ইসলামী সভ্যতা কেবল একটি ঐতিহাসিক বাস্তবতা বা অতীতের গৌরবময় অধ্যায় নয়; এটি একটি জীবন্ত জীবনদর্শন, যা মানুষের বিশ্বাস, চিন্তা, মূল্যবোধ ও সামাজিক কাঠামোকে সমন্বিতভাবে রূপ দিয়েছে। আলোচ্য গ্রন্থটি ইসলামী সভ্যতার অন্তর্নিহিত আত্মা, দর্শন ও জীবনবোধকে গভীর, বিশ্লেষণধর্মী ও চিন্তাশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করেছে। এখানে ইসলামের ঐতিহাসিক কৃতিত্বের বিবরণে সীমাবদ্ধ না থেকে সেই সাফল্যের পেছনে কার্যকর নৈতিক শক্তি, যুক্তিবোধের ভারসাম্য এবং মূল্যবোধ ও চিন্তাধারার মূল উৎস ও তাৎপর্য অনুসন্ধান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইসলামী সভ্যতাকে একটি স্বতন্ত্র, মানবকল্যাণমুখী ও ভবিষ্যতমুখী সভ্যতাগত প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গ্রন্থটিতে দেখানো হয়েছে- কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সভ্যতা কীভাবে মানুষের বিশ্বাস, চিন্তা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্ঞানচর্চা ও সমাজব্যবস্থাকে একটি সুসংহত ও বাস্তব কাঠামোর মধ্যে গড়ে তুলেছে। ন্যায়বিচার, মানবিকতা, মানবিক মর্যাদা, বিবেক, সীমা ও নৈতিকতার ভারসাম্য এবং সুষম বিকাশ কীভাবে বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে ইসলামী সভ্যতাকে একটি স্বকীয় ও স্বতন্ত্র অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে- তা যুক্তিনিষ্ঠভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ব্যক্তিসচেতনতা, ভারসাম্যপূর্ণ জীবনবোধ, চারিত্রিক ও স্বভাবগত সুস্থতা, সামঞ্জস্যতা, ঈমানের দিকনির্দেশনা এবং মানবীয় চিন্তাশক্তির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। পাশ্চাত্য ও প্রাচ্য সভ্যতার তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে ইসলামী সভ্যতার চিন্তাগত স্বাতন্ত্র্য এবং সমকালীন প্রেক্ষাপটে তার পুনর্জাগরণের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।