বিশুদ্ধ আনন্দের সঙ্গী বই রূপ তরণী ভিন্ন ভিন্ন গন্তব্যে যাত্রা করে জ্ঞানের দিগন্ত উন্মোচন করে। এ তরণীতে উঠলে মুক্ত বাতাসে অজস্র নান্দনিক অনুভূতি ধারা জীবনের সঙ্কীর্ণতার জট খুলে দেয়। আনন্দ বেদনার দুই সহচর মানুষের জীবনে বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনায় শ্বাশ্বতসঙ্গী। এই জীবন প্রবাহ নিয়েই গল্পের কলেবর চিত্রায়িত হয়। তাইতো আবাল বৃদ্ধ বনিতা সকলেই সাহিত্যের আকর্ষণীয় শিল্প প্রকরণ গল্প বলতে বা শুনতে পছন্দ করে।
ফেলে আসা শৈশব কৈশোর রোমন্থন করে প্রায় সকলেই ঠাকুরমা বা বয়স্কজনের নিকট থেকে রাজা বাদশা রাজপুত্র ও রাজকন্যার গল্প শুনে শিহরিত হবার স্মৃতি চিরভাস্বর। রাজপুত্রের ঘোড়ার টগ্বগ্ শব্দ করে শিকারে যাওয়া, প্রাণসঞ্চারক জিয়নকাঠি দিয়ে রাজকন্যার ঘুম ভাঙানোর কল্পিত দৃশ্যপট এখনও অমলিন। যৌবন উঁকি দেবার পূর্বেই ঠাকুরমারঝুলি, হাস্যরসাত্মক গোপাল ভারের গল্প ইত্যাদি পড়ে গল্পের তৃষ্ণা মিটানোর চেষ্টা হয়েছে। বার্ধ্যক্যের মন্থর বেলায় নিজেই গল্পের আকাশ হয়ে ছোটদের খুশি করতে গল্প বলতে ইচ্ছে হয়।
সব বয়সের লোকদের মধ্যে গল্পের কথা শুনলে হৃদয়ে বেজে ওঠে সেতারের নান্দনিক সুর। হৃদয়ের কুঠুরিতে জমা হওয়া হাজারো ছোটো, বড়ো, অনুগল্প আনন্দ বেদনার উষ্ণ প্রস্রবন ছড়ায়। সময়ের বাঁকে বাঁকে পাঠক পাঠিকাদের রুচি ও চাহিদার পরিবর্তন ঘটতে থাকে। একটা সময় ছিল যেকোনো পাঠক এক রাতেই বড়ো বড়ো নাটক নভেল গোগ্রাসে গিলে ফেলত।
সময় পালটানোর পথ পরিক্রমায় তিন চার পাতার ছোটো গল্প পড়ার ফুরসৎ নাই কারো হাতে। বই ছেড়ে, মুঠোফোনে স্বেচ্ছায় বন্দীত্ব জীবন বেছে নেয়। দ্রুত চলমান জীবনে দরকার ছোটো আরো ছোটো কিছু যেন মুহূর্তে লাভ করা যায় বিনোদন আর অস্থায়ী আত্মতৃপ্তি। এজন্যই সামাজিক মাধ্যমে আকর্ষণীয় হচ্ছে টিকটক জাতীয় কম শব্দের ও স্বল্প সময়ের চিত্তহরণ প্রশান্তি। সাহিত্য চর্চায়ও বড়ো গল্প থেকে ছোটো গল্প, ছোটো গল্প থেকে অনুগল্প ইত্যাদি শিল্প ধারা দ্রুতই জায়গা দখল করে নিয়েছে।