সময় অনেক দূর গড়িয়ে গেছে। তবু চোখ বন্ধ করলে আজও মনের পর্দায় ভেসে ওঠে সেই পল্লীগাঁ, গাঁয়ের মেঠো পথ, একটা দুরন্ত শৈশব। গাঁও-গেরামের গপ্প সেই ফেলে আসা দিনগুলোর কথাই বলে-যে দিনগুলো ছিল সহজ, নির্ভেজাল আর অতি আপন।
স্কুলজীবনের স্মৃতিগুলো এখনো কত জীবন্ত: ভোরের আলো ফোটার আগেই মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙা, তাড়াহুড়ো করে ভাত খাওয়া, বুকে-কাঁধে বই নিয়ে গ্রামের স্কুলের পথে রওনা। বর্ষায় কাদা, শীতে কুয়াশা আর গ্রীষ্মে ধুলো-সব পেরিয়ে স্কুলে পৌঁছানোই ছিল এক বিশাল অভিযান। ক্লাসে মন বসত কম। জানালার বাইরে খেলার মাঠ আর পাখির ডাকে মন ছুটে যেত বেশি। শিক্ষকের বকুনি, বন্ধুর সঙ্গে বেঞ্চ ভাগাভাগি, পরীক্ষার আগে অজানা ভয়-সে সব আজ স্মৃতি।
স্কুল ছুটির পর শুরু হতো দিনের সবচেয়ে কাক্সিক্ষত সময়-খেলাধুলা। বিকেলের রোদে মাঠ ভরে যেত হাসি আর চিৎকারে। দাঁড়িয়াবাধা, ডাংগুলি, গোল্লাছুট, হাডুডু, কানামাছি-খেলতে খেলতে কখন যে সন্ধ্যা নামত, টেরই পাওয়া যেত না। হেরে গেলে অভিমান, জিতে গেলে বুকভরা গর্ব- সে সব ছোটো ছোটো অনুভূতিগুলোই শৈশবকে এত রঙিন করে তুলেছিল।
আর ছিল খাবার-দাবারের স্মৃতি-যা আজও মনকে নাড়া দেয়। মায়ের হাতের গরম ভাত, আলুভর্তা বা শাকভাজির অসাধারণ স্বাদ, বিকেলে মুড়ি-চানাচুর, শীতের সকালে খেজুরের রস, আর উৎসব এলেই পিঠার গন্ধে ভরে যেত উঠোন। সেই স্বাদ শুধু জিভে নয়, মনে গেঁথে আছে গভীরভাবে।
গাঁও-গেরামের গপ্প এ সব স্মৃতিরই নিরিবিলি গল্প। এখানে কোনো কৃত্রিমতা নেই, আছে জীবনের সাদামাটা সত্য। গ্রন্থটিতে কৈশোরের দিনগুলো ফিরে এসেছে নীরব আবেগে, ধীরে ধীরে-যেমন করে স্মৃতি ফিরে আসে। আকাশ সংস্কৃতি, বিশ্বায়ন আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এ যুগে হয়তো ওসব আর কখনো ফিরে আসবে না। সপ্তর্ষি প্রকাশনির প্রকাশনায় এ বই পাঠককে শুধু পড়ার আনন্দ দেবে না, বরং নিজের শেকড়ের কাছে, নিজের ফেলে আসা দিনের কাছে একবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দেবে। দ্বিতীয় বার প্রকাশের সুযোগে তাই সপ্তর্ষি, এর স্বত্বাধিকারী প্রিয় শিবু ওঝা এবং তার টিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা।