
User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
অসাধারণ একটা বই।
Was this review helpful to you?
or
বই: গুলদাহ লেখকঃ জাহিদ রহমান রিভিউঃ মুমিনুর রহমান "গুলদাহ" যেন বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটের এক প্রতিচ্ছবি- গ্রামের মানুষের সুখ-দুঃখ জীবনযাপন, আশা-আকাঙক্ষা, স্বপ্নভঙ্গ সবকিছু ফুটে ওঠেছে উপন্যাসটিতে। সংসারে অঢেল টাকা পয়সা থাকলে বা কোন অভাব অনটন না থাকলেও সুখী হওয়া যায় না যদি না সেই সংসারে স্নেহ, মায়া,মমতা, একে অপরের সুখ-দুঃখের সাথী, ভালবাসা না থাকে। সমাজে উঁচু শ্রেণির মানুষেরা সবসময় গরীব অসহায়দের ওপর জুলুম করে, তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেয়। তারা কখনো চায় না নিম্নবিত্তরা সুখে শান্তিতে থাকুক।গ্রামের মেম্বারের চরিত্রে এই চিত্রটি ফুটে ওঠেছে। সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার, তারা কিভাবে চোরাচালান, মাদক,ইয়াবা সহ অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ে। চাইলেও সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না।মাদক চোরাচালান, অবৈধ উপায়ে অঢেল অর্থ উপার্জন করে শান্তিতে থাকা যায় না, শান্তিতে ঘুমোনো যায় না। চিত্রগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ ফুটে ওঠেছে উপন্যাসটিতে। উপন্যাসটিতে ফুটে ওঠেছে স্বাধীনতার ৫০ বছরও সমাজপতিরা নিম্নবিত্তদের ওপর কিভাবে জুলুম করে।সুকৌশলে তাদের কিভাবে আরও নিচে নামানো যায়, কিভাবে লালসার স্বীকার বানানো যায়। উদাহরণ:- আলকেসের জমিতে পানি ঠিকমতো না দেওয়াতে তার ফসল নষ্ট হল কিন্তু আলকেস কার কাছে বিচার চাইবে! অপরদিকে লাইলি মেম্বারের কু প্রস্তাবে রাজি না হলে তার স্বামীর বড় বিপদ হবে। তাকে কে বাচাবে! কার কাছেই বা বিচার চাইবে! সমাজে যেসকল অপরাধ সংঘটিত হয় তার আড়ালে এমন মোড়ল, সমাজপতিরায় জড়িত থাকে। সবশেষে কোন অপরাধীই যে অপরাধ করে পালিয়ে বাচতে পারে না, একদিন না একদিন অপরাধের সাজা পেতেই হয় লেখক মানিক ও আলকেস এর চরিত্রে তা ফুটে তুলেছে। অপরদিকে সমাজপতিরাই কেবল গা ঢাকা দিয়ে বেচে যায়। তাদের কখনো কেউ সন্দেহ করে না। কখনো কেউ কিছু বলতেও চায় না। সমাজে তারাই যেন মহান। সমাজে নিরবে এমন রহ রহ ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে সকলের দৃষ্টিগোচরে তাই এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে এসবের বিরুদ্ধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আওয়াজ তুলা উচিৎ। ধন্যবাদ জানাই লেখন জনাব জাহিদ রহমান স্যারকে এমন বাস্তব প্রতিচ্ছবি তুলে ধরার জন্য।
Was this review helpful to you?
