সভ্যতার ক্যালেন্ডারে তখন ১০০০ সাল। মহাপ্রলয়ের ছাই থেকে গড়ে ওঠা এক নতুন নিখুঁত বর্ডারলেস পৃথিবী—যেখানে ক্ষুধা নেই, যুদ্ধ নেই, দুর্নীতি নেই, কুসংস্কার নেই, ধর্মীয় বৈষম্য নেই, এমনকি নেই কোনো সামাজিক ক্লাসিফিকেশন। কিন্তু এই যান্ত্রিক সুখের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়ানক অতীত। ২০২৫ সালের সেই অন্ধকার যুগে আসলে কী ঘটেছিল? কেন মানুষ নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস ডেকে এনেছিল?
সেই সত্য সন্ধানেই ‘ক্রোনো-ডাইভ’ প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ থেকে অতীতে ফিরে আসে শাকিল। তার আশ্রয় হয় ২০২৪ সালের হার্ভার্ড ফেরত তরুণ পদার্থবিজ্ঞানী ফারিসের শরীরে। কিন্তু ফিরে এসে সে মুখোমুখি হয় এক পচনশীল সমাজের—যেখানে রাজনীতি মানেই দুর্বৃত্তায়ন, ধর্ম মানেই ব্যবসা, আর ন্যায়বিচার হলো ক্ষমতার ক্রীড়নক।
একদিকে ফারিসের বিজ্ঞানমনস্ক যুক্তিবাদী মন, অন্যদিকে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে থাকা কুসংস্কার, ভণ্ড পীর আর দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদদের অশুভ সিন্ডিকেট। ফারিস কি পারবে এই ঘুণে ধরা সমাজকে আয়না দেখাতে? নাকি ইতিহাসের নির্মম আবর্তে নিজেই হারিয়ে যাবে? আর সেই রহস্যময় আগন্তুকই বা কে, যে জানে সময়ের গোপন খেলা?
সায়েন্স ফিকশন, থ্রিলার এবং সমাজবাস্তবতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ—‘নরক থেকে ফিরছি’। এটি কেবল একটি সময়ভ্রমণের গল্প নয়, বরং সমসাময়িক অন্ধকারের বুকে সুস্থভাবে বাঁচতে চাওয়া এক পৃথিবীর আত্মচিৎকার।
কেন পড়বেন এই বই?
‘নরক থেকে ফিরছি’ কেবল একটি কল্পবিজ্ঞান নয়; এটি আমাদের বর্তমান সময়ের এক আয়না। এই উপন্যাসে লেখক সাহসিকতার সাথে উন্মোচন করেছেন সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যাওয়া দুর্নীতি, কুসংস্কার আর ভণ্ডামির মুখোশ। টানটান উত্তেজনা, ধারালো যুক্তি এবং আবেগের সংমিশ্রণে লেখা এই বই আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে।
শাকিল আহমেদ (জ. ২৭ মে, ১৯৯৮) একজন বাংলাদেশি তরুণ লেখক, যাঁর সাহিত্যযাত্রার সূচনা কলেজ জীবন থেকে। লেখালেখির পাশাপাশি ভ্রমণ, অজানাকে জানা, ফটোগ্রাফি এবং দেশ-বিদেশের নানা স্বাদের খাবার উপভোগ করার প্রতি রয়েছে তাঁর গভীর অনুরাগ। যান্ত্রিক শহরের কোলাহল, কংক্রিটের ব্যস্ততা আর মানুষের ভিড় থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে তিনি ভালোবাসেন প্রকৃতির সান্নিধ্য—যেখানে পাহাড় ছুঁয়ে দেয় সাগরের নীল জলরেখাকে, যেখানে প্রকৃতি কথা বলে নিঃশব্দে, আর বাতাসে ভেসে বেড়ায় এক অনামা প্রশান্তি। পরিবারের, বন্ধুবান্ধবের স্নেহ-মায়া ভালো লাগলেও, মাঝে মাঝে সব কিছু ছেড়ে নিজের ভেতরের মানুষটার সঙ্গে নিরিবিলি সময় কাটাতে তিনি পছন্দ করেন। সেই নির্জনতাই তাঁকে লেখালেখির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।