সায়েন্স নিয়ে দেশে মাস্টার্স পর্যন্ত লেখাপড়া করে প্রবাসে এসে মাথায় ভূত চাপল। সমাজ বিজ্ঞানের প্রেমে পড়ে গেলাম। যতই পড়ছি ততই আগ্রহের ব্যাসার্ধ বেড়েই চলেছে। পরবর্তীতে প্রবাসের মাটিতে মেন্টাল হেলথ ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করতে যেয়ে চারপাশের ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করছি আর ভাবছি এঁদের সবারই জীবন আস্ত একেকটা উপন্যাস। হাপুসহুপুস করে আমার প্রথম উপন্যাস “হোমলেস” লিখে ফেললাম। এর পরে আরও দুটি উপন্যাস লিখে “হাউজ হাজব্যান্ড” উপন্যাস লেখায় কেলেঙ্কারি ব্যাপার ঘটে গেল। পরিচিত পরিমণ্ডলে সবাই আমাকে সেই নামেই ডাকতে শুরু করলেন। আমি বেশ ঘাবড়ে গেলাম। কেউ কেউ আড়ালে আবডালে বলাবলি করলেন, আমি না-কি প্রকান্তরে আমারই জীবনী লিখে ফেলেছি। যদিও আমার সেই উপন্যাসটি সিরিয়াস টাইপের উপন্যাস ছিল। যাক, কী আর করা। এবার আমি মায়েদের নিয়ে আরেকটি সিরিয়াস টাইপের উপন্যাস লেখার প্রজেক্টে শুরু করলাম। কানাডার জনপ্রিয় বাংলামেইল পত্রিকায় এবং পরবাসী ব্লগে “সিঙ্গেল মাদার” নাম দিয়ে কয়েকটি ধারাবাহিক লিখে দেখলাম অনেক মায়েরা উৎসাহ দিচ্ছেন।
খুব ছোটো বেলায় কী কারণে যেন বুঝে হোক, বা না বুঝে হোক আম্মাকে একবার বলে ফেলেছিলাম, ‘মা হলে কষ্ট করাই লাগে’। আমার সেই শৈশবের কথা বড়ো ভাই- বোনেরা অনেক দিন মনে রেখেছেন। এখনও কথা প্রসঙ্গে আমার সেই ছোট্ট বেলার দার্শনিকের মতো উক্তিটি চলে আসে।
এবার আসি “সিঙ্গেল মাদার” প্রসঙ্গে। হায়াত- মউত সবই আল্লাহর হাতে। তবুও বয়স কিছুটা বেশি হওয়ার কারণে জাগতিক নিয়মে আমরা মায়েদের আগে বাবাদের হারিয়ে ফেলি। বিধবা মায়েদের ভোগ-ভোগান্তির শেষ নাই। আমার উপন্যাসের “সিঙ্গেল মাদার” বলতে এই দিকটার চেয়েও আমি মাঝবয়সি মায়েদের প্রসঙ্গ বেশি টেনে এনেছি। চোখের সামনে হরহামেশাই দেখছি, ছোটো ছোটো বাচ্চাদের রেখে, কিশোর- কিশোরীদের রেখে, হাজব্যান্ড-ওয়াইফদের মাঝে নানান জটিলতার কারণে সাজানো সংসার ভেঙে যাচ্ছে। দেশে আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব থেকে নানান সাপোর্ট পেলেও প্রবাসী জীবনে এসব ক্ষেত্রে পাহাড়সম প্রতিকূল অবস্থায় পড়তে হয়। এসব ভগ্ন সংসারে বাচ্চারা যেমন সাফার করে, এদের বাবা-মাদেরও কষ্টের শেষ নেই, যা সবার মেন্টাল হেলথকে প্রভাবিত করে। এসবকিছুই উঠে এসেছে আমার উপন্যাসে।
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বীরাঙ্গনা মায়েদের গর্ভে থাকা পিতৃ পরিচয়হীন শত শত বাচ্চাদের সিঙ্গেল মাদারদের ব্যাপারটিও আমাকে এই উপন্যাস লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে।