মাদ্রাসা আমাদের দ্বীনি দুর্গ, ইলমে অহি-র নিরাপদ আশ্রয়স্থল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে অহি-র জ্ঞান অপরিবর্তনীয় থাকলেও এর শিক্ষাদান পদ্ধতি ও কাঠামো কি সংস্কারের দাবি রাখে না? যে শিক্ষাব্যবস্থা একসময় বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার মত যোগ্য আলেম ও স্কলার উপহার দিত, আজ কেন তা আধুনিক রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি কিংবা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখে থমকে দাঁড়াচ্ছে? 'মাদ্রাসা মেরামতের আবেদনপত্র' কেবল একটি বই নয়, বরং এটি সমকালীন মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার এক নির্মোহ ও গভীর বিশ্লেষণ। লেখক এখানে আবেগের চেয়ে বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন কোথায় আমাদের কারিকুলামের সীমাবদ্ধতা, কেন আমাদের পাঠদান পদ্ধতি যুগের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না এবং কেন একজন মেধাবী ছাত্র দাওরায়ে হাদীছ শেষ করেও জীবনযুদ্ধে নিজেকে অনেক সময় অপ্রস্তুত মনে করে।
বইটিতে কারিকুলাম সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কেবল কিতাব মুখস্থ করার গণ্ডিতে আবদ্ধ না রেখে তাদের সুপ্ত প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রথাগত পাঠদানের সীমা অতিক্রম করে একজন 'শিক্ষা-উদ্যোক্তা' ও 'আদর্শ রাহবার' হিসাবে গড়ে ওঠার প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বিত করে আরো শক্তিশালী, কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করে তোলার বাস্তবধর্মী দিকনির্দেশনা এতে রয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষার সঙ্গে জড়িত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও নীতিনির্ধারকসহ সকলের জন্য এই বইটি এক গভীর চিন্তার খোরাক। আসুন! আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের দ্বীনি পাঠশালাগুলোকে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে এমনভাবে গড়ে তুলি, যাতে সেগুলো আবারও জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের আলোয় বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে পারে। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন-আমীন!