'সুনামগঞ্জ কলেজে বিজ্ঞান মেলা চলছে। কলেজের বারান্দায় দেখা। দাঁড়াতে বলে। সাথের মেয়েদের বলে চলে আসে। চল। কোথায়? শহরে তখন রাত নেমেছে। আলোছায়া অন্ধকার। পরস্ত্রীর সাথে একজন অবিবাহিত পুরুষের এভাবে পাশাপাশি হেঁটে যাওয়া কি ঠিক হবে? মহিলা (এখন মেয়ে নয় মহিলাই বলা শ্রেয়) উত্তর দেয় না। ঢুলুঢুলু চোখে একবার শুধু মুখ তুলে তাকায়। নীরবে হাঁটতে থাকে। আমিও হাঁটছি। কোথায় যাবো? কেন যাবো কিছুই জানি না।'
'স্কুল লাইফের বন্ধুরা এমনই হয়। তাদের সাথে খেলা যায়। বেড়ানো যায়। হাসা যায়। জীবন উপভোগ করা যায়। বন্ধু সবাই হয় না। বন্ধু তাকে বলা যায় যে একসঙ্গে কাঁদতে পারে। এক সাথে হাসে। স্কুল সহপাঠীরা এ রকম হয়। বন্ধু মানচিত্রের মতো, যে গন্তব্য দেখায়। বন্ধু আলোর মতো, যে শেষ সীমানা পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।'
কাহিনি কোথাও এভাবেই শুরু হয়েছে। আবার কোথাও শুরু হয়েছে অন্যভাবে। যেমন, 'তারুণ্যেকালে এরা দাবড়িয়ে বেড়াতো শহর। এরা ছিল সুনামগঞ্জ তৎকালীন ছাত্ররাজনীতি প্রাণ। ৭২ থেকে ৭৫ এবং ৭৫ পরবর্তী দুর্দিনে এরা ছিল শক্তি। এরা কখনো নেতা হতে চায়নি। কিন্তু এদেরকে ছাড়া ছাত্র রাজনীতি ছিল অসম্ভব। বিশেষ করে সুনামগঞ্জের মুজিববাদী ছাত্রলীগের মূল চালিকাশক্তি ছিল এরাই।'
উরসে চন্দন গন্ধ বইটি মূলত একটি স্মৃতিকথামূলক লেখার সংকলন। এর কোথাও প্রেম, ভালোবাসা কিংবা ভালোলাগার কথা ফুটে উঠেছে। আবার কোথাও সমাজের কথা। রাজনীতির কথা বলা হয়েছে। আজকের স্মৃতি কালকের ইতিহাস। কালের পরিক্রমায় একদিন স্মৃতিতে জড়ানো অনেক তথ্য-উপাত্ত ইতিহাসের অংশ হতে পারে। দিন-রাত্রির এইসব নানা গল্প নিয়েই রচিত হয়েছে গ্রন্থটি। পাঠকের ভালো লাগলে শ্রম সার্থক হবে।