ধরুন আপনার একটি মোটরসাইকেল আছে। যেটিতে আপনি প্রতিদিন পেট্রোল বা অকটেন দিয়ে থাকেন। একদিন শখের বসে এতে আপনি একটু কেরোসিন বা ডিজেল ঢেলে দিলেন। কি হলো মোটরসাইকেলটা কি আর চলবে অথবা চলবে কিন্তু সেটি আপনার মনের মত করে চলবে না নিজের মত চলবে। ঠিক এই জিনিসটাই ঘটে আমাদের শরীর নামক যন্ত্রের সাথে যখন আমরা যে খাবারটি খাওয়া প্রয়োজন সে খাবারটি না খেয়ে অন্য একটি খাবার খেয়ে থাকি। সেই সমস্যা আরো বাড়ে যখন শরীর নামক যন্ত্রটি অসুস্থ হয়ে যায়। একবিংশ শতাব্দীর এই বিশ্ব বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে প্রতিটি রোগের প্রতিটি ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে। কিন্তু এই ২০২৫ সালে এসে বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ও বিশ্ব পরিপাক দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ফুড ইজ মেডিসিন মানে খাদ্যই ওষুধ। যার মানে হলো ওষুধ নয় আসলে রোগ কে সারানোর জন্য একটা অন্যতম চালিকা শক্তি হলো সঠিক খাদ্য বা পথ। ২০২৫ সালের আরেকটি তথ্য মতে বাংলাদেশে প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ বছরের কোন না কোন সময় ডাক্তারের কাছে যান। এবং বাংলাদেশে সাম্প্রতিক গবেষণা দেখা গেছে চিকিৎসকগণ গড়পড় তা রোগীকে পাঁচ থেকে ছয় মিনিটের বেশি সময় দিতে পারেন না। যার প্রেক্ষিতে আমাদের রোগীগণ চিকিৎসকের কাছে শুধু ওষুধই পেয়ে থাকেন কিন্তু সঠিক তথ্যের তথ্য নেওয়ার সুযোগই পান না। আবার আমাদের দেশের প্রথাগত চিকিৎসা শিক্ষায় রোগভিত্তিক পথ্য শিক্ষার ব্যাপারে আলাদা কোনো কারিকুলাম নেই বললেই চলে। আবার পথের ব্যাপারে তারা যা জেনে থাকেন তা ইউরোপ অথবা আমেরিকার বিভিন্ন খাবারের নাম যা বাংলাদেশের 90 ভাগ মানুষই হয় নাম জানে না অথবা জীবনে কখনো খাইনি। এ শূন্যতা থেকে বিগত ১২ বছর ধরে আমি এই বইটি লিখেছি যাতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রান্নাঘরে যে খাবারগুলো পাওয়া যায় সেই খাবার গুলোর উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন রোগে প্রয়োজনীয় তথ্যের এক বিশাল সমাহার সাজিয়ে এ বইটি প্রকাশ করেছি। দুই যুগেরও অধিক চিকিৎসা অভিজ্ঞতা, গবেষণা অভিজ্ঞতা, ও গেস্ট্রো লিভার বিশেষজ্ঞ হওয়ার সুবাদে মেডিসিন সার্জারি গাইনি আইসিইউ সহ মেডিকেল সাইন্স এর প্রতিটি বিষয়ে আমার একটি বিচরণ রয়েছে।এ বইটিতে এক দিকে পাবেন সমস্ত রোগ যেমন ডেঙ্গু থেকে শুরু করে জল বসন্ত টাইফয়েড হাম আবার পেপটিক আলসার ফ্যাটি লিভার অ্যাজমা ব্রংকাইটিস লাং ক্যান্সার টিউবারকুলোসিস বা যক্ষা গাইনোকোলজিক্যাল সমস্যা সমূহ ব্রেনস্ট্রোক পরবর্তী খাদ্য ব্যবস্থা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা বিভিন্ন চর্মরোগ এমনকি মানসিক রোগ ও দাঁতের রোগের ও পথ্য নির্দেশিকা তুলে এনেছি। এছাড়াও এতে পাবেন এমন কিছু জিনিস যা আমাদের দেশের কোন চিকিৎসক হয়তো কোনদিন আপনাদের বলার সুযোগই পাবে না। যেমন আপনার গলব্লাডার অপারেশন হয়েছে এরপর আপনি কি খাবেন কিভাবে খাবেন কতটুকু খাবেন অথবা আপনার মলদ্বারের অপারেশন হয়েছে আপনি কিভাবে খাবেন বা কি খাবেন সে ব্যাপারেও বলা আছে। সার্জারি পরবর্তী খাদ্য ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও নির্দেশিকা না থাকার জন্য রোগী আরো অসুস্থ হয়ে যেতে পারে এবং এ কালচার আমাদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে খুব বিরল।
