আল কুরআন যুগের জ্ঞানের আলোকে অনুবাদ ও মৌলিক তাফসীর - শুধু বাংলা
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
শুধু বাংলা অনুবাদ বের করার কারণ
কুরআনের অনুবাদ গ্রন্থের উপস্থাপনা দুই ধরনের হতে পারে-
১. আরবী আয়াতের সাথে বাংলা অনুবাদ।
২. শুধু বাংলা অনুবাদ।
দুই ধরনের অনুবাদে সুবিধা অসুবিধা দুটিই আছে।
আরবী আয়াতের সাথে বাংলা অনুবাদ থাকার সুবিধা হলো, আরবী শব্দগুলোর অর্থ সাথে সাথে দেখে নেওয়া যায়। তাই বার বার পড়ায় আরবী শব্দগুলারে অর্থ ধীরে ধীরে মনে হয়ে যায়। আর অসুবিধা হলো-
১. গ্রন্থের সাইজ বড়ো হয়ে যায়, তাই ব্রিফকেস বা ভ্যানিটি ব্যাগে করে সাথে রাখা কঠিন হয়। এজন্য পড়ার সময় থাকলেও পড়া সম্ভব হয় না।
২. যারা এখনও জানেন না যে ওজু ছাড়া কুরআন ধরা যায়, তাদের কুরআন পড়া ও জানার সময় অনেক কমে যায়।
শুধু বাংলা অনুবাদের এ অসুবিধা দুটির প্রথমটি অনেকাংশে কম এবং দ্বিতীয়টি একেবারে নেই। তাই শুধু বাংলা অনুবাদের মাধ্যমে কুরআন জানার সময় অনেক বেড়ে যায়। তবে এর একটি অসুবিধা হলো শুধু বাংলা অনুবাদ পড়লে নেকী হবে কি না। এ (অমূলক) প্রশ্নের কারণে কেউ কেউ শুধু অনুবাদ পড়তে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে।
কুরআন, হাদীস ও Common sense অনুযায়ী একজন মুমিনের সবচেয়ে বড়ো নেকীর কাজ হলো কুরআনের জ্ঞানার্জন করা এবং সবচেয়ে বড়ো গুনাহর কাজ হলো কুরআনের জ্ঞান থেকে দূরে থাকা।
প্রিয় নবীর স. ইন্তিকালের প্রায় ৩৫০ বছর পর ইরানের সাসানী বাদশা আবু সালেহ মানসুর ইবন নূহ সর্বপ্রথম কুরআনের পূর্ণাঙ্গ ফার্সী অনুবাদ করেন। এর আগে কুরআনের জ্ঞানার্জন করার একমাত্র উপায় ছিল আরবী ভাষা ও গ্রামার জানা, তারপর সরাসরি কুরআন পড়ে জ্ঞানার্জন করা। অনারব মুসলিমদের (যাদের সংখ্যাই পৃথিবীতে বেশি) অধিকাংশের পক্ষে এটি অসম্ভব ছিল। কিন্তু বর্তমানে সে অবস্থা পাল্টে গেছে। বর্তমানে পৃথিবীর এমন কোনো বড়ো ভাষা নেই যাতে কুরআনের অনুবাদ গ্রন্থ নেই। তাই যে কোনো ভাষায় লেখা অনুবাদ গ্রন্থ পড়লেই কুরআনের ভালো জ্ঞানার্জন করা সম্ভব।
তবে মনে রাখতে হবে শুদ্ধ পঠন পদ্ধতিতে কুরআন পড়তে শেখা সকল মুসলিমের জন্য খুবই জরুরী। কারণ সালাতে মুসলিদের সঠিক পদ্ধতিতে কুরআন তিলাওয়াত করতে হয়। অন্যদিকে ইচ্ছাকৃতভাবে না বুঝে (অর্থ ছাড়া) কুরআন পড়াকে কুরআন ও হাদীস কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। তাই বর্তমান বিশ্বের মুসলিমদের সবচেয়ে বড়ো নেকীর কাজটি করা এবং সবচেয়ে বড়ো গুনাহর কাজ থেকে দূরে থাকার সহজতম উপায় হলো- সঠিক পঠন পদ্ধতিতে পড়তে শেখার পর যে কোনো ভাষায় লেখা কুরআনের অনুবাদ বার বার পড়া।
যে কোনো ভাষার অনুবাদ পড়ার সময় মনে রাখতে হবে কুরআনের আরবী আয়াতে কোনো ভুল নেই কিন্তু অনুবাদে ভুল থাকতে পারে। তবে এই ভুল হতে নিজেকে রক্ষা করতে পারা অনেকাংশে সম্ভব হবে যদি কুরআন হতে সঠিক জ্ঞানার্জনের নিম্নোক্ত ৩টি নীতিমালা মনে রাখা হয়-
১. কুরআনে পরস্পর বিরোধী কোনো কথা নেই।
২. একই বিষয়ের সকল আয়াত পাশাপাশি রেখে পর্যালোচনা করে বিষয়টিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।
৩. কুরআনের ব্যাখ্যা হাদীস, তবে কুরআনের সর্বোত্তম ব্যাখ্যা কুরআন।
এ সকল কথা বিবেচনা করে কুরআন রিসার্চ ফাউন্ডেশন ২০১৪ সালের জুলাই মাসে প্রথমে আরবী আয়াত সংবলিত বাংলা অনুবাদ বের করে। তারপর শুধু বাংলা অনুবাদ বের করে।
২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে ফাউন্ডেশন আরবী আয়াত সম্বলিত আল কুরআন যুগের জ্ঞানে আলোকে অনুবাদ ও মৌলিক তাফসীর বের করেছে। এখন আমরা শুধু বাংলা অনুবাদ সম্বলিত আল কুরআন যুগের জ্ঞানের আলোকে অনুবাদ ও মৌলিক তাফসীর বের করছি।
সবশেষে সকলকে মনে রাখতে হবে যে- আরবী আয়াতবিহীন কুরআনের অনুবাদের গুরুত্ব, আরবী আয়াতসহ কুরআনের অনুবাদের গুরুত্বের তুলনায় কম, এ ধরনের ধারণা সত্য হতে বহু দূরে। তাই, কুরআনের শুধু বাংলা অনুবাদকেও যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।
আল্লাহ আমাদের এই প্রয়াসকে কবুল করুন।
আমিন।