গবেষণা কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন উপাত্ত সংগ্রহের নাম নয়; বরং এটি বিদ্যমান জ্ঞানের শূন্যস্থান পূরণের একটি সুশৃঙ্খল বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। সঠিক পদ্ধতিগত কাঠামোর অভাবে বহু নবীন গবেষকের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের কাজও আন্তর্জাতিক পিয়ার-রিভিউড জার্নালে প্রকাশনার মুখ দেখে না। ‘গবেষণার কম্পাস: শূন্য থেকে গবেষণা ও প্রকাশনা’ গ্রন্থটি মূলত সেই পদ্ধতিগত শূন্যস্থান পূরণের একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যাকাডেমিক রূপরেখা।
এই বইটিতে একজন শিক্ষানবীশ গবেষকের জন্য একটি তাত্ত্বিক ধারণাকে কীভাবে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপত্রে রূপান্তর করতে হয়, তার ধাপে ধাপে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।
বইটিতে যা যা থাকছে:
পাণ্ডুলিপি রচনার কৌশল: আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইএমআরএডি (IMRaD) মডেলের ভিত্তিতে নিখুঁত গবেষণাপত্র বা থিসিস লেখার নিয়ম।
উপাত্ত বিশ্লেষণ: স্মার্টপিএলএস (SmartPLS) সফটওয়্যার ব্যবহার করে কাঠামোগত সমীকরণ মডেলিং (PLS-SEM) ও পরিমাণগত ডেটা বিশ্লেষণ।
নমুনা আকার নির্ধারণ: জি-পাওয়ার (G*Power) সফটওয়্যারের সাহায্যে গবেষণার জন্য ন্যূনতম নমুনা বা স্যাম্পল সাইজ নির্ণয়।
প্রকাশনার প্রস্তুতি: গবেষণা সমস্যা সংজ্ঞায়ন, বিজ্ঞানভিত্তিক সাহিত্য পর্যালোচনা (Literature Review) এবং প্লেজারিজম পরিহারের কৌশল।
জার্নাল সাবমিশন: সঠিক জার্নাল নির্বাচন, মানসম্মত কভার লেটার তৈরি, পাণ্ডুলিপি জমা দেওয়া এবং পিয়ার রিভিউয়ারদের প্রশ্নের যৌক্তিক উত্তর প্রদানের সম্পূর্ণ নির্দেশিকা।
এছাড়াও লিটারেচার ম্যাট্রিক্স থেকে শুরু করে কভার লেটার তৈরি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের ব্যবহারিক টেমপ্লেট যুক্ত থাকায় এটি গবেষকদের দীর্ঘ ও জটিল পথকে করবে সুগম এবং পদ্ধতিগতভাবে নিশ্ছিদ্র।
বইটি কাদের জন্য?
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী, থিসিসরত ছাত্রছাত্রী, নবীন শিক্ষক এবং যাঁরা নিজেদের গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনায় রূপান্তর করে অ্যাকাডেমিক জগতে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে চান, তাঁদের জন্য এই গ্রন্থটি এক নির্ভরযোগ্য মানচিত্র হিসেবে কাজ করবে।
গ্রন্থকার পরিচিতি:
ওয়াহিদুর রহমান তাঁর অ্যাকাডেমিক গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক জার্নালের পিয়ার রিভিউয়ার হিসেবে কাজ করার বাস্তব জ্ঞান থেকে বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়কে অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠভাবে সাজিয়েছেন। পদ্ধতিগত উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে তাঁর এই গ্রন্থ গবেষকদের জন্য একটি চূড়ান্ত গাইডলাইন।
প্রযুক্তি আর প্রজ্ঞার নিবিড় মেলবন্ধনে গড়া নাম ওয়াহিদুর রহমান, যিনি ডিজিটাল ভুবনে ‘ফ্রিল্যান্সার ওয়াহিদ’ নামে সমধিক পরিচিত। নব্বইয়ের দশকের শেষলগ্নে নোয়াখালীর স্নিগ্ধ আবহে জন্ম নেওয়া এই স্বপ্নদ্রষ্টা বর্তমানে ঢাকার বাসিন্দা হলেও, তাঁর মননে মিশে আছে শেকড়ের ঘ্রাণ। ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে তিনি যেমন অতীতকে দেখার চোখ রাখেন, তেমনি ব্যবসায় প্রশাসনের গবেষক হিসেবে বুনতে জানেন আগামীর স্বপ্ন। যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র—আন্তর্জাতিক কর্মপরিধিতে বিচরণ থাকলেও তাঁর শেকড় প্রোথিত বাংলা সাহিত্যে। এলসেভিয়ারের মতো বিশ্বখ্যাত জার্নালের রিভিউয়ার কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণা—সবখানেই তিনি রেখেছেন মেধার স্বাক্ষর।
তাঁর লেখনী তরুণদের দেখায় স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন ও আত্মজাগরণের মন্ত্র। ‘জীবনের জ্যামিতি’ কিংবা ‘প্রজ্ঞার পাঠশালা’-য় তিনি যেমন জীবনের সমীকরণ মিলিয়েছেন, তেমনি ‘আমি হবো ফ্রিল্যান্সার’ ও ‘নিজেকে জাগাও’ বই দিয়ে দেখিয়েছেন আলোর পথ। প্রযুক্তিগত দক্ষতা আর সৃজনশীলতার মিশেলে তিনি তাঁর পাঠকের জন্য তৈরি করেন এমন এক জগত, যা কেবল তথ্য দেয় না—বরং ভাবায় ও স্বপ্ন দেখায়।