পত্রের প্রথমে সালাম ও ভালোবাসা জানবে। কেমন আছো তুমি? বহুদিন আমাদের আগের মতোন দেখা হয় না। তোমার মনে আছে? তুমি আমার জন্য কত শত মুহূর্ত অপেক্ষায় থাকতে। তখন ল্যান্ড ফোনের সময়। বড় মামার বাসায় একটা ল্যান্ড ফোন ছিলো। মাঝে মাঝে কথা হতো।তারপর আমাদের মাঝে মাঝে দেখা হতো। আসলে পরিচয়ের প্রথমে তোমার সাথে আমার কথা বলাই হয়ে ওঠতো না। কারণ আমি খুব কম কথা বলতাম। কি বলবো তাই বুঝতাম না। তোমার ভাষা অনুযায়ী আমি খুব শান্তশিষ্ট ছিলাম। আসলে আমি লাজুক ও ছিলাম। খুব বেশি মানুষজন, ভীড়, কোলাহল কোনকালেই আমার ভালো লাগতো না। আমার ইন্টার পরীক্ষার শেষ দিন তুমি আমাকে পরীক্ষা শেষে নিয়ে আসলে রিক্সা করে বাসা পর্যন্ত। নামিয়ে দিলে। তখন ও আমি তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে পারি না। তুমি ও আমায় কিছু বুঝতে দিতে চাইতে না। তারপর তিনমাস পর একদিন আমার রেজাল্টের পর আমাকে বাসে ওঠিয়ে দিলে একদিন। সেদিন তোমার দিকে তাকানো যাচ্ছিলো না। কেমন যেনো বিষন্নতা। মনে হয় তুমি কিছু হারিয়ে ফেলেছো। সেদিন ও আমি তোমার সাথে লাজুক ভাবেই কথা বলতে ছিলাম। আসলে প্রয়োজন ছাড়া আমি কথা বলতেই অভ্যস্ত ছিলাম না। আমি একলা থাকতেই পছন্দ করতাম। তারপর হঠাৎ ই রাতে টেক্সট আসতে শুরু করলো। দেখলাম তুমি।এক ঘন্টা র ওপর টেক্সট। শুধু একটি কথা আমি কবে বাসায় যাবো। বেড়ানো কবে শেষ হবে। আমি জানতে চাইলাম কেনো? এই তো মাত্র এলাম নানুবাড়ি। কিছুদিন থাকবো। তারপরদিন আবারো টেক্সট। ফাল্গুন! আমি দুদিন পর শহরে আসলাম একলাই বাসে। শহরে একটি রেস্তোরাঁয় আসতে বললে। এসে দেখি চুপবসে আছো তুমি। আমি তো আর চোখ দিয়ে তাকাচ্ছি না তোমার দিকে। কারণ ওই যে লাজুকলতা আমি। এমনি করেই আমাদের ১ ঘন্টা পেরিয়ে গেলো। কাজিনের বিয়ে আমার। তারপর রওয়ানা করলাম আবার। এর বেশকিছু দিন পর শহরে ফিরে এলাম। তুমি তো আমার সাথে একটু একটু করে কথা বলা শুরু করলে। আমাকে আমার স্পেশাল ডে তে চিঠি পাঠালে।কার্ড পাঠালে। আর ও কত কি! যাই হউক সেই মায়া ভালোবাসাগুলো নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু। একটু একটু করে কত গল্প আমাদের। মান অভিমান সব মিলিয়ে। ফোনের ওপার হতে তোমার গম্ভীর কণ্ঠে আমি শুধু খুঁজে পেতাম ভালোবাসা। সেখানে কোন মিথ্যা ছিলো না। ছিলো প্রচন্ড মায়া।
আজ বহু বছর হলো, তুমি আমায় চিঠি লিখো না। আমি ঠিক পূর্বের ন্যায় চিঠি চাই তোমার নিকট। প্রিয় ভালো থেকো। আজ আর নহে। ভালোবাসা তোলা থাকুক উড়ো চিঠির মায়ায়।