গ্রন্থ পরিচিতি
‘আমরা লড়ছি সামাজিক বিপ্লবের মাধ্যম বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য’- স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে এই মন্ত্রে উদ্দীপিত হয়েছিল তরুণ ও যুব সমাজের এক উল্লেখযোগ্য অংশ। আমার বিশ্বাস, যুদ্ধ ফেরত বা ভারত ফেরত তরুণ যুবাদের কিছু সংখ্যক, ক্ষমতার বলয়ে থেকে লাইসেন্স পারমিট দখল লুটপাটের মাধ্যমে আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকলেও সাধারণ মানুষ চেয়েছিল সুষম বন্টন, একটি সুন্দর সমাজ। স্বাধীনতা সাম্য গণতন্ত্র শান্তি। এই লক্ষ্য অর্জনে নির্লোভ আত্মদানে ব্রতী হয়েছিলো লক্ষ লক্ষ তরুণ যুবক।
সমাজতন্ত্র সাম্যবাদের মন্ত্রে সে সময় আমিও উজ্জীবিত হয়েছিলাম। কিন্তু অনেকদিন পর বুঝতে পারি আমরা বোধহয় রং ট্র্যাকে হাঁটছি। বা আমাদের পথনির্দেশকরা নিজেরাই বিভ্রান্ত। এতটাই আবেগতাড়িত ছিলাম দুপাতা ‘ছোটদের রাজনীতি’ বা ‘ছোটদের অর্থনীতি’ পড়ে ‘ডাস ক্যাপিটাল’ মুখস্ত করতে শুরু করেছিলাম। ‘ডুরিং’ কি জিনিষ না জেনেই ‘এন্টি ডুরিং’ বগলে নিয়ে হাঁটতাম। যাই হোক, আমাদের সে আবেগ এক সময় হোঁচট খায়, স্বপ্নভঙ্গ হয়। আমরা ফিরে আসি বাস্তবতায়। অনেকে সর্বনাশের চোরাবালিতে আত্মাহুতি দেয়।
এ গ্রন্থ তারই কাহিনী।’- সাঈদ তারেক
লেখক পডিরচিতি
সাঈদ তারেক ১৯৫১ সালের ৪ঠা জুলাই গাইবান্ধায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাবি থেকে মনোবিজ্ঞানে অনার্সসহ মাস্টার্স পাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকে খণ্ডকালীন সাংবাদিকতায় যোগ দেন। স্বাধীনতার পর সার্বক্ষণিক সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে বিভিন্ন সময়ে দৈনিক গণকন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার চীফ রিপোর্টার, সাপ্তাহিক এবং দৈনিক কিষাণের বার্তা সম্পাদক, সাপ্তাহিক এবং দৈনিক খবরের বার্তা সম্পাদক ও বিশেষ প্রতিনিধি, সাপ্তাহিক চিত্রবাংলার বার্তা সম্পাদক, দৈনিক শক্তির বার্তা সম্পাদক, সাপ্তাহিক খবরাখবরের প্রধান সম্পাদক, নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন সাপ্তাহিকের নিয়মিত কলাম লেখাসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় কাজ করেন।
’৭১এর ২৫শে মার্চ পাক বাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে সাঈদ তারেক গোপালগঞ্জ গিয়ে মুক্তিবাহিনী গঠনে কাজ করেন। স্বাধীনতার পর সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি জাসদ রাজনীতির প্রতি অনুরক্ত হন এবং পরে জাসদের বিপ্লবী শাখার সাথে সম্পৃক্ত হন। ১৯৮৩ সালে জনদল এবং পরবর্তীকালে জাতীয় পার্টি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৬ এবং ১৯৮৮ সালে তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৯০ সালে সরকার পরিবর্তনের পর এরশাদ মুক্তি আন্দোলনে কাজ করেন। এ সময় তিনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নিযুক্ত হন। ২০০৪ সাল থেকে তিনি দলীয় রাজনীতি ছেড়ে দেন।
প্রকাশিত গ্রন্থাবলী: মধ্যরাতের হত্যাকাণ্ড (রাজনীতি বিষয়ক। মান্নান প্রকাশনী, ১৯৭৮); বীরোত্তম কর্ণেল তাহের, লাল নভেম্বর ও বামপন্থী রাজনীতি (রাজনীতি বিষয়ক। মান্নান প্রকাশনী, ১৯৭৯, ২য় সংষ্করণ - আকাশ প্রকাশনী, ২০২৪); মুজিব ভারতপন্থী ছিলেন না (রাজনীতি বিষয়ক। মান্নান প্রকাশনী, ১৯৮০); রাই আমার (উপন্যাস। অনন্যা, ২০১০); নিশা (উপন্যাস। চয়ন প্রকাশনী, ২০১১); বাংলা কেন ’৪৭য়ে স্বাধীন হলো না (ইতিহাস। সাঁকোবাড়ী প্রকাশন, ২০১১। ২য় সংষ্করণ- বাঙ্গালা গবেষণা, ২০২৪); অপরাজিতা (উপন্যাস। সাঁকোবাড়ী প্রকাশন, ২০১২); আমার দেখা এরশাদ (রাজনীতি বিষয়ক। বাঙ্গালা গবেষণা, ২০২০); নাইট এ্যাডভেঞ্চার (কিশোর এ্যাডভেঞ্চার। বাঙ্গালা গবেষণা, ২০২৫); ফউতি গোরস্থান (কিশোর এ্যাডভেঞ্চার। বাঙ্গালা গবেষণা, ২০২৫)