ইতিহাসের প্রতি আমার অনুরাগ সেই কৈশোর থেকেই। ধুলোবালি জমা প্রাচীন কোনো দেয়াল কিংবা কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্থাপনাগুলোর মাঝে আমি সবসময় শিকড়ের ঘ্রাণ খুঁজে পাই। পেশায় সাংবাদিক হওয়ার সুবাদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য মুসলিম স্থাপত্য খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে আমার।
যখনই কোনো প্রাচীন মসজিদের বিশাল গম্বুজ কিংবা জীর্ণ কোনো ঐতিহাসিক মিনারের সামনে দাঁড়িয়েছি, এক অদ্ভুত মুগ্ধতায় বিমোহিত হয়েছি। হৃদয়ে অনুভব করেছি এক গভীর টান। হৃদয়ের সেই টান থেকেই কলমের টানে জন্ম নিয়েছে- 'বাংলার পরতে মুসলিম কীর্তি'।
এই বইটিতে অর্ধ-শতাধিক মুসলিম স্থাপত্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। চেষ্টা করেছি-এখানে কেবল সেই স্থাপত্যগুলোই স্থান দেওয়ার, যেগুলোর আঙিনায় আমি নিজে দাঁড়িয়েছি এবং নিজের চোখে দেখার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। সবুজ-শ্যামল বাংলায় আরও এমন অসংখ্য ঐতিহাসিক মুসলিম স্থাপত্য রয়েছে-সুযোগ হলে অন্যকোনো বইয়ে সেগুলো উঠিয়ে আনার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
স্থাপত্যগুলোর বর্ণনা, ইতিহাস এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার চেষ্টা করেছি। স্থাপনার পাশে টাঙানো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্যফলক, বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন, উইকিপিডিয়া এবং নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট ও আকর গ্রন্থগুলো থেকে তথ্যগুলো সংগৃহীত ও যাচাই করা হয়েছে।
বইটির কাজ শুরু করেছিলাম ২০১৭ সালে। দীর্ঘ সময়ের পরিক্রমায় অল্প অল্প করে জমিয়ে রাখা তথ্য আর অনুভূতির মিশেলে আজ এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বইয়ের রূপ পেল। আমার এই দীর্ঘ পথচলার নির্যাস যদি কোনো একজন
ইতিহাসপ্রেমী মানুষের মনেও খোরাক জোগাতে পারে, তবেই পরিশ্রম সার্থক হবে।
বাংলার গৌরবময় অতীত এবং মুসলিম কীর্তির শাদাকালো পৃষ্ঠায় আপনাকে স্বাগতম।