or
বইয়ের নামঃ গুলদহ ধরনঃ উপন্যাস লেখকঃ জাহিদ রহমান প্রকাশকঃ পেন্সিল পাবলিকেশনস প্রকাশকালঃ মুজিববর্ষ, অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২১ প্রচ্ছদঃ মো. সাদিতউজজামান গুলদহ বইটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে যখন জেনেছিলাম, তখন থেকেই আগ্রহ ছিল বইটি পড়ার। রাজশাহীর বাসিন্দা হওয়ায়, ছোট থেকেই জানি রাজশাহী, চাঁপাই-নবাবগঞ্জ এলাকার লোকজন ভারত থেকে বে-আইনীভাবে অনেক জিনিস পাচার করে আনে। পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে তারা যায়, আবার স্থল-সীমান্ত দিয়েও তাদের আসা-যাওয়া। ছোটবেলায় দেখতাম বাড়িতে প্রায়ই কিছু মহিলা আসতো বোঁচকা বাঁধা ভারতীয় শাড়ি বিক্রি করতে, যেগুলোর ছিল বেশ কম দাম। শুনতাম এগুলো চোরাই শাড়ি। আমি শিশু-বয়সের কৌতূহলে জিজ্ঞেস করতাম সেই মহিলাদের, আপনারা ইন্ডিয়া থেকে নিয়ে এসেছেন এইগুলো? তারা অস্বীকার করলে হতাশ হতাম, ইচ্ছা হতো চোরাকারবারীদের দেখার। শুনতাম অনেক গরুও আসে ভারত থেকে। আরেকটু বড় হলে জানলাম প্রচুর ফেন্সিডিল আনা হয় সেখান থেকে, আর অন্য কিছু নেশার দ্রব্যও। ইয়াবার নাম শুনেছি অনেক বড় হয়ে, এটা বোধহয় সর্বশেষ সংযোজন। কাজেই ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে চোরাই মাল পাচারের কথা শুনেই বড় হয়ে উঠেছি, কিন্তু কখনো এরচেয়ে বেশি কিছু জানতে পারিনি। কারা-কেমন পরিবারের লোকেরা যায় সেখানে, কিভাবে যায়, পুলিশ কেন তাদের ধরতে পারেনা এসব জানবার আগ্রহ একসময় খুব ছিল মনে। গুলদহ বইটা মূলত এইসব চোরাকারবারীদের নিয়ে, তবে রাঘব বোয়ালদের কথা এখানে আসেনি। যারা এই দুষ্টচক্রের সবচেয়ে নিচের দিকে থাকে; যারা সশরীরে পথে নামে, ঝুঁকি নেয়, পুলিশের ধাওয়া খায়, ধরা পড়লে জেল খাটে- যারা এই দুষ্টচক্র থেকে বেরোতে চাইলেও জাল ছিঁড়ে সহজে বের হতে পারেনা সেইসব প্রান্তিক মানুষ এর প্রধান উপজীব্য। আর যাদের হাতের পুতুল হয়ে থাকে এই সব পাইটেরা বা গরু আনার রাখালেরা- সেই সব ক্রীড়ানকদের দেখা পেলাম উপন্যাসটিতে। কৌতূহলী মনের সামনে বেশ স্পষ্ট একটা চিত্র আঁকা হয়ে গিয়েছে এখন। হয়ত আরো অনেক বই আছে এসব নিয়ে, কিন্তু এই এলাকার চোরাকারবার নিয়ে তেমন ভাল কোন বই পড়ার সৌভাগ্য আমার এখনো হয়নি। তাই বলা যায় গুলদহ বেশ নতুন একটি জগতের সন্ধান দিল আমাকে, আমাদের খুব কাছেই কিন্তু জানাশোনার বাইরে এক জনজীবনের খোঁজ পেলাম এখানে। বে-আইনী কাজ, চোরাকারবার, জুয়া আর মাদকের নেশায় ডুবে থাকা মানুষগুলোর জীবন আসলে কী রকম, কেমন নেশার নীল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন তাদের চিন্তার জগৎ, কী ভাবে বিবেকহীন হয়ে ওঠে তারা- এমন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তাদের সম্পর্কে আগে জানিনি। গুলদহ উপন্যাসের শুরুটা এক মৃতদেহকে ঘিরে। গুলদহ বিলের কচুরিপানার ভেতরে পাওয়া যায় সেই মৃতদেহ, লাইলি নামের এক গৃহবধূর। এরপর লাইলিকে ঘিরে যে মানুষগুলোর কারো লোভ-লালসা, কিংবা কারো প্রেম-স্বপ্ন আবর্তিত হয়েছে, অথবা যে মানুষগুলোর আঙ্গুলের ইশারায়- কুটিল ষড়যন্ত্রে আবর্তিত হয়েছে লাইলির নিজের জীবন, তারা সবাই এসেছে ঘুরে ফিরে। কাহিনি চিত্রণে বেশ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন লেখক- বইয়ের একেকটি অধ্যায় একেক কুশীলবের বয়ানে বর্ণনা করে। সবার ভাষ্য পেয়ে একটা মাকড়সার জালের মত দুষ্টুচক্রের আদল দেখা যায়, যার ভেতরে একবার জড়ালে আর ছাড়া পাবার সহজ কোনো পথ নেই। কলমের আঁচড়ে ফুটে উঠেছে এই কালো জগতের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, পরশ্রীকাতরতা, বিবেকহীন লাম্পট্য আর নারী-লোলুপতা। জুয়াড়ি আর নেশাসক্ত স্বামী মানিকের সংসার থেকে কোনক্রমে মুক্তি পেয়ে লাইলি আবার ঘর বেঁধেছিল নিরীহ আলকেসের সাথে, যাকে নিয়ে সমস্ত কলুষতা থেকে দূরে পালিয়ে পাপমুক্ত ভয়হীন সুখের সংসার বাঁধতে চেয়েছিল সে। টাকাই সব নয়, মানিকের সংসার করার পর এই সারসত্যটা বুঝেছিল লাইলি। “মানিকের কাছে ভালো খাওয়া-পরা ছিল, ভালো ঘর ছিল। সবই ছিল, খালি সুখ ছিল না।