পুরো ঢাকা শহর তখন নিদ্রার মায়ায় আবদ্ধÑমৃতবৎ নিস্তব্ধ, স্তব্ধ শহর। সেই গভীর নীরবতা ভেদ করে এগিয়ে চলেছে একজন অচেনা মানুষ। কালো কোটে ঢাকা শরীর, মাথায় কালো টুপিÑতার অবয়ব অন্ধকারের সঙ্গেই যেন মিশে গেছে।
চলার ভঙ্গি সতর্ক, নিঃশব্দÑযেন ঘন জঙ্গলের ভেতর পথ মাপতে মাপতে এগিয়ে চলেছে কেউ। রাস্তার ফাঁকফোকর গুনে-গুনে সে এগিয়ে যাচ্ছে সেইন্ট জুডস্ কলেজের পেছনের হোস্টেলের দিকে। হঠাৎ দূরে এক কুকুরের গর্জনভরা চিৎকার শোনা গেল। শব্দটা শুনে পথিক এক মুহূর্ত থেমে খানিকটা ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। চোখে তখন এক অদ্ভুত সতর্কতা, ভেতরে যেন গোপন আশঙ্কার স্রোত বইছে।
হোস্টেলে যে রুম থেকে আলোর ছটা আসছিল সে রুমে ঘুমোয়নি তখনও অনীক। কালো কোট টুপি পরা কেউ একজন সেই রুমের জানলার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, হাতে গ্লাভস পরা আর ডান হাতে একটা রিভলবার ধরা। হঠাৎ অনীকের চোখ চলে গেল জানলার দিকে। উত্তেজনায় মুখের চামড়া যেন ফেটে পড়ছিল তার, “কে, কে? কে ওখানে? দেখো তোমাকে আগেও বলেছি এখনও বলছি, ভয় দেখিয়ে আমাকে তোমাদের দলে টেনে নিতে পারবে না। আমি আমার ইউনিয়নকে শ্রদ্ধা করি। সেখানে তোমাদের ঐ জঘন্য কাজকর্ম করা দলে আমি কোনোদিন যাব না। তুমি কি ভাবছ আমাকে খুন করলে পুলিশ তোমাকে ছেড়ে কথা বলবে? পুলিশের হাতে ধরা তোমাকে পড়তেই হবে। সাহস থাকে তো সামনে এসো।”
এবার কালো কোট টুপি পরা সেই আগন্তুক ঘরে ঢুকল, মুখে বাঁধা কালো কাপড়টা বাঁ হাতে খুলে ফেলল। ডান হাতের রিভলবারটা অনীকের দিকে তাক করা।
“একি! তুমি! সুমি ...আঃ আঃ আঃ আঃ।” কথাটা শেষ হলো না অনীকের। একটা গুলি এসে লাগল বুকে। আগন্তুক দরজা দিয়ে দ্রুত সরে পড়ল।