প্রথমা
নিশ্চল পাহাড় দেখে ঝর্না বলে—
আমি তোমার দুঃখকাব্য আজীবন
তোমার কান্নায় আমার ছুটে চলা;
দুখে হাসি, শোকে হাসি, বেদনাতেও হাসি
বুকে কান্নার জল রেখে উল্লাস করি নিত্য।
নিশ্চল পাহাড় দেখে নদী বলে—
তুমি বড় একঘেয়ে, একা দাঁড়িয়ে থাকো ঠায়,
দেশ-বিদেশ, উঁচু-নিচু, প্রান্ত থেকে তেপান্তর
কত রঙ, কত রূপে ছুটে চলা আমার।
পাহাড় মৌন হেসে বলে— অপেক্ষা বড় দীর্ঘ,
আমার মাঝে এতসব তবু আমি একা;
মাথা ছুঁয়ে মেঘের চুম্বন তবু একা
বুকে সবুজের আলিঙ্গন তবু একা
চোখের কোলে ঝর্নার কান্না তবু একা;
নদী আমি বড় একা, তুমি যে আমার প্রথমা।
বাড়াবাড়ি রকমের বাড়াবাড়ি
কেউ কেউ বাড়াবাড়িটা একটু বেশিই করে
সেই ‘কেউ’ ‘কেউ’ এর দলে আমি পুরোধা,
সাগরের পাড়ে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলি—
ক্ষুদ্র নই আমার ভেতরেও জোয়ার ভাটা,
পাহাড়ের নিচে দাঁড়িয়ে চিৎকার করি অনুরূপ
ক্ষুদ্র নয় সাত আসমান সমান স্বপ্ন আমার।
তারপর নিজের সাথে নিজেই সংগ্রাম করি—
সবুজ প্রান্তর, ভোরের কুয়াশা, শীতের সূর্য
ভালোবাসি বাড়াবাড়ি রকমের ভালোবাসি।
গ্রীষ্মের দখিনা হাওয়া বৃষ্টির উদাসী এস্রাজ
ভালোবাসি বাড়াবাড়ি রকমের ভালোবাসি।
ভালোবাসি খুব বাড়াবাড়ি রকম ভালোবাসি,
নিজেকে ভালোবেসে সুখ খুঁজি অহর্নিশ
কায়াতে খুঁজি মায়াতে খুঁজি মরীচিকাতে খুঁজি
সুখ খুঁজতে গিয়ে বিফলতার তরীতে ভাসি
আলো খুঁজতে আঁধারে ডুবি তবু ভালোবাসি।
সুখের সন্ধানে দুঃখের আলিঙ্গন ভালোবাসি
ভালোবাসি বাড়াবাড়ি রকম কষ্ট পেতে বারবার।
ঠাঁই নেই
তুমি বললে, এসো একদম চুপচাপ থাকি,
আমি বললাম, তবে তাই হোক
বসে আছি দিন, ঘণ্টা, মাস
চুপচাপ, নিঃশব্দ।
নিঃশব্দতা নিজেই একটা ভাষা
সে ভাষায় কথা হয় আমাদের
সকাল-সন্ধ্যা নিত্য।
তুমি বললে, বুকটা ভীষণ ভারি
আমি ভাবলাম, বুকের সব দেরাজ
গেছে বারোয়ারি কষ্টে ভরে।