মনি ও লিপি দুই বান্ধবী। তাদের আরো অনেক বন্ধু-বান্ধবী আছে। কিন্তু তারা দুজন খুবই ঘনিষ্ঠ। প্রতিদিন স্কুল ছুটির পর তারা দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শুধুই খেলাধুলা করে। তাদের বাবা মারা অতিষ্ঠ হয়ে একদিন সবাইকে নিজ নিজ ঘরে তালা বন্দি করে রেখে ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু মনি এতই দুষ্ট যে ঘুমের ভান করে চুপ করে শুয়ে থাকে। যখন মনির মা ঘুমিয়ে যায় তখন আস্তে আস্তে উঠে আর তালা খুলে চুপিচুপি বেরিয়ে যায়। মনি লিপিদের বাসায় গিয়ে লিপিকে ডাকে। লিপি বলে, মনি আস্তে আমার মা এখনো ঘুমায়নি। তুই বাইরে চুপ করে দাড়িয়ে থাক। আমি কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে দিলে চুপচাপ ঢুকে বসে থাকিস। লিপির মা ঘুমিয়ে পড়লে কিছুক্ষণ পর তারা দুজন যখন দরজা খুলে বাইরে যেতে চায় ঠিক তখনই মণির চোখ পড়ে ফুল গাছে। মনি বলে লিপি দেখ দেখ ফুল গাছে কী যেন একটা লাফালাফি করছে।
লিপি বলল, মনি মনে হচ্ছে এটা পরি!
এই কথা শুনে মনি তাড়াতাড়ি করে দরজা বন্ধ করে দিল।
লিপি মনিকে বলে, মনি ভয় পাওয়ার কিছু নেই। দেখিস না, পরিটা কি সুন্দর। পরিটা আমাদেরকে কিছু করবে না। খোল খোল দরজা খোল। পরির সাথে আমরা খেলব। খেলার নাম শুনেই খুশিতে লাফিয়ে দরজা খুলে। দরজা খুলে যখন মনি পরিকে আর দেখল না তখন মনির মন খারাপ হয়ে গেল। লিপি বলল, মন খারাপ করিস না, দেখিস কাল দুপুরে আবারও পারটা আসবে। তখন আমরা পরির সাথে আলাপ করে নিব। পরের দিন দুপুরে তারা আবারও দরজায় বসে থাকে। কিন্তু পরির দেখা মেলে না। লিপি মনিকে বলে, মনে হয় পরি আর কখনোও আসবে না। গতকাল তুই যেভাবে দরজা বন্ধ করে দিলি, তাই পরি রাগ করে চলে গেছে।
লিপি বলে, পরির আশায় বসে থেকে লাভ নেই। যা সবাইকে ডেকে এনে লুকোচুরি খেলব। মন খারাপ করে মনি যখন সবাইকে ডাকতে যায় তখন হঠাৎ দেখে তাদের মধুফুল গাছের ডালে ফুটফুটে সুন্দর একটা মেয়ে মনিকে দেখে । যেনো ফুলপরি ।
সবাই বলে, কিরে তুই এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?
মনি সব কথা খুলে বলে। কিন্তু কেউ তাকে বিশ্বাস করতে চায় না। লিপি বলে চল চল খেলা শুরু করি। কিন্তু মনি কারও কথা না শুনে মন খারাপ করে বাসায় চলে যায়। পরদিন স্কুল থেকে এসে মনি সবাইকে বলে, আমরা প্রতিদিন স্কুল থেকে এসে সেই দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শুধু খেলতেই থাকি। এতে আমাদের পড়ালেখারও ক্ষতি হয়, আর বাবা মাকেও কষ্ট দিই। মনির বন্ধুরা মনির কথা চিন্তা করতে করতে বাসায় চলে যায়। বাসায় গিয়ে পড়তে বসে সবাইকে পড়তে দেখে বাবা মা আজ ভীষণ খুশি । পড়া শেষ করে সবাই যখন বিকেলে খেলতে যায় তখন মনি সবাইকে মধুফুলগাছটার নিচে নিয়ে যায় সবাইকে হাত । দিয়ে দেখায় ঐ গাছের ডালে। সবাই তখন পরিটাকে দেখতে পায়। ভয়ে সবাই চিৎকার করে উঠে।
মনি বলে, ভয়ের কিছু নেই। তোদের গতকাল বলেছিলাম না ঐ পরির কথা দেখলি তোরা আজ সবাই পড়ালেখা করেছিস বলে পরিটাকে দেখতে পেলি। ফুলপরি পা দোলায় আর মিটমিটিয়ে হাসে। ফুলপরি কথা বলে ওঠে যারা ভালো করে পড়ালেখা করে শুধু তারাই আমাকে দেখতে পায়। মনি হাফ ছেড়ে বাঁচে। পরি বলে, আজ থেকে আমিও তোমাদের বন্ধু। কিন্তু পড়ার সময় পড়া আর খেলার সময় খেলা। সেদিন থেকে সবাই পড়ার সময় পড়ে আর খেলার সময় খেলে। চারদিকে পড়াশুনায় ধুম পড়ে যায়। পরির প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে সবাই শুরু করে ফুলগাছ লাগানো। ফুলে ফলে ছেয়ে যায় বাড়ির আঙিনা। ফুলের গন্ধ ও পড়ার গুণাগুণ সব মিলেমিশে, একাকার হয়ে যায় মনি ও লিপির বাড়ির পরিবেশ।