যাদের বাসায় বা পরিবারে বাবা মা ভাই বোন দাদা দাদি শ্বশুর-শাশুড়ি কিংবা আদরের সন্তান প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে থাকেন তাদের জন্য এই বইটি হতে পারে একটি আদর্শ চিকিৎসা গাইড। যেটি পড়লে আপনি ডাক্তারের চিকিৎসা আর ঘরের পথ্য সেবার মাধ্যমে রোগীকে পরিপূর্ণ সুস্থ করে তুলতে পারবেন। আপনিও হয়ে উঠতে পারবেন সকলের প্রিয় ও প্রয়োজনীয় কাছের মানুষ। এ বইটি এতটাই সহজ বাংলায় লেখা হয়েছে যে সামান্য বাংলা পড়তে পারে এরকম লোক এই বইটি পড়ে পরিপূর্ণ চিকিৎসা ও পথ্য গাইড পেতে পারেন।
ডা. মো: শাখাওয়াত হোসেন (Dr. Md. Shakhawat Hossain) [Assistant Professor of Gastroenterology] The Journey। শৈশব ও পথচলা Born in the coastal beauty of Chittagong and raised across the vibrant landscapes of Dhaka and Lalmonirhat, Dr. Hossain's life has been a tapestry of diverse experiences. চট্টগ্রামের লোনা হাওয়া আর ঢাকা ও লালমনিরহাটের স্নিগ্ধতায় কেটেছে তাঁর শৈশব। বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে বিভিন্ন জনপদের মানুষের সাথে মেশার সুযোগই তাঁকে আজ এক সংবেদনশীল মানুষে পরিণত করেছে। The Expert। অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও শিক্ষক An alumnus of Rangpur Medical College, he now serves his alma mater as an Assistant Professor of Gastroenterology. With over 24 years of clinical practice and medical teaching, he is s trusted voice in the Bangladeshi bealthcare landscape. রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে বর্তমানে সেখানেই গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। দীর্ঘ ২৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে রোগীদের সেবা এবং চিকিৎসা শিক্ষাদানে তিনি এক পরিচিত মুখ। The Passion। নেশা ও পেশার মেলবন্ধন Beyond the stethoscope, Dr. Hossain is a dreamer. An avid reader of fiction since childhood and a passionate global traveler, he believes that "Food is the ultimate medicine." In this book, he masterfully blends his medical expertise with his passion for nutritional management. পেশাদারিত্বের কঠোর নিয়মের মাঝেও তাঁর হৃদয়ে বাস করে এক সৃজনশীল সত্তা। ছোটবেলা থেকেই ফিকশন ও উপন্যাস পড়ার নেশা তাঁকে করেছে জীবনমুখী, আর বিশ্বভ্রমণের শখ তাঁকে চিনিয়েছে বৈচিত্র্য। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় তিনি উপলব্ধি করেছেন-সঠিক পুষ্টিই সুস্থতার মূল চাবিকাঠি। 'পেশার সাথে নেশার মেলবন্ধন' ঘটিয়ে তিনি এই বইয়ে পুষ্টিবিজ্ঞানকে তুলে ধরেছেন এক নতুন আঙ্গিকে।