আমি অমিত হাসান একটা কর্পোরেট জব করি ঢাকায়| বেশ সাজানো গোছানো ছোট্ট একটা অফিস বেশ নান্দনিক| আমার অফিসের পরিবেশ দেখে অনেকে বিমোহিত হয়| প্রথম থেকে অফিসের অবস্থা এমন ছিল না| মূলত আমি আমার মতো করে সাজিয়ে নিয়েছি| আমার আপন বলতে আমি, আমার মা আর আমার এই অফিস| এই তিনটিই আমি পরিপাটি রূপে দেখতে পছন্দ করি| আমার উপার্জনের সবটাই এই তিনের পেছনে ব্যয় করি|
আমার আরেকটা বাজে অভ্যাস আছে, মাঝে মাঝে সময় পেলে দু চার লাইন লিখি| মন চাইলে পত্রিকায় পাঠাই| সম্পাদক মহাশয় কখনো ছাপতে দ্বিধা করেন না| বরং তিনি লেখালেখি নিয়মিত করতে উৎসাহ দেন| কিন্তু সে উৎসাহ আমলে নিই বলে মনে হয় না| আমলে নিলে অতীতের সব লেখাই আমার সংগ্রহে থাকত| পত্রিকার সব লেখাও ঠিকভাবে আমার সংগ্রহে নাই| আসলে আমি আনন্দের জন্য লিখি| আমি আমার নিজের জন্য লিখি| আমি সময়ের প্রয়োজনে লিখি| সেটা পুরোটাই আমার মনমর্জির উপর নির্ভর করে| মাঝে মাঝে অনেক ভালো থিম মনে আসে| কল্পনা করতে করতে বিশাল এক অট্টালিকা নির্মাণ করে ফেলি| আবার ঘুমিয়ে পড়ি| সকাল হলে কোনো কিছুই আর মনে থাকে না| যদি সত্যিকারের লেখক হতাম, তাহলে ঘুম বাদ দিয়ে লিখতে বসে যেতাম| ঐ লেখাগুলো পেলে পাঠকরা সত্যি অভিভূত হতো| অনেক বেশি আনন্দ পেত| এমনকি সমাজ বদলের হাতিয়ারও হতো| মনে হয় এখানেই জাতলেখক আর আমাদের মতো অপেশাদার লেখকের মধ্যে পার্থক্য| আবার এমনও হয় একটা বিষয় নিয়ে লিখতে বসে আরেকটি বিষয় নিয়ে লেখা হয়ে যায়| কল্পনা আর লেখার মাঝে ঐক্য থাকে না| এক করতে আর এক করে ফেলি| এখনও মনে হয় না যে বিষয় নিয়ে লিখতে বসেছি, সেটি ধারাবাহিকভাবে লিখে যেতে পারব! এক বসাতে লিখা সম্ভব হলে হয়তো ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যায়| আমি তো তাতে অভ্যস্থ নই|
আমার অফিস কক্ষে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত| যখন তখন মন চাইলে যে কেউ এসে গল্প জুড়িয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নাই| অকারণে আসা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ| কাজে আসলেও কাজ শেষে বিদায় নিতে হয়| সম্পূর্ণ নিজের খরচে কক্ষটি সাজানো হয়েছে| একদিন বড়ো কর্তা এসে দেখে খুব অভিভূত হলেন| বললেন দুদিন পরে তো তোমার এই চাকরি নাও থাকতে পারে| তখন মৃদু হেসে বলেছিলাম, যে আসবে সে এ সাজানো পরিবেশ দেখে নিশ্চয় অখুশি হবে না| পছন্দ না হলে খুলে ফেলে দেবে| আমি যতক্ষণ আছি, ততক্ষণ আমার মতো করে থাকতে চাই| বলে রাখি, ইতোমধ্যে আমি দুটো প্রমোশন পেয়েছি কিন্তু কক্ষ পরিবর্তন করতে হয়নি| চাকরি চলে যাওয়া নিয়ে আমার মাঝে কখনো ভয় কাজ করত না| সকাল সাতটার অফিস ছয়টা ত্রিশে আসা আমার নিয়মিত অভ্যাস| বাসা অফিসের কাছে| হরতাল ধর্মঘট, রাজনৈতিক অস্থিরতা আসার পথে কখনো সমস্যায় ফেলত না| ছুটি পাঁচটায় হলেও বের হতে হতে সাড়ে পাঁচটা ছয়টা বেজে যেত| আমার জন্য অফিসকে অতিরিক্ত খরচ করার প্রয়োজন পড়ে না| বরং অফিসের শ্রী বৃদ্ধির জন্য নিজে খরচ করি| কর্মে শতভাগ মনোনিবেশ করার চেষ্টা করি| বিধি বাম হলে সেটি ভিন্ন বিষয়|