১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ, শতবছর আগে স্থানীয় তিন যুবক মোহাম্মদ জাফর আলী (সম্পাদক, বাজনাব) মোহম্মদ হানিফ পাঠান (পরিচালক, বটেশ্বর) ডা: বিপিনচন্দ্র পাল (যুগ্মসম্পাদক, চন্দনপুর) একটি কাগজের বৃক্ষ-রোপন করেছিলেন তৎকালীন ঢাকা জেলার অখ্যাত ‘দক্ষিণধুরু’ গ্রামে। সেই বৃক্ষটি হলো মাসিক ‘সবুজ পল্লী’ পত্রিকা। পাতলা সবুজ কাগজের প্রচ্ছদ, মূল্য প্রতি সংখ্যা দুই আনা, বার্ষিক গ্রাহক চাঁদা এক টাকা ছয় আনা। সবুজ পল্লী পত্রিকায় অবহেলিত জনপদ ও দেশের সমসাময়িক কথাগুলো প্রকাশ হতো। কল্পনাতীত, ঐসময় যেখানে কলকাতা ঢাকা বা অন্যান্য জেলা শহরে পত্রিকা প্রকাশ ছিল হাতেগোনা, সেখানে গণ্ডগ্রাম থেকে প্রকাশ হতো প্রিন্ট পত্রিকাÑ মাসিক সবুজ পল্লী!
সালটা ২০২২, একুশে বইমেলায় মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান স্যারের সংকলন ও সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়- ‘সেকালের মাসিক পত্রিকা সবুজ পল্লী’ গ্রন্থটি। নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসি, আমার জন্মভ‚মি নরসিংদীর গণ্ডগ্রাম থেকে শতবছর আগে প্রিন্ট পত্রিকা প্রকাশ হতো ভেবে অস্থীর হয়ে ওঠি। আমরা কি নতুন করে সবুজ পল্লী পত্রিকাটি পুনর্মুদ্রণ করতে পারি না? ছুটে যাই মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান স্যারের কাছে।
মাসিক সবুজ পল্লী পত্রিকা পুনর্মুদ্রণের প্রস্তাব রাখলে, তিনি প্রথম যে শব্দটি উচ্চারণ করেছিলেন, তা হলো উদ্ভট চিন্তা। এই সমাজে সম্ভব নয়, মানুষ পত্রিকা পড়ে না।
তবু স্যার সম্মতি দিলেন সাথে কিছু উপদেশ।
তারপর যোগাযোগ করি, সেকালের সবুজ পল্লী পত্রিকার প্রকাশক সম্পাদক মোহাম্মদ জাফর আলী সাহেব-এর ছেলে জনাব মোহাম্মদ লিয়াকত আলী সাহেবের সাথে। শুরু করি সবুজ পল্লী পত্রিকার পুনর্মুদ্রণের কাজ। ২০২২ সালের জুলাই মাসে ‘মাসিক সবুজ পল্লী’ পত্রিকার প্রথম পুনর্মুদ্রণ সংখ্যাটি প্রকাশ করি।
আজ ২০২৬ সাল, শততম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সংখ্যাটা এত জাঁকজমকভাবে আয়োজন করতে পারতাম না, যদি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ইয়েস আই ক্যান’ আমাদের পাশে না দাঁড়াতো। ধারাবাহিকভাবে সবুজ পল্লী পত্রিকায় ঐতিহ্যের অনুসন্ধান, বাংলার ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সমাজ ও সাহিত্যের সমসাময়িক বিষয়গুলো প্রকাশ হচ্ছে।
সবুজ পল্লী পত্রিকা যদি পাঠকের হৃদয়ে স্পর্শ করতে পারে তাহলে আমাদের পরিশ্রম স্বার্থক ও সফল হবে।