"মতিডাঙ্গার ময়না' উপন্যাসের লেখক জনাব মোঃ সাইদুল ইসলাম জীর্ঘদিন প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে বিভিন্ন পদে কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরী করে সম্প্রতি অবসরোত্তর ছুটিতে আছেন। ইতোপূর্বে তার লেখা দুইটি গ্রন্থ রূপময় বাংলাদেশ (কাব্যগ্রন্থ) ও আলোকবর্তিকা (গল্প গ্রন্থ) প্রকাশিত হয়েছে। তার লেখা উপন্যাস মতিডাঙ্গার ময়না সম্প্রতি প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।
পল্লী প্রকৃতির নিরিবিলি ও নিভৃত পরিবেশে যার জন্ম ও বেড়ে উঠা তাঁর লেখায় আবহমান বাংলার মাটি, মানুষ আর প্রকৃতির কথা বিবৃত হবে এটাই স্বাভাবিক। তাঁর রচিত উপন্যাস মতিডাঙ্গার ময়নাতে মতিডাঙ্গা গ্রামের ঋতু বৈচিত্রের চিরায়ত নৈসর্গিক সৌন্দর্য যেমন সুনিপুণভাবে চিত্রিত হয়েছে তেমনি গ্রামের সহজ-সরল মানুষ গুলোর দৈনন্দিন জীবনাচার, তাদেন কর্মপ্রণালী, ঘর-গৃহস্থালী, সুখ-দুঃখ, প্রেম-ভালবাসা ও আনন্দ-বেদনার ছবিও নিখুঁতভাবে অঙ্কিত হয়েছে। মানুষ কিভাবে প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে, সংগ্রাম করে টিকে থাকে, কিভাবে মানুষ জীবন যুদ্ধে জয়ী হয় তা এই উপন্যাসের পাতায় পাতায় নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মতিডাঙ্গা গ্রামের নিম্নবিত্তের দরিদ্র কৃষক জামাল মিঞার দুই মেয়ে, এক ছেলে, বউ ও বৃদ্ধ মাতাসহ ছয় জনের সংসারে নিত্য অভাব-অনটনের মধ্যে যেখানে সংসার নির্বাহ করাই দুঃসাধ্য, সেখানে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার চিন্তা করা প্রায় অসম্ভব। এ জন্য তার বড় মেয়ে সুলতানা জান্নাত আরা ময়না এর লেখা পড়া বার বার বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে। গ্রামের পাঠশালায় পঞ্চম শ্রেণি পাশের পর ময়নার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। একই গ্রামের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া যুবক সাজ্জাদ হোসেন সাজুর সাথে ময়নার পরিচয় হওয়ার পর ময়নার মেধা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় মেলে। সাজু তাকে পার্শ্ববর্তী গ্রামের উচ্চ বিদ্যালয়ে ভতি হয়ে পড়াশুনা করার জন্য অনুপ্রেরণা ও কৌশল শিখিয়ে দেয় এবং ময়নার মেধা ও তার রূপ-গুণের পরিচয় পেয়ে সাজু তাকে পছন্দ করে ও ভালোবেসে ফেলে। কিন্তু তাদের এ প্রেম-ভালবাসার মধ্যেও অনেক বাঁধা-বিপত্তি দেখা দেয়। এ সকল ইতিবৃত্ত নিয়েই এ উপন্যাসটি রচিত হয়েছে। ঘটনাবহুল এ উপন্যাসে লেখকের শব্দ চয়ন, ভাষার উপস্থাপন, ঘাটনার অসাধারণ বর্ণন এবং গ্রামীন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য ও দৃশ্যাবলী চিত্রন পাঠক হৃদয় ও অন্তর্দৃষ্ঠিকে যে মুগ্ধ ও আকৃষ্ট করবে তা নিশ্চিত। সর্বোপরি উপন্যাসটি পাঠকের নিকট সুখপাঠ্য হবে বলে মনে করি।
জন্ম : ১৮ আগস্ট ১৯৭৭ | জন্মস্থান: উত্তর সাহাপুর, গজারিয়া, মুন্সিগঞ্জ । শৈশব কৈশাের যৌবন কেটেছে চট্টগ্রামে । পড়াশােনা: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। কর্মস্থল: ঢাকায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা। আইসিডিডিআর,বি-তে কর্মরত। অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ : অনন্তর জেগে থাকে দীঘল পিপাসা (২০০০), বলাকা প্রকাশন। আহত চড়ই (২০০৬), বলাকা প্রকাশন। অনুবাদগ্রন্থ : নােবেল বিজয়ী কবি টমাস ট্রান্সট্রোমারের নির্বাচিত কবিতা (২০১২), গদ্যপদ্য।