আমরা প্রতিনিয়ত অনেকগুলো বিষয় নিয়ে কল্পনার জালে আবদ্ধ থাকি| এই আবদ্ধতার গণ্ডি পেরিয়ে যখন বাস্তব জীবনের সম্মুখীন হই তখনই নিদ্রা ভাঙে| এমন একটি বিষয় হলো বাবা-মা| হঠাৎ যখন মনে পড়ে বাবা-মা নেই, তখন বুকটা ধুক করে কেঁপে ওঠে| এই কেঁপে উঠার ধাক্কা সামলানো অনেক সময় জঠিল হয়ে পড়ে| অপূরণীয় এক হাহাকার| বাবা-মাকে হারিয়ে আজ মনে হয়, হায়! বাবা-মাকে যদি আরেক বার ফিরে পেতাম! আসলে বাবা-মা বেঁচে থাকতে অনেকে এই অভাব অনুভব করতে পারে না| তখন বুঝে না যাদের বাবা-মা বেঁচে আছেন তারা কতোটা ভাগ্যবান| তাই পিতা-মাতার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আজকে আমার কিছু লেখা|
সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষেরই দায়িত্ব এই সুন্দর পৃথিবীকে একটি শান্তিময় পরিবেশ দান করা| কিন্তু এই শান্তিময় পরিবেশ তখনই আসবে যখন মানুষ অনন্ত পারিবারিক কলহমুক্ত থাকবে, দুশ্চিন্তামুক্ত থাকবে| কারণ, মানুষের সকল সুখের মূল হলো পরিবার| পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর, আন্তরিক ও মধুর সম্পর্ক হলো পিতা, মাতা ও সন্তানের সম্পর্ক| পিতা, মাতা, সন্তান একে অপরের পরিপূরক| কিন্তু, এই সম্পর্কটা প্রতি নিয়ত ভাবায়| কতো সুন্দর সন্তানের শিশুকাল! কত আনন্দের সন্তানের বেড়ে উঠা! একজন সন্তানকে বড়ো করার জন্য প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বাবা-মায়ের কতো আয়োজন! পৃথিবীর সব সুখ যেন এখানেই নিহীত| কোনো বাবা-মায়ের মনেও আসে না তাদের বৃদ্ধ বয়স কেমন হবে! হয়তো তাঁরা যদি এই চিন্তা করতো তাঁরা কখনো তাঁদের জীবনের বৃহৎ অংশ সন্তানের পেছনে ব্যয় করতো না|
তাই আমাদের মেনে নিতে হবে আমাদের বাবা-মা দুইজন নয় চারজন| নিজের বাবা-মা যেমন বাবা-মা ¯^ামীর বাবা-মাও বাবা-মা| ঠিক তেমনি স্ত্রীর বাবা-মাও ¯^ামীর বাবা-মা| তেমনি বাবা-মাকে মেনে নিতে হবে ছেলে-বউ দুজনেই নিজের সন্তান| মেয়ে-জামাই দুজনই নিজের সন্তান| আজকের বিষয়টি এমন একটি বিষয় যা এই ক্ষুদ্র পরিসরে সম্পূর্ণ নিয়ে আসা অসম্ভব| তারপরও আমার প্রিয় পাঠক বন্ধুদের জন্য আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস|