শাহ সাব্বিরের লেখা 'অভিমানের গোলাপ' মূলত তানহা ও সাব্বির নামক দুই তরুণ-তরুণীর প্রেম, বিচ্ছেদ এবং দীর্ঘস্থায়ী এক অব্যক্ত অনুভূতির গল্প। বইটির মূল সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:
সূচনা ও বন্ধুত্বের শুরু:
গল্পের শুরু হয় স্কুলের প্রথম দিনে তানহার সাথে সাব্বিরের প্রথম দেখার মাধ্যমে। তানহার শান্ত প্রকৃতি ও মায়াবী হাসি সাব্বিরকে মুগ্ধ করে এবং তাদের মধ্যে এক সাধারণ কিন্তু গভীর বন্ধুত্বের সূচনা হয়। তবে শুরু থেকেই তাদের সম্পর্কের মাঝে এক ধরণের না বলা কথা ও অভিমান জমা হতে থাকে ।
সম্পর্কের টানাপড়েন ও ভুল বোঝাবুঝি:
সময়ের সাথে সাথে তাদের মাঝে দূরত্বের সৃষ্টি হয় এবং নানা ধরণের ভুল বোঝাবুঝি দানা বাঁধে । তানহা একসময় অন্য কাউকে ভুল করে বিশ্বাস করে কষ্ট পায়, যা সাব্বিরকে মর্মাহত করলেও তাদের ভালোবাসা ম্লান হয় না । তারা বারবার একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করে, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও দায়বদ্ধতা থেকে সম্পর্কের অদৃশ্য দেয়াল ভাঙার চেষ্টা চালিয়ে যায়
জীবনের পরীক্ষা ও দূরত্ব:
কলেজ জীবন শেষে তাদের পথ আলাদা হয়ে যায় । তানহা পড়াশোনার জন্য ঢাকায় চলে যায় এবং সাব্বির নিজের শহরে থেকে যায় । ব্যস্ততা, কাজের চাপ এবং ভৌগোলিক দূরত্ব তাদের যোগাযোগের মাঝে নিস্তব্ধতা নিয়ে আসে । সাব্বির সাফল্য অর্জন করলেও তানহার অভাব প্রতিনিয়ত অনুভব করে
উপসংহার ও স্মৃতির দহন:
বহু বছর পর সাব্বির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারে তানহা এখন বিবাহিত এবং একটি সন্তানের মা । তাদের এক সাহিত্য উৎসবে এবং পরবর্তীতে একটি মেলায় হঠাৎ দেখা হলেও কোনো কথা হয় না; শুধু নীরব চাহনিতেই বছরের পর বছর জমে থাকা সব আবেগ প্রকাশ পায়
বইটির শেষে দেখা যায়, ভালোবাসা মানে কেবল প্রাপ্তি নয়, বরং দূর থেকেও প্রিয় মানুষের মঙ্গল কামনা করা। সাব্বিরের কাছে এই না পাওয়া ভালোবাসা এক 'অভিমানের গোলাপ'হয়ে স্মৃতিতে অম্লান থাকে, যা কোনোদিন ম্লান হওয়ার নয়
শাহ সাব্বির (জন্ম: ১০ আগস্ট ২০০৯) ভোলা জেলার দৌলতখান থানায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মোঃ ইউসুফ এবং বড় ভাইয়ের নাম সালমান হোসেন।
শাহ সাব্বির একজন স্বপ্নবাজ, উদ্যমী ও ভবিষ্যৎমুখী তরুণ, যার চিন্তাধারা সবসময় সাধারণতার বাইরে। ছোটবেলা থেকেই তার প্রযুক্তির প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে কম্পিউটার এবং ডিজিটাল দুনিয়ার ভেতরের কাজকর্ম তাকে ভীষণভাবে আকর্ষণ করত। এই কৌতূহলই ধীরে ধীরে তার ভবিষ্যৎ স্বপ্নকে আরও বিস্তৃত করেছে।
তিনি শুধু প্রযুক্তি নয়, বরং নতুন নতুন আইডিয়া খুঁজে বের করতে ভালোবাসেন। ব্যবসা, ডিজিটাল ইনোভেশন এবং ক্রিয়েটিভ প্রজেক্ট নিয়ে চিন্তা করা তার দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত তিনি এমন আইডিয়া নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেন, যা ভবিষ্যতে বাস্তব জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে।
শাহ সাব্বির ভবিষ্যতে একজন সফল ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা (Businessman & Entrepreneur) হতে চান। তার লক্ষ্য শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এমন একটি অবস্থানে পৌঁছানো যেখানে তিনি নতুন কিছু তৈরি করতে পারবেন, মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবেন।
ছোটবেলা থেকেই তিনি তার পরিবারের সংগ্রাম খুব কাছ থেকে দেখেছেন। বিশেষ করে তার বাবা-মায়ের কষ্ট তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। এই কষ্টই তার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং প্রেরণা। তার একমাত্র স্বপ্ন—একদিন সফল হয়ে নিজের বাবা-মাকে একটি সুন্দর, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সম্মানজনক জীবন উপহার দেওয়া।
তিনি বিশ্বাস করেন, পরিশ্রম, ধৈর্য, এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনো স্বপ্নই অসম্ভব নয়। নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করে বড় কিছু করার অদম্য ইচ্ছা নিয়েই তিনি এগিয়ে চলেছেন।
আজ তিনি তার যাত্রার শুরুতে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু তার চোখে লক্ষ্য একটাই—একদিন সফলতার শিখরে পৌঁছে নিজের গল্প দিয়ে হাজারো তরুণকে অনুপ্রাণিত করা।