ভাওয়াল গড়ের গহীন অরণ্যে তরুণ মুক্তিযোদ্ধা তাহেরের যে টালমাতাল প্রেমের শুরু, তার পরিণতি কি শুধুই বিচ্ছেদ? নাকি পীরজাদি মরিয়ম আর এক অজানা গেরিলার ঐ গল্পটা জন্ম দেবে কুরুক্ষেত্রের ভেতর এক অলৌকিক আখ্যানের?
জীবনমহুয়া কেবল গতানুগতিক গল্প-সংকলন নয়; নিবিড় সাহিত্যিকতায় লেখক তাঁর স্বতন্ত্র পথপরিক্রমাটি আবিষ্কার করতে চেয়েছেন, সচেতন নিরীক্ষা বইটির সমস্ত অঙ্গজুড়ে লতিয়ে উঠেছে। এখানে, পাতায় পাতায় মহাকাল ভ্রমণ করে বেড়াচ্ছে বোরাক ঘোড়ার পিঠে চড়ে।পৌরাণিক শিসে মানুষের অন্তরঙ্গ আত্মবৃত্তের কোমল করুণ কাঁপুনিকে লেখক স্পর্শ করতে চান নাজুক মমতায়।
পাঠক কখনো হারিয়ে যাবেন তানসেনের সুরের জাদুতে, পরমুহূর্তেই সমস্ত ঘুম মগ্নতা ছিন্ন করে মোগল রাজদরবার থেকে ছিটকে পড়বেন ২০২৪-এর শ্রাবণ-বিপ্লবের রক্তস্নাত ঢাকার কঠিন রাজপথে। যেখানে অচেনা এক বিপ্লবস্পৃষ্ট টিনেজারকে বাঁচাতে নিজের চোখ বিসর্জন দিচ্ছিলেন গার্মেন্টসকর্মী আসিয়া খাতুন, আর শহরের নতুন ধান্দাবাজেরা গড়ে তুলেছিলো ক্ষমতার কালো ইমারত।
এখানে প্রেম কখনো আদুরে বেড়ালের আঁতকা আঁচড়ের মত হিংস্র — চিটচিটে লাল জবার মতো, আবার কখনো মধ্যরাতের ঢাকায় ছিমছাম মদের বারে বসে থাকা কওমি মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্রের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনে আবছায়া নীল।
ঋজু, চিত্ররূপময় গদ্যে জাদুবাস্তবতা এবং সমসাময়িক-ঐতিহাসিকতার নিপুণ এ বুনন বাংলা সাহিত্যে নতুন প্রজন্ম, নয়া দৃষ্টিকোণ ও বিচিত্র বহুমাত্রিক স্বরের আভাস নির্দেশ করে।
যারা ছোটগল্পে শব্দ বাক্য ধরে ধরে নিজের জীবনস্মৃতির বৃষ্টিছাট খোঁজেন, যাপনের মাদকতাময় দীর্ঘ ইয়াদগারি যাদের প্রায়ই মাতাল উদ্বাহু করে তোলে, জীবনমহুয়া তাদের জন্য অবসরে খুলে বসা এক আয়না।
আমার নাম কাজী সালমান সাদ, গদ্য লিখি। থাকি ঢাকাতেই। পশ্চিম মালিবাগ, ঢাকার এক পৌষসন্ধ্যায় — পুরাতন রিমঝিম ভিলায় আমার জন্ম। ১১ জানুয়ারি, ২০০০। ২০১৭ থেকে টুকটাক লেখাপত্র প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, লিটলম্যাগ ও ওয়েবম্যাগে৷ খণ্ডিত কিছু অন্ধকার আমার প্রথম প্রকাশিত বই। পেশা আপাতত লেখালেখি করতে চাওয়াটাই। মাথার ভেতর মাঝেমধ্যে ঘোর বর্ষাকাল নেমে আসে। অভিরাম সেই বৃষ্টি আর বৃষ্টির সকল ঘ্রাণ ও গানকে যেনো অলৌকিক বর্ণমালায় স্পর্শ করতে পারি একদিন।