রাসুলুল্লাহ সা.-এর পত্রাবলী শুধুই একটি গতানুগতিক বিষয় হিসেবে সাব্যস্থ করা যায় না বরং এটি সকল সম্রাজ্যপতি থেকে শুরু করে প্রত্যেক সম্রাজ্যের সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন আচার-আচরণ, চলাফেরা, মু'আমালাত, মু'আশারাত সকল কার্যাবলীতে প্রাধান্য পেয়েছে। এ সব কিছুর সমষ্টি হলো রাসূল সা.-এর মহান পত্রবলী। বিশেষকরে শাসকগণ তাঁর আদর্শে অভিভূত হয়ে প্রজাদের প্রতি উত্তম আচরণ ও উন্নত জীবনের সকল কর্যাবলীতে বিচরণ করতে সহজ হয়েছে। যা একমাত্র মহানবী সা.-এর আদর্শগত কারণের সম্ভব হয়েছিল। এটি সমগ্র মানুষকে মানবেতর জীব থেকে উ'চতর আসনে প্রতিষ্ঠিত করে। যা উন্নত জাতীর জীবনী শক্তি। একটি জাতীর নৈতিক চরিত্র অক্ষুন্ন থাকলে সে জাতী পৃথিবীর বুকে টিকে থাকতে পারে। এর ব্যতিক্রম হলে শুধু জাতী নয় বরং সমগ্র দেশ ধ্বংশের কাটগোড়ায় পৌছে যায়। হযরত মুহাম্মাদ সা. ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী। তাঁর নবুওয়াতী জীবনের প্রথম দশক মক্কার অসীম মরুময় প্রন্তরে কাটে। সেখানে তিনি পথভ্রষ্ট মানুষদের ইসলামের দিকে আহ্বান করার ফলে মক্কার কাফির-মুশরিক দ্বারা তিনি ও তাঁর সাহাবীগণ নানা রকম কঠোর নির্যাতনের শিকার হন। রাসূল সা. ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে আল্লাহর হুকুমে মদীনায় হিজরত করে এখানেই ইসলামী হুকুমত শক্ত হাতে প্রতিষ্ঠা করেন। যার ফলে বহির্বিশ্বে বৃহত্তর পরিসরে অমুসলিমদের নিকট ইসলামকে প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। বিশ্ব দরবারে ইসলামকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে মহানবী সা. বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে ইসলামের দাওয়াত সংবলিত পত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সমর্থ হন। এরই ফলশ্রুতিতে ৭ম হিজরী সনের শুরুর দিকে রোম, পারস্য, মিসর, আবিসিনিয়া, বাহরায়ন, ওমান, ইয়ামান, সিরিয়া প্রভৃতি দেশের বাদশা, রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিভিন্ন অঞ্চলের গোত্রপ্রধানদের নিকট ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তাঁর স্পেশাল দূত মাধ্যমে অসংখ্য পত্র হস্তান্তর করেন। রাসূলুল্লাহ সা.-এর এ সব পত্রের ভাব, ভাষা, আলংকারিক দিক ও উপশাপনার অনন্যতা সকলের নিকট এতটাই হৃদয়গ্রাহী ও আকর্ষণীয় হয়েছিল যে, তাঁর এই পত্রের আহ্বানে অধিকাংশ রাজা-বাদশা অভিভূত হয়ে রাসূলের হাতে বায়াত গ্রহণ করেন। বস্তুত ইসলামের প্রচার ও প্রসারে রাসূলুল্লাহ সা.-এর ঐতিহাসিক এসব পত্রসমূহের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ইতিহাসের প্রাচীন গ্রসমূহে রাসূলুল্লাহ সা.-এর এসব পত্রাবলী সংরক্ষিত আছে।
প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। জন্ম ১৯৭৩ সালের ১ মার্চ, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত ‘চতরা’ গ্রামে। তার পিতা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শফিকুল্লাহ্ এবং মাতা হাজিয়াহ্ সকিনা বেগম। তিনি চট্টগ্রাম আলমশাহ্ পাড়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৮৮ সালে দাখিল এবং ১৯৯০ সালে আলিম পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে বি.এ.অনার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম এবং ১৯৯৪ সালে এম.এ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ২০০১ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়াও তিনি ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রাম আলমশাহ্ পাড়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল ফিকহে ৪র্থ স্থান এবং ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জ হাজী আহমদ আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল হাদীসে চতুর্দশ স্থান অধিকার করেন। শিক্ষাজীবন সমাপ্তির পর ১৯৯৮ সালের ২৫ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১১ সালের জানুয়ারিতে প্রফেসর পদে পদোন্নতি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি উক্ত বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ: ‘আস্-সিহাহ আস্-সিত্তাহ: পরিচিতি ও পর্যালোচনা’ (২০০২) আল-মাকতাবাতুশ্ শাফিয়া, রাজশাহী। ইসলামী গবেষণা পদ্ধতি (২০১২); ‘আখলাক ও নৈতিকতা: ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি’ (২০১৮) ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ঢাকা। ‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণে ইসলামী ভাবধারা’ (২০২১) বিআইআইটি পাবলিকেশন্স, ঢাকা। ‘পারস্পরিক অধিকার: ইসলামী নির্দেশনা’ (২০২২) এপিএল, ঢাকা। ‘বঙ্গবন্ধুর রচনাবলিতে ধর্মীয় চিন্তাধারা’ (২০২১), সিসটেক পাবলিকেশন্স, ঢাকা। এছাড়াও আরবি ভাষায় তার ৩টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয় (২০০২)। প্রবন্ধ লিখনে ড. মাহবুব অত্যন্ত পারদর্শী। ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন রেফার্ড জার্নালে তার লিখিত ৮০টির ঊর্ধ্বে প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। মাসিক, স্মরণিকা, স্মারক ও দৈনিক পত্রিকায় প্রায় শতাধিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। আল-কুরআনুল কারীম সংক্ষিপ্ত বিশ^কোষে (১ম-৬ষ্ঠ খণ্ড) তার প্রায় দুই শতাধিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।