দুই বন্ধুও ভালো মানুষ
আখতারুল ইসলাম
অনেকদিন আগের কথা, এক গ্রামে ছিল একজন ভালো মানুষ। সবাই তাকে ভালো মানুষ বলে
ডাকত। এইজন্য যে, তিনি সবার উপকার করত। কারো ক্ষতি করত না, কেউ বিপদে পড়ে তার কাছে
সাহায্যের জন্য এলে তাকে টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদ দিয়ে সহযোগিতা করত, কিন্তু বিনিময় কিছু চাইত
না। অনেকে টাকা ধার নিত দিতে পারলে দিত, না পারলে দিত না। গ্রামে কোন ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি
হলে, সে লোকটি সুন্দরভাবে সেটা মীমাংসা করত। উভয়পক্ষ খুশি হত। দশ গ্রামে তার নাম খ্যাতি ছড়িয়ে
পড়ে। সবাই তার কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ নিতে আসত।
কিন্তু ভালো মানুষটার একটা মাত্র ছেলে। ছেলেটা সবসময় মন খারাপ করে থাকত। কারণ তার
কোন খেলার বন্ধু ছিল না।
একদিন দু’জন বন্ধু আসে ভালো মানুষটার কাছে। তাদের মধ্যে একটা বিষয়ের মীমাংসা হচ্ছে না,
প্রথম বন্ধু বলল, ভালো মানুষ দেখুন আমি আমার বন্ধুকে বেশি ভালোবাসি।
দ্বিতীয় বন্ধু বলল, না আমি ওকে বেশি ভালোবাসি, অর্থাৎ কে কাকে বেশি পছন্দ করে তা পরিমাপ
করতে ভালো মানুষের কাছে আসা। ভালো মানুষ ব্যাপারটা বুঝতে পারে। ভালো মানুষ বলল, আচ্ছা ঠিক
আছে, আমি দেখি সত্যি কে কাকে বেশি ভালোবাসে।
ভালো মানুষ বলল, দেখ্ আমার একমাত্র ছেলে রোহান, ওর কয়দিন থেকে মন খারাপ। ওর মন
খারাপ কেন আমি জানি, ওর একটা খেলার সাথি চাই। ওর যেহেতু কোন ভাই-বোন নেই, তাই সে খেলতে
পারে না। যে আগে আমাদের চাহিদা অনুযায়ী খেলার সাথি আনতে পারবে, তখন আমি বুঝতে পারবো।
সে সত্যি অপর বন্ধুকে বেশি ভালবাসে।
ঃ দুই বন্ধু একথা শুনে বলল, এ আর এমন কি কাজ!
ঃ ছেলে রোহান বলল, আমার হীরের চোখওয়ালা সোনার পুতুল চাই, যাকে নিয়ে আমি খেলব।
দু’বন্ধু চলল সোনার পুতুলের খোঁজে, হাঁটতে হাঁটতে অনেক দূরে চলে আসে। ক্লান্ত হয়ে বসে
একটা বড় বটগাছের নিচে, হঠাৎ দেখল এক বৃদ্ধ লোক লাঠি ভর দিয়ে আসছে। দুই বন্ধু বলল, আচ্ছা
এই বৃদ্ধ লোকটাকে জিজ্ঞাসা করি।
বৃদ্ধ লোকটি কাছে এসে বলল, কি হয়েছে তোমাদের? এমন বিমর্ষ হয়ে বসে আছ কেন?
দুই বন্ধু ব্যাপারটা খুলে বলল। বৃদ্ধ বলল এই কথা, শোন আমার কাছে একটা পুতুল আছে, সেটা
সোনার পুতুল, হীরের চোখও ছিল, আমার পেছনে একটা ঘন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হেঁটে আসতে প্রচন্ড
একটা ঝড় আসে। সেই ঝড়ে আমার থলে ওড়ে যায়। থলের সব জিনিসপত্র হারিয়ে যায়। থলেতে ছিল
পুতুলটাও। পুতুলটা পেলেও পায় নি তার দু’টো হীরের চোখ। তোমরা যে আগে চোখ দুটো খুঁজে আনতে
পার, তবে সে এই পুতুল পাবে। আমি এখানে তোমাদের জন্য অপেক্ষা করব। একথার পর দু’বন্ধু হাঁটতে
শুরু করে হীরের চোখের খোঁজে, কিছু দূর গেলে দেখতে পায় একটা গভীর বন। ওরাতো খুশি।
খুঁজতে শুরু করে হীরের চোখ, তন্ন তন্ন করে খোঁজে বনের বিভিন্ন ঝোপে ঝাড়ে, গাছের গোড়ায়।
কিন্তু পায় না কোথাও, হঠাৎ দ্বিতীয় বন্ধু দেখল, একটা সাপ দুটি হীরের মনিকে ঘিরে রেখেছে, প্রথম
বন্ধুকে বলল, ঐ দেখ্।
দেখলেও দুই বন্ধু কিভাবে নেবে ভাবছে। নিতে গেলে জীবন নাশের সম্ভাবনা আছে। প্রথম বন্ধু বলে,
আমি নিই, মরে গেলে অন্তত বলতে পারবি, তোর বন্ধুত্বের দাম দিতে গিয়ে মরেছি।