ভ্রমণ কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত নয়। ভ্রমণ মানে মানুষকে চেনা, ইতিহাসকে স্পর্শ করা আর নিজের ভেতরের এক অচিন জগতের সন্ধান পাওয়া। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আশরাফুল ইসলামের ভদ্রাবতীর পাড়ে গ্রন্থটি আমার কাছে কেবল একটি ভ্রমণকাহিনি নয়, বরং বাংলার জনপদ, ঐতিহ্য আর শেকড়ের গল্পে বোনা এক নিবিড় শীতলপাটি।
তার লেখনীর সঙ্গে আমার পরিচয় দীর্ঘদিনের। ভ্রমণের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম অনুরাগ, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়ের প্রতি গভীর পর্যবেক্ষণ এবং প্রকৃতিকে অনুভব করার ক্ষমতা আমাকে বারবার মুগ্ধ করেছে। এই বইটির পাণ্ডুলিপি পড়ার সময় আমি তাঁর লেখার সঙ্গে ভ্রমণ করেছি। তিনি কেবল স্থানের বর্ণনা দেননি, বরং প্রতিটি জনপদের প্রাণ, ইতিহাস আর মানুষের স্পন্দনকে শব্দে বন্দি করার চেষ্টা করেছেন।
বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের যে স্থানগুলো এই বইয়ে উঠে এসেছে, সেগুলো নিছক তথ্য নয় বরং একেকটি জীবন্ত অভিজ্ঞতা। প্রাচীন স্থাপত্যের নিস্তব্ধতা, নদীর কলতান, সাধারণ মানুষের সহজ-সরল জীবনধারা, চা-বাগানের দিগন্তজোড়া সবুজ কিংবা পাহাড়ি ঝরনার অবিরাম ধারা। সবকিছুই লেখকের গোছানো বর্ণনায় পাঠকের চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে ওঠে। একজন প্রকৃত ভ্রমণকারীর জন্য এই নিবিড় অনুভবই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, আর একজন লেখকের জন্য এটাই চরম সার্থকতা।
একজন লেখকের লালিত স্বপ্ন যখন মলাটবন্দি হয়ে পাঠকের হাতে পৌঁছায়, সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি দেখা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আশরাফুলের এই বইটি পাঠকদের হৃদয়ে ভ্রমণের নতুন তৃষ্ণা জাগাবে এবং চিরচেনা বাংলাকে নতুন এক আয়নায় দেখতে শেখাবে।
পাঠকের হাতে যখন এই বইটি পৌঁছাবে, তারা কেবল একটি ভ্রমণকাহিনি পড়বেন না বরং তাঁরা লেখকের হাত ধরে হাঁটবেন নদীর কূলে, প্রবেশ করবেন প্রাচীন জনপদের অলিতে-গলিতে আর নিবিড়ভাবে অনুভব করবেন বাংলার মাটির সোঁদা গন্ধ।
আশরাফুল ইসলামের সৃজনশীল লেখকজীবনের এই নতুন অধ্যায় আরও সমৃদ্ধ হোক, এই শুভকামনা নিরন্তর। আগামীর দিনগুলোতে তিনি আরও গভীর ও বিস্তৃত পরিসরে তাঁর কলম আর পদচিহ্ন রেখে যাবেন, এই আমার বিশ্বাস।