মানুষের জীবনের প্রতিটি অধ্যায় যেন এক একটি অনুচ্চারিত গল্প, এক একটি অলিখিত জবানবন্দি। মুখে না বলা, কলমে না লেখা, অথচ হৃদয়ের ভেতর জমে থাকা শত শত অভিজ্ঞতা, যন্ত্রণা, প্রেম, প্রতিবাদ আর প্রতিশ্রুতির নিঃশব্দ সাক্ষ্য বহন করে চলে আমাদের প্রতিদিনের জীবন। সেই সব নীরব চিৎকার, চাপা কান্না, অপ্রকাশিত প্রেম, অথবা ক্ষণিকের সাহসিকতাÑ সবকিছুকেই একসূত্রে গেঁথে এই গ্রন্থের প্রতিটি পাতাজুড়ে আঁকা হয়েছে একটি ভিন্নতর বাস্তবতা।
‘অলিখিত জবানবন্দি’ শুধু একটি গল্পের নাম নয়, এটি প্রতিটি মানুষের অন্তরালের সাক্ষ্য। এখানে স্থান পেয়েছে সেই সব চরিত্র, যাদের কেউ চেনে না, কেউ মনে রাখে নাÑ তবু তারা সমাজ, সময় আর সংকটের দর্পণে এক একটি প্রতিবিম্ব। রাস্তার মানুষ হোক বা বীরাঙ্গনা, আয়নার ভেতরে কেউ আছে হোক বা ঘড়ির কাঁটা উল্টো ঘোরে, প্রতিটি গল্পই পাঠককে টেনে নিয়ে যায় এক অন্যতর জগতের মুখোমুখি, যেখানে বাস্তবতা ও কল্পনার সীমারেখা ধুয়ে যায় মানবিকতা আর অনুভূতির প্লাবনে।
এই সংকলনের গল্পগুলো কখনো উদ্বেল করে, কখনো শিহরিত করে, আবার কখনো চুপচাপ প্রশ্ন তোলেÑ এই সমাজ, এই সময়, এমনকি আমাদের নিজেদের অস্তিত্ব নিয়েও। নমিতার প্রথম প্রেম যেন এক কোমল তরঙ্গ, জিরো আওয়ার যেন এক নিঃশব্দ বিস্ফোরণ। অপ্রকাশিত ভালোবাসা কিংবা রত্নার শেষ আর্তনাদÑ সবকিছু মিলিয়ে এ এক অনুভূতির সীমানা ছুঁয়ে যাওয়া যাত্রা।
লেখক হিসেবে আমার একমাত্র চেষ্টা ছিল, মানুষের জীবনের অন্তর্জগতকে ছুঁয়ে দেখা। হয়তো অনেক কথাই বলা হয়নি, হয়তো অনেক অনুভূতিই থেকে গেছে অলিখিত। তবু এই গল্পগুলো আপনাদের অন্তরে পৌঁছাতে পারলেই আমার এই প্রচেষ্টা সার্থক হবে বলে বিশ্বাস করি।
পাঠকের হৃদয়ে প্রতিটি গল্প যেন হয়ে ওঠে এক একটি নিঃশব্দ স্বীকারোক্তিÑ একটি ‘অলিখিত জবানবন্দি’।