৩৬ শে জুলাই - অমর একুশে বইমেলার বেস্ট সেলার বই
কিছু তারিখ থাকে, যা ইতিহাসের পাতায় লেখা হয় না—লেখা হয় মানুষের হৃদয়ে, সংগ্রামে, রক্তে। "৩৬ শে জুলাই" তেমনই এক নাম, যা ক্যালেন্ডারে নেই, অথচ বিপ্লবের আগুনে জ্বলছে কোটি মানুষের হৃদয়ে।
এই বাংলার আকাশে যে কিশোরের হাত প্রথম মুষ্টিবদ্ধ হয়েছিল, যে তরুণের চোখ প্রথমবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠেছিল, যে জনতার কণ্ঠ একসঙ্গে দাবানলের মতো গর্জে উঠেছিল—তাদের স্মরণে লেখা হয়েছে এই গল্পের বইটি।
"রাজা আসে রাজা যায়,
আমজনতা আমই রয়"
গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার হাত বদল হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না। যা আমরা ইতিহাসে ৬৯ এবং ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানে দেখতে পাই। শুধুমাত্র আমাদের গণঅভ্যুত্থানগুলোই নয় বিভিন্ন দেশের গণঅভ্যুত্থানের একই চরিত্র। উদাহরণ হিসেবে সাম্প্রতিক কালের শ্রীলঙ্কার গণঅভ্যুত্থানের কথা যেমন বলা যায় তেমনি ভাবে রুশ বিপ্লব থেকে আরব বসন্ত প্রতিটি বিপ্লবেই হাজারো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে ক্ষমতার হাত বদল হলেও সাধারণ জনগণের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। এখন প্রশ্ন হলো এবারও কি প্রায় ২ হাজার শহীদের রক্তে হাত ভিজিয়ে আমরা একই পথে হাঁটছি?
গত ছয়মাসে আমাদের যে পরিবর্তনের চিত্র—
🛑 দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি – সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি এখনো বন্ধ হয়নি!
🛑চাকরির সংকট – শিক্ষিত তরুণরা কাজের অভাবে দিশেহারা!
🛑নিম্ন মজুরি, উচ্চ ব্যয় – মঞ্চে হাততালি পাওয়া নেতাদের সেদিকে নজর নেই!
🛑শিক্ষার দুরবস্থা - যা শিখি তা কোনো কাজে লাগে না!
🛑স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম - সরকারি হাসপাতালে ঔষধ থাকে না!
🛑রাজনৈতিক অন্ধত্ব - মানুষের সেবা নয়, স্বার্থহাসিল করায় পরম ধর্ম!
🛑আমলাতন্ত্র - পা চাটা কেরানিরা নতুন দলে ভিড় করেছে!
গণঅভ্যুত্থানের একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে তা হলো যখনই সমাজ বা রাষ্ট্রে জুলুম এবং অন্যায় অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাবে তখনই মানুষ রাস্তায় নামবে এবং অভ্যুত্থান করবে। অথাৎ আমরা যদি এই ফ্যাসিবাদের কাঠামোগত পরিবর্তন করতে না পারি তাহলে আওয়ামী লীগ আসুক আর যেই দলই আসুক তাতে দেশ ও সাধারণ জনগণের কোনো লাভ হবে না। ফেব্রুয়ারী, মার্চ, জুলাই হোক কিংবা আগস্ট তা বার বার ফিরে আসবেই।
📕৩৬ শে জুলাই
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সত্য ঘটনা অবলম্বনে এ বইয়ে মোট ৫ টি গল্প আছে:
০১. রক্তখেকো জুলাই
০২. রাজপথে রক্তজবা
০৩. দ্বিতীয় স্বাধীনতা
০৪. দেখা হবে শাহবাগে
০৫. বৈজ্ঞানিক গণতন্ত্র
🩸রাজপথে রক্তজবা গল্পের কিছু অংশ
রাস্তা পার হচ্ছিলাম এমন সময় একটা লাশ চোখে পড়তেই গা শিউরে উঠলো। ছেলেটার বয়স ১৪/১৫ হবে বলে মনে হলো। গুলির আঘাতে পুরো বুকটা লাল হয়ে আছে। আমি একটুও অবাক না হয়ে মূর্তির মত তার পাশে দাঁড়িয়ে পড়লাম। মনে হচ্ছে যেন আমি রাজপথে ফোটা একটি রক্তজবা দেখছি।
হঠাৎ দুজন র্যাব সদস্য আমার দিকে এগিয়ে আসলো। রাস্তার ওপারে পৌঁছাতেই তারা আমাকে ধরে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে গাড়ির দিকে নিয়ে যেতে থাকলো। আমি কোথাও কোনো সাংবাদিককে দেখতে পেলাম না। রাস্তায় কোনো সাধারণ জনতাকেও দেখতে পেলাম না যে বলবো, দেখেন আমাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, দয়া করে আপনারা আমাকে বাঁচান। তবে গাড়িতে তোলার আগে একজনকে বিনয়ের সাথে জিজ্ঞেসা করলাম- স্যার আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কেন?
সে অনেকটা রাগান্বিত কন্ঠে বললো, ন্যাকামি, রাজাকারের বাচ্চা কিছু বুঝিস না৷ তুই শিবির করিস, তোর মুখে দাড়ি আর গায়ে পাঞ্জাবি দেখেই আমরা বুঝতে পেরেছি। থানায় নিয়ে গিয়ে বিচিতে ঢলা দিয়ে তোর ন্যাকামি ছুটাবো।
এরপর তারা আমাকে গাড়িতে তুললো। গাড়ির মধ্যে আরো একজনকে দেখতে পেলাম। তার বয়স ১৭ বছরের মত মনে হলো। হয়তো আন্দোলন করার সময় ধরা খেয়েছে। সারা গায়ে মারের দাগ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে থানায় নেওয়ার আগেই ঢলা খেয়েছে৷
মিনিট দশেক পর মোটরসাইকেল যোগে দুইজন লোক এসে ছেলেটাকে নিয়ে যেতে চাইতেই ছেলেটি আমাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে বলতে লাগলো, ভাই আমাকে বাঁচান, এরা আমাকে মেরে ফেলবে।