প্রতিটি মানব জীবনের কিছু সুখ আর কিছু দুঃখ থাকে। আর এই দুটোই একে অন্যে ভাগাভাগি করেই এক জীবনে বাস করে থাকে। কখনো সুখ প্রবল হলে দুঃখের কারণ হয়, আবার যখন দুঃখ প্রবল হয় তখন তা সুখের জন্যেই প্রতীক্ষা করতে থাকে। আঠালো দ্রব্যাদির মতো জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে নানা বিপদ ও খারাপ চক্ষু হয়ে লেগে থাকে। এই উপন্যাসটির কাহিনি জঙ্গল থিওরির সাথে রোমান্টিক ঘরানার মতো। তাতে রয়েছে কিছু অজানা রহস্য। তারপর তা ক্রমানুসারে বাড়তে থাকে। একটি সংসারে যখন আপন গর্ভধারিণী মা ছাড়া সৎ-মা অধিষ্ঠিত থাকেন তখন সে সংসারে সৎ ছেলে-মেয়েদের যে কী প্রকার লাঞ্চনা-বঞ্চনা পোহাতে হয় তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তাতে। উপন্যাসটিতে বহু বছর আগেকার মায়াবাদীদের মায়াবিদ্যার চর্চা, বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে অজস্র পাখিদের আত্মহত্যা করার প্রচেষ্টা এ সমস্ত ঘটনা আমাকে চিন্তিত করেছিল। আর এ ঘটনাগুলোই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তাছাড়া, অরণ্যের কিছু রোমাঞ্চকর মুহূর্তও বন্দি হয়েছে তাতে। এটি লেখার সময় সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিতো নায়ক-নায়িকার সামনাসামনি অবস্থানটা চিন্তা করলে। তবুও আমি নিজের মতো করে একে সৃষ্টি করে তুলেছি।
‘মহাশ্বেতা’ একটা দীর্ঘ সময় ধরে আমার সাথি হিসেবে ছিল বলে নির্দ্বিধায় বলা যায়। উপন্যাসটি লিখা শুরু করেছিলাম কয়েক বছর পূর্বে যখন আমি স্নাতকে পড়ছিলাম। রচনা করতে সময় লাগে প্রায় তিন-চার বছর লেগে যায়। ২০২১ সালের জুন মাসের একরাতে এটি লেখা শুরু করি আর ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে লেখা সমাপ্ত হয়। সে মাসেই এটি প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কিন্তু তা আর নানা কারণে প্রকাশ করা হয়ে উঠেনি।
আমার লেখাটি সার্থক হবে তখন যখন তা পাঠক মনে জায়গা করে নিতে পারবে। তার সাথে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি হরিৎপত্র প্রকাশনীর প্রকাশক মোহাম্মদ ফারুকী ওমর দাদাকে যিনি আমার এই বইটি প্রকাশ করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।