মেরাকি (Meraki) এক অদ্ভুত গ্রিক শব্দ। এর অর্থ হল নিজের কাজ, সৃজনশীলতা আর ভালোবাসার মধ্যে নিজের আত্মার একটি টুকরো রেখে যাওয়া। মুহাম্মদ শামীমুজ্জামানের এই গল্পসংকলনটি ঠিক তেমনই; লেখকের হৃদয়ের রক্ত আর অব্যক্ত আবেগে ভেজানো চারটি স্বতন্ত্র ভুবনের এক অনুপম সমন্বয়।
এখানে গার্সিয়া মার্কেজের জাদুবাস্তবতা মিশেছে বাংলাদেশের সোঁদা মাটিতে, আর হারুকি মুরাকামির পরাবাস্তববাদ ডানা মেলেছে টাঙ্গাইলের শালবনে।
গল্পের চারটি ভিন্ন স্বাদ
অধ্যাপক সাহিবুল (ব্যঙ্গ): ঢাকার প্রেস ক্লাবের উল্টোদিকের কফিশপে বসে আমলাতন্ত্রের গোলকধাঁধা আর ‘কমিটি-কালচার’-এর ব্যবচ্ছেদ। ট্রাম্প আর ইলন মাস্ক যখন ঢাকায় আসেন, তখন অধ্যাপক সাহিবুল হাসির মোড়কে শুনিয়ে দেন এক কঠিন ধ্রুব সত্য। তাঁর ‘জনাপ্যা যন্ত্র’ আর ‘আলু-কয়েন’-এর ভিড়ে আপনি কি পারবেন নিজের অস্তিত্বের আয়নাটা খুঁজে পেতে?
হোটেল অফ হ্যাপিনেস (মায়াবাস্তবতা): টাঙ্গাইলের বনে ‘জামানিয়াম’ নামক এক অদ্ভুত আঠা আর একটি বেঁকে যাওয়া পেরেক দিয়ে গড়া স্বপ্নের ইমারত। খুশবু জামান নামক এক ‘পাগল’ উদ্যোক্তা আর খই-খোর বৃষ্টির সরল হাসিতে যেখানে যুক্তির দেয়াল ভেঙে তৈরি হয় এক মায়াবী ‘বাসা’।
নিঃশব্দে জোছনার দিন (রোমান্স): মাধবকুণ্ডের পাহাড়ে নীরবতার ভাষায় লেখা এক দ্রোহী প্রেম। অরণ্যের নিঃশব্দ ছায়ায় রূপালির জেগে ওঠার গল্প, যেখানে ক্ষমতা আর প্রতিপত্তির বিরুদ্ধে অপরাধী হওয়াও কখনও কখনও মাথা উঁচু করে বাঁচার সার্থকতা হয়ে ওঠে।
প্রমিথিউসের কারাগার (কল্পবিজ্ঞান): আমরা কি তবে এক মহাজাগতিক জেলখানার কয়েদি? ডক্টর মোর্শেদ আর ডক্টর নোভার এক রোমাঞ্চকর অভিযান, যেখানে এক টুকরো প্রাচীন ফলক আর মানুষের ‘জাঙ্ক ডিএনএ’-র ভেতর লুকিয়ে আছে সাতশ কোটি প্রমিথিউসের মুক্তির সংকেত।
মেরাকির প্রতিটি পৃষ্ঠা আপনাকে ছুঁয়ে যাবে নিঃশব্দে। এই গল্পের সংকলনটি আমাদের সময়ের এক জীবন্ত দলিল। এতে আপনি খুঁজে পাবেন সেই সব প্রশ্ন যা রাতের ঘুম কেড়ে নেয়, আর সেই সব স্বপ্ন যা অসম্ভব জেনেও দেখার সাহস জোগায়।
এই বইয়ের পাতা উল্টানো মানেই লেখকের আত্মার এক টুকরো স্পর্শ করা। এই আজব, অদ্ভুত আর আন্তরিক ভুবনে ডুব দিতে আপনি কি তৈরি? পাতা উল্টান। শুরু হোক এক নতুন মেরাকি।