আধুনিক যান্ত্রিকতার কুপ্রভাব যে সভ্য-সমাজে বসবাসরত মানুষগুলোর মানব-হৃদয়টাকে আবেগ-অনুভুতিহীন যন্ত্রে রুপান্তর করতে সক্ষম হয়েছে তাই নয়, কমবেশি প্রতিটি মানবহৃদয় করেছে সংর্কীন্ন ও স্বার্থপরতায় পরিপূর্ণ। নারী হৃদয় -উপন্যাসটির সব ক’টি চরিত্র, স্থান, সময় ও চোখে দেখা ঘটনা প্রবাহের মাধ্যমে এক অভুতর্পুব শৈল্পিক সৌকর্যে নিষ্ঠুরবাস্তবতা নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে। ফুটে উঠেছে বিজ্ঞানের বিভীষিকাকে আর্শীবাদ রুপে গ্রহণে নারীহৃদয়ের অগ্রণী ভূমিকা। সৃষ্টির শুরু হতে অনির্বাচ্য, অনির্ণেয়, বিদুষী ও প্রেমময়ী নারীহৃদয় অদ্ভুত অনুভূতি উপলব্ধির মাধ্যমে শুধু যে তাঁর স্বামী-সংসারকে জান্নাতে পরিণত করতে পারে তাই নয়, ঘটাতে পারে গোটা মানব সমাজের ইতিবাচক আমূল পরিবর্তন ; নারীহৃদয় -উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র নুরনাহার বেগম যেন তারই জাজ্জ¦ল্যমান দৃষ্টান্ত। সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে মানবীয় মূল্যবোধ সম্পন্ন সমাজ গড়ার প্রদীপ্ত প্রয়াসে নারীহৃদয় -উপন্যাসের সব ক’টি চরিত্রই লেখকের অনবদ্য সৃষ্টি। প্রতিটি চরিত্রের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহ, স্থান, সময় ও র্কাযকারণ অনুধাবন করলে বুঝা যায় চরিত্রগুলো যেন লেখকের হৃদয়প্রসূত কোন কল্পকাহিনীর সৃষ্টি করা চরিত্র নয়, সব ক’টি চরিত্রই যেন বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। লেখকের প্রবল ভাবাবেগ, চঞ্চলচিত্ত, প্রচন্ড ভ্রমনপিপাসা যেমন তাঁকে করেছে ছন্নছাড়া, যাযাবর ঠিক তেমনি পাহাড়-সমতল, সমুদ্র-বনাঞ্চল, হাওরে-বাওরে ভ্রমন ও সাধারণ-অসাধারণসহ ছিন্নমুল মানুষের সাথে কাজ করার অকিঞ্চিৎকর অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁর লেখক সত্তা; প্রখর কল্পনাশক্তিসম্পন্ন মস্তিষ্ক খুঁজে পেয়েছে সাহিত্য সৃষ্টির বহুবিধ উপাদান। আমার দৃঢ়বিশ্বাস নারীহৃদয় -উপন্যাসটি পাঠে পাঠক হৃদয় যেমন উপভোগ করবেন সুনির্মল সাহিত্যরস তেমনি অনুভব করবেন সামাজিক দায়বদ্ধতা, ফলে তৈরী হবে মানুষ, মানুষের জীবনযাপন সর্ম্পকে গভীর ও সঠিক বোধশক্তি ; মানব বৈশিষ্ট্যে ফিরে আসবে নীতি-নৈতিকতা এবং আরও পরিশীলিত ও শক্তিশালী রুপে সুদৃঢ় হবে পারস্পারিক আন্তরিকতার বন্ধন। লেখকের লেখনী, চিন্তাভাবনা, সৃজনশীলতা ও সৃষ্টির ক্ষমতা হোক আরও তীক্ষ্ম আরও সূক্ষ্ম এবং গভীর ও কার্যকর। উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাক তাঁর সৃজনশীল সাহিত্য কর্মের সফলতা আমি এই কামনা করি কায়মনোবাক্যে।