৮) তাঁর এরূপ একটি গ্রন্থ, যা স্কুলের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি গ্রন্থখানি জনশিক্ষা ডাইরেক্টর সি.এ মার্টিনের নামে উৎসর্গ করেন। রবীন্দ্রনাথ ভারতী (শ্রাবণ ১৩০৫) পত্রিকায় এর প্রশংসাসূচক সমালোচনা লেখেন। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আবদুল করিম বাঙালি মুসলমানদের নবজাগরণের একজন কর্মী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
মাদ্রাসা শিক্ষার সংস্কার করে নিউ স্কিম পদ্ধতি প্রবর্তন আবদুল করিমের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কীর্তি। ধর্মীয় বিষয়ের সঙ্গে আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞান শিক্ষাদান ছিল এ পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্য। এতে মাদ্রাসায় শিক্ষিত ছাত্রদের চাকরি ও বৈষয়িক জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয়। Prophet of Islam and His Teachings এবং Islam: Universal Religion of Peace and Progress নামে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মহত্ত্ব ও ইসলামের গৌরবসূচক দুটি গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। এ ছাড়া তাঁর আরও কয়েকখানা গ্রন্থ হলো: ভারতবর্ষের ইতিহাস, মক্তব ও মাদ্রাসার বর্তমান শিক্ষাপ্রণালী ও তার সংস্কার, Hints on English Pronunciation, Hints on Class Management and Method of Teaching, History of Hindu-Muslim Pact ইত্যাদি। তিনি বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি ও আরবিতে সমান দক্ষ ছিলেন।
Title
এ সিম্পল গাইড টু ইসলাম'স কন্ট্রিবিউশন টু সাইন্স অ্যান্ড সিভিলাইজেশন