কুরআন মাজিদ ইসলামের মূল উৎস ও চূড়ান্ত হিদায়াতগ্রন্থ। তবে এর আয়াতসমূহের সঠিক উপলব্ধি, অন্তর্নিহিত অর্থ অনুধাবন এবং জীবনঘনিষ্ঠ প্রয়োগের জন্য তাফসির অপরিহার্য। নবি (সা.)-এর যুগ থেকেই কুরআনের ব্যাখ্যা ও অনুধাবনের একটি সুদীর্ঘ, সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মুসলিম জ্ঞানচর্চার অনন্য অধ্যায় হিসেবে বিকশিত হয়েছে।
গ্রন্থটিতে নবি করিম (সা.)-এর তাফসিরের পদ্ধতি, বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতি বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে। পাশাপাশি সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন এবং তাঁদের বংশধরগণ কুরআনের তাফসিরে যে যে পদ্ধতি ও মূলনীতি অনুসরণ করেছেন, তার ঐতিহাসিক ও পদ্ধতিগত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। লিখিত তাফসিরের সংকলন, প্রখ্যাত মুফাসসিরদের জীবন ও কর্ম, তাফসির বিল মাসূর ও তাফসির বির রাঈ-এই দুই প্রধান ধারার স্বরূপ ও পার্থক্য, এবং সমকালীন বিশ্বে উদ্ভূত নতুন তাফসির প্রবণতার সঙ্গে চিরাচরিত ও প্রাচীন তাফসির ধারার তুলনামূলক বিশ্লেষণও গ্রন্থটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কুরআনের আয়াতসমূহের ব্যাখ্যায় বিভিন্ন পদ্ধতি, উৎস ও মানদণ্ড প্রয়োগ করে প্রকৃত অর্থ নির্ণয়ে সহায়তা করে উলূমুল তাফসির বা তাফসিরের বিজ্ঞান। কুরআনের অর্থ যথাযথভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে অক্লান্ত পরিশ্রমকারী বহু আলেমের মূল লক্ষ্য ছিল কুরআনের অন্তর্নিহিত হিদায়াতকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা এবং সেই নির্দেশনার আলোকে জীবন পরিচালনার পথ নির্দেশ করা। একই সঙ্গে তাফসির বিষয়ে প্রচলিত বিভ্রান্তি নিরসন, নির্ভরযোগ্য উৎস চিহ্নিতকরণ এবং গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যার মানদণ্ড নির্ধারণেও তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
এই গ্রন্থে মুফাসসিরদের কর্মপদ্ধতি ও মৌলিক নীতিমালা এবং তাফসির রচনার ভিন্ন ভিন্ন ধর্মতাত্ত্বিক ধারা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাফসিরে রাজনৈতিক ও মাজহাবভিত্তিক স্বার্থের প্রভাব, ফিকহি, আকীদাগত, ঐতিহাসিক ও ভাষাগত বিষয়ে ব্যাখ্যার পার্থক্যগুলোও আলোচিত হয়েছে। যেসব আলেম ও তাফসিরগ্রন্থ অধিক গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্ব লাভ করেছে, তাদের পরিচয় পাঠকের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। গ্রন্থটি বিভিন্ন তাফসির-পদ্ধতির তুলনামূলক আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টির ওপর একটি বিস্তৃত ও সামগ্রিক ধারণা প্রদান করে। ফলে এটি কুরআনের গভীরে প্রবেশ করতে আগ্রহী সাধারণ পাঠক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য গ্রন্থটি একটি চমৎকার প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে।