বিশ্বনবী (স.) এর জন্মের পূর্বাবস্থা ছিল এমন। তার আগের কথা, সেই কঠিন মরুময় দেশটি বিশ্ব গোলকের অর্থাৎ পৃথিবীর ঠিক মাঝখানে
আরব দেশটির অবস্থান। এর পশ্চিমে লোহিত সগার ও ভূমধ্যসাগর। দক্ষিণে ভারত মহাসাগর ও আরব সাগর। উত্তর দিকে সিরিয়ার
মরুভূমি। আর পূর্বদিকে পারস্য উপসাগর। প্রাচীনকালে আরবদের শহর বলতে বোঝাত মক্কা, মদিনা ও তায়েফকে। এর মধ্যে মক্কাই
ছিল খুব নামী দামী শহর। তার মধ্যে মক্কা নগরীতে দুনিয়ার সেরা ঘর পবিত্র কাবা। আল্লাহর প্রিয় ঘর কাবা। পৃথিবীর প্রথম মানুষ, প্রথম
নবী হযরত আদম (আ.) এই কা’বা ঘর তৈরি করেন সর্বপ্রথম। তৈরি করেন আল্লহর নির্দেশে। ঐশ্বরিক ভাবে আল্লাহ তাতে তাঁবু পাঠান
তিনি সেখানে তাওয়াফ করতেন। হযরত আদম (আ.) ইন্তেকাল পূর্বে আল্লাহ সেই তাঁবু পুনরায় আসমানে তুলে নেন। হযরত আদম
(আ.) এর এক পুত্র হযরত শীশ (আ.) একই স্থানে আল্লহর নির্দেশে পুনরায় কা’বা ঘর নির্মাণ করেন। হযরত শীশ (আ.) এর ইন্তেকালের
পর মানুষ আস্তে আস্তে আল্লাহর কথা ভুলে যেতে লাগল। অন্যায় অবিচার ও কুফরি করতে লাগলো। মানুষকে সৎ পথে ফিরিয়ে আনতে
আল্লাহ হযরত নূহ (আ.) কে পাঠালেন নবী করে। কিন্তু অনেকে তার কথা শুনলেন না। হযরত নূহ (আ.) দেখলেন কয়েকজন ছাড়া
সবাই অন্যায় অবিচারে ডুবে আছে। তখন তিনি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলেন। আল্লাহ দিলেন মহাপ্লাবন। এত বড় প্লাবন যে
তাতে পুরো দুনিয়া ডুবে গেলো। কা’বা ঘরও ধ্বংস হয়ে গোলো এই প্লাবনে। সেই মহাপ্লাবনের পর সৎ লোকদের নিয়ে হযরত নূহ (আ.)
নতুন ভাবে বসতি গড়ে তুললেন। কিছু দিন সৎ লোকেরা আল্লাহর পথে থাকলে ও এদের বংশধরগন ও আবার শয়তানের খপ্পরে পড়ে
আল্লাহ কে ভুলে যেতে লাগলো। মানুষ আল্লাহ’র বদলে নিজেরা মাটির মূর্তি বানিয়ে সেগুলোর পূজা করতে লাগলো। দীর্ঘদিন পর আল্লাহ্
আবার মানুষকে সৎপথে ফিরিয়ে আনতে হযরত ইব্রাহীম (আ.) কে নবী বানিয়ে দুনিয়াতে পাঠালেন। তিনি ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল
(আ.) আল্লাহর নির্দেশে পুনরায় কা’বা ঘর তৈরি করলেন। কা’বা ঘর পুন:নির্মাণের আগে আল্লাহর হুকুমে ইব্রাহমি (আ.) তাঁর স্ত্রী বিববি
হাজেরা ও তাঁর শিশুপুত্র ইসমাঈল (আ.) কে কা’বা ঘরের কাছে নির্জন পাহাড়ে নির্বাসন দিলেন। সেখানে জন-মানুষ নেই, গাছ-পালা
নেই, খাবার পানি নেই, ধূ-ধূ বালি আর পাথুরে পাহাড়। সেই বালি আর পাথরেরর পাহাড়ে পানি পাবে কোথায়। বিবি হাজেরা শিশু
ইসমাইলকে কা’বার কাছে বসিয়ে পানির জন্য সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ছোটাছুটি করতে লাগলেন। কিন্তু কোথাও পানি নেই্ অবশেষে
ক্লান্ত হয়ে শিশুর কাছে ফিরে এসে দেখেন শিশুর পায়ের আঘাতের নিচ থেকে বেরিয়ে আসছে সুন্দর পানির ঝর্ণাধারা। এই ঝর্ণাধারা হচ্ছে
আবে জমজম। বিশ্ব বিখ্যাত জমজম কূপ। এই পানি পান করলে রোগ সেরে যায়। ক্ষুধার্ত মানুষের ক্ষিদে মিটে যায়। জম জম কূপের
কারণে সেখানে আস্তে আস্তে জনবসতি গড়ে উঠে।
হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.) এর বংশে আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম। হযরত ইব্রাহীম
(আ.) এর সময় থেকে কা’বায় প্রতি বছর হজ্জ হতো। সেই হজ্জে দুনিয়ার নানা দেশ থেকে লোকজন আসতো।