স্মৃতি মানুষের জীবনের এক অমূল্য সম্পদ, যা কখনো আমাদের হাসায় আবার কখনো অঝোরে কাঁদায়। স্মৃতিকে রোমন্থনের আয়না বলে অভিহিত করা যায়। প্রকৃতপক্ষে, স্মৃতি মধুর হলেও অনেক সময় তা হৃদয় দহনর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্মৃতি যখন প্রিয়জনদের সাথে কাটানো সোনালি মুহূর্তগুলোকে ফিরিয়ে আনে, তখন মন এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরে ওঠে। শৈশবের সেই দোলনায় মাথা দোল, বন্ধুদের সাথে অকৃত্রিম হাসি কিংবা প্রিয় মানুষের সাথে কাটানো প্রথম বিকেলের গল্পগুলো আমাদের ঠোঁটে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে তোলে। এই মধুর স্মৃতিগুলোই আমাদের কঠিন সময়ে বেঁচে থাকার রসদ জোগায় এবং একাকীত্ব দূর করে।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। যখন সেই প্রিয় মানুষগুলো আর পাশে থাকে না কিংবা ফেলে আসা সুন্দর সময়গুলো বর্তমানের বেদনায় ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে, তখন সেই একই স্মৃতি হয়ে ওঠে তীব্র যন্ত্রণাদায়ক। হারানো প্রাপ্তি, বিচ্ছেদ বা কোনো প্রিয়জনের চিরবিদায়ের স্মৃতি হৃদয়ে এক ধরনের অমোচনীয় ক্ষত তৈরি করে। একেই বলা হয় ‘স্মৃতির দহন’। মানুষ তখন অতীতে ফিরতে চায়, কিন্তু বাস্তবতার দেয়ালে ঠেকে বারবার ফিরে আসে। এই ফিরে আসা মনকে আরও বিষণ্ণ করে তোলে। তখন এই স্মৃতি মানুষের মনকে পোড়ায় অবিরত। এই বিশেষ মানুষ যতই দূরে সরে যায়, ততই গভীর হয় বেদনাগুলো। মনের এক কোণে জমে থাকা ছবি, হাসি, চোখের জল—সব পুরোনো স্মৃতির ঝুলিতে পূর্ণ হয়ে যায়। যখনই আমরা ভাবি তাকে ভুলে যেতে পারবো, তখনই নতুন করে তাকে মনে পড়ে। আমরা হাজার বার তাড়িয়ে দিতে চাইলেও সেই স্মৃতিকে সহজে মুছে ফেলা যায় না। স্মৃতির দহনে তখন মন পুড়ে অবিরত।
কবি, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। জন্ম ১৯৮৩ সালের ১৯ আগস্ট ঢাকা জেলার মহাখালী টিবি গেইট এলাকাতে। বর্তমানে নিজ পিতৃভূমি ভাটারা থানাধীন বারিধারা নতুনবাজার এলাকার ৪০ নং ওয়ার্ডে বসবাস করছেন। তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক এবং আবৃত্তি সংগঠক ও প্রশিক্ষক। তিনি বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান আবৃত্তিশিল্পী। কারিকুলাম বিস্তরণ ২০২১-এর তিনি একজন মাস্টার ট্রেইনার। ২০০৮ সাল হতে তিনি সোলমাইদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভাটারা, গুলশান, ঢাকা-১২১২ এ কর্মরত রয়েছেন।
শান্ত ইসলাম দীর্ঘদিন বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠান নজরুল ইন্সটিটিউটের আবৃত্তি প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশ বুলবুল ললিতকলা একাডেমি (বাফা) ও আনন ফাউন্ডেশনসহ বেশ কিছু আবৃত্তি সংগঠনে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। তার দুটি আবৃত্তি সিডি ও বেশ কিছু বই প্রকাশিত হয়েছে। সংগীতশাস্ত্রেও রয়েছে তার অগাধ পাণ্ডিত্য। তিনি মিউজিক কম্পোজার ও ট্রেইনার। বাংলাদেশ টেলিভিশনের তিনি তালিকাভুক্ত সংগীত পরিচালক।