মানুষের জীবনে কিছু স্মৃতি, কিছু চরিত্র, কিছু আদর্শ এমনভাবে গেঁথে থাকে, যা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও হৃদয়ে চিরন্তন হয়ে থাকে। তেমনই একজন ব্যতিক্রমী চরিত্র মতিউর রহমান নিজামী—যিনি ছিলেন একজন আদর্শবান রাজনীতিক, ইসলামপ্রিয় সমাজনেতা এবং আত্মত্যাগ ও ন্যায়পরায়ণতার প্রতীক।
১৯৪৩ সালে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মনমথপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া নিজামী সাহেব ছাত্রজীবন থেকেই ইসলামি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ধর্মীয় মূল্যবোধ, শালীনতা ও আদর্শিক দৃঢ়তায় তিনি ছিলেন ব্যতিক্রমী এক নেতৃত্বের প্রতীক। ২০১৬ সালে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যা নিয়ে আজও বিতর্ক রয়েছে—তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও ভাবুকদের কাছে তিনি একজন শহীদ, একজন আদর্শ পুরুষ।
তাঁকে কেন্দ্র করে গীতিকবি ও শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ রচিত ‘শহীদ নিজামীকে জানি’ শিরোনামের গ্রন্থটি শুধু তাঁর জীবন ও কর্মকে তুলে ধরার প্রয়াস নয়, বরং একটি সময়, একটি ভাবধারা ও একটি আদর্শিক সংগ্রামের চিত্রায়ন। এই গ্রন্থে লেখক নিজামী সাহেবের আদর্শ, আত্মত্যাগ, নির্যাতনের ইতিহাস এবং তাঁর অন্তর্নিহিত শক্তিকে কবিতার ছন্দে, ভাষার গাঁথুনিতে ও মমতার নিশ্বাসে তুলে ধরেছেন।
‘শহীদ নিজামীকে জানি’ বই শুধু একটি স্মারক নয়, বরং একটি নীরব প্রতিবাদ, একটি বিশ্বাসের পুনরুচ্চারণ এবং একটি ইতিহাসকে ধরে রাখার সচেতন প্রয়াস। কবি তাঁর ভাষায় শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতাকে যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে নিঃসন্দেহে। এই মহতী প্রয়াসের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। লেখকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই গ্রন্থটির সাফল্য কামনা করছি।
আবুল কালাম আজাদ একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও গীতিকবি। তাঁর জন্ম ১৫ জুলাই ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার মনমথপুর গ্রামে। পিতা আব্দুল হামিদ ও মাতা মোছাঃ হামিদা।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনে তিনি বি.এ. ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি সি-ইন-এড প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন, যা তাঁকে একজন দক্ষ ও দায়িত্বশীল শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থেকে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে চলেছেন।
লেখালেখির প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে। তিনি সমাজ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন এবং পাঠকের মধ্যে চিন্তার খোরাক জোগান।