“কথকতা: গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বুদ্ধিজীবিতা প্রসঙ্গে সাক্ষাৎকার" বইটির ফ্ল্যাপ এর লেখাঃ “...যদি সমাজে মুক্তিযুদ্ধের যথার্থ চেতনায় উজ্জীবিত যুগােপযােগী কোনাে নতুন। রাজনৈতিক শক্তির অভ্যুদয় ঘটে, তবে আমাদের পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া শুরু করতে বাধ্য । মুক্তিযুদ্ধের বস্তুনিষ্ঠ চেতনার। আলােকে প্রণীত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দর্শনসমূহ যখন আমাদের গােটা সমাজে প্রধান ধারা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হবে, তখনই কেবল একটি যথার্থ জনপ্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, বৈষম্যহীন অর্থনীতি ও সেকুলার সমাজ ও রাষ্ট্র এদেশে কায়েম হওয়ার পথ সুগম হবে-তার আগে নয়। সে কারণেই সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রশ্নে, কিংবা মুক্তিযুদ্ধের গণচেতনা বাস্তবায়নের প্রশ্নে, সময়ের পাটিগাণিতিক হিসাব নিতান্তই অপ্রাসঙ্গিক। পরিবর্তনের জন্য অতএব সবচেয়ে যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হলাে, প্রচলিত ব্যবস্থাসমূহকে কার্যকরভাবে চ্যালেঞ্জ করা; এবং তা যুক্তি দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে সাহসের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ। করা। একই সঙ্গে সৃষ্টিশীল নতুন রাজনৈতিক ভাবনা বৃহত্তর জনসমাজে সঞ্চারিত করা । অর্থাৎ প্রচলিত বন্ধ্যা রাজনীতির প্রভাবমুক্ত বুদ্ধিজীবিতার একটা সবল সংগ্রামের সূচনা। করার ভেতর দিয়ে সমাজে গণতান্ত্রিক শক্তির উদ্বোধন ঘটানােটাই এ মুহূর্তের জরুরি। কর্তব্য। কারণ, ইতিহাস অন্ধ-ইতিহাসকে পথ দেখিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। আমাদের ইতিহাসকে আলাের পথে এগিয়ে। নেয়ার জন্য এ মুহূর্তে অতএব সবচেয়ে বেশি প্রয়ােজন আলােকিত গণতান্ত্রিক। বুদ্ধিজীবিতার প্রবল উত্থান।”
Title
কথকতা: গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বুদ্ধিজীবিতা প্রসঙ্গে সাক্ষাৎকার
১৯৬০ সালের শেষার্ধে মুন্সিগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮০’র দশকের প্রথমার্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি ছাত্রসমাজের সামরিকতন্ত্র-বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম গড়ে তোলা ও বিকশিত করার ক্ষেত্রে অন্যদের সঙ্গে তিনি লড়াকু নেতৃত্বমূলক ভূমিকা পালন করেন। ছাত্রজীবন শেষেও কয়েক বছর তিনি প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।
১৯৯০’র দশকের শুরুতে সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরপ্রয়াসী বৃহত্তর সংগ্রামে স্বাধীনভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক ভূমিকা পালনের উদ্দেশ্যে তিনি সাংবাদিকতা পেশা গ্রহণ করেন। প্রায় দেড় দশক রাজনৈতিক সাংবাদিকতা চর্চার পর, ২০০৫ সাল থেকে স্পষ্টবাদী ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজ সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করছেন। ইংরেজি ভাষায় সক্রিয় সাংবাদিকতার পাশাপাশি বাংলা ভাষার মাধ্যমে তিনি দেশের ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি, সাংবাদিকতা ও বুদ্ধিজীবিতাসহ জনগুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে, জনপরিসরে, তাঁর জনস্বার্থপরায়ণ বিশ্লেষণ ও মতামত নিয়ে সরব সক্রিয়তা জারি রেখেছেন। ইতোমধ্যে একজন তীক্ষ্ণধী ইতিহাস-গবেষক হিসেবেও তিনি দেশের বিদ্বৎসমাজের সমীহ অর্জন করেছেন। সমাজে ‘উচ্চশির জনবুদ্ধিজীবী’ হিসেবে খ্যাত নূরুল কবীর স্বভাবতই শাসকশ্রেণির প্রতিটি সরকার ও তার দোসরদের বিদ্বেষী আচরণের শিকার হয়েছেন।
কবীর বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই লিখে থাকেন। তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলন : মানুষের সৃজনশীল উত্থান প্রসঙ্গে (১৯৯১), নৈর্বাচনিক স্বৈরতন্ত্র ও গণতন্ত্রের সংগ্রাম (২০১২), The Red Moulana (2012), Deposing of a Dictator:Revisiting a Magnificent Mass Uprising after 50 Years (2020), Birth of Bangladesh: The Politics of History and the History of Politics (2022) ও কথকতা (২০২৩)।