“ (পৃষ্ঠা ৪৬) আলকেসের ঘরে সেই সুখের দেখা পায় সে। দারিদ্র ছিল, পরিশ্রম করে কষ্ট করে সেই দারিদ্রকে জয় করতে চেয়েছিল তারা। কোনো অন্যায় পথে পা বাড়াতে চায়নি। লেখকের ভাষায় লাইলির যে ভাবনাটা ফুটে ওঠে তা কতই না সুন্দর- “কতো স্বপ্ন লাইলির, ভাগ্য ফিরাইতে সব কষ্ট সে করবো। কষ্টের টাকায় ডাল-ভাতে যে সুখ তার এক কণাও মানিকের দুই নম্বরি টাকায় ছিলনা। লাইলির এখন নিজেরে সুখী সুখী মনে হয়।“ (পৃষ্ঠা ৫০) কিন্তু তাদের সমাজ তো বড়ই নির্দয়। চোরাকারবারিদের পাতি নেতা কাজেম কিংবা সর্ষের মধ্যের ভূতের মত এলাকার লম্পট মেম্বার, চারদিকে বিছানো লোভ আর ভয়ের জাল তাদের রেহাই দেয়না। এই সমাজে কিছু মানুষ সবসময়েই অন্যের হাতের পুতুল হয়ে থেকে যায়, কিছু মানুষের লোভ হয় অফুরন্ত, কিছু মানব সন্তানের মধ্যে মানবিকতার লেশমাত্র থাকেনা। লাইলির দুর্ভাগ্য, সমস্ত জটিলতা থেকে দূরে পালিয়ে সংসার সাজানো তাদের আর হলোনা। আলকেসও পারেনি নিজেকে চোরাকারবার থেকে সরিয়ে রাখতে। আর স্বপ্ন-দেখা লাইলি; এই সমাজ-পরিবেশ আর মানুষের নির্দয়তা এবং তার নিজের কিছু ভুল, কিছু অদূরদর্শিতার কারণে শেষ পর্যন্ত তাকে লাশ হয়ে পড়ে থাকতে হলো গুলদহ বিলের কচুরিপানার আড়ালে। লাইলি ভুল করেছে বলছি, কারণ তার জন্যে আমার মায়া হলেও পুরো সহানুভূতি সে আমার পায়নি। নারী-লোলুপ পুরুষদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা তার পক্ষে একেবারে অসম্ভব ছিল বলে আমার মনে হয়নি। লেখক তার অসহায়ত্বকে আরেকটু জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে পারলে সে পাঠকের সম্পূর্ণ সহানুভূতি পেত বলে আমার মনে হয়। ভাল লাগার পাশাপাশি ভাল না লাগা দুয়েকটি বিষয়ও বলি। লেখক বইয়ের প্রথমদিকে কিছু শব্দের পাশে বন্ধনির মাঝে অর্থ দিয়ে দিয়েছেন। এটি উপন্যাস; প্রবন্ধ বা প্রামাণ্যলেখ নয়। এভাবে শব্দের অর্থ দেওয়ায় সাহিত্যের গতির ছন্দপতন ঘটেছে বলেই মনে হয়েছে। আঞ্চলিক শব্দগুলো অন্য এলাকার পাঠক বুঝবেনা বলেই লেখক এ কাজটা করেছেন, কিন্তু উপন্যাসের ক্ষেত্রে এটা সৌন্দর্যহানিকর। নিতান্তই প্রয়োজন মনে করলে পাদটীকার আকারে শব্দার্থগুলো দেওয়া যায় অথবা বইয়ের একদম পেছনে। আর একটি বিষয়ে ঠিক আরামবোধ করিনি। নাটকের মত করে সংলাপ লেখাটা। বইয়ে কোথাও বর্ণনার মধ্যেই সংলাপ এসেছে, আবার অনেক জায়গাতেই নাটকের মত করে সংলাপ দেওয়া হয়েছে। লেখক হয়ত নতুনত্ব আনতে চেয়েছেন। আর, সংলাপের আঞ্চলিক ভাষাটা আরেকটু যথাযথ হলে লেখাটা আরো বেশি বাস্তব হতো, পড়তেও ভাল লাগত আরো বেশি। তবে সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভাল লেগেছে অবশ্যই। কিছুটা ব্যতিক্রমী পটভূমিতে এক অন্ধকার জগতের বাস্তব চিত্র আমাদের সামনে নিয়ে এসেছেন লেখক জাহিদ রহমান। এটি তার প্রথম বই, সে হিসাবে অভিনন্দন আরেকটু বেশিই জানাব।
Was this review helpful to you?
or
অসাধারণ!
Was this review helpful to you?
or
লেখকের প্রথম বই সেটা একদমই মনে হয়নি। বরং প্রতি পাতায় দেখা গেছে লেখনীর পান্ডিত্য। বেশ সুখ পাঠ্য এবং ঝরঝরে বইটি সংগ্রহে রাখার মত একটি বই।
Was this review helpful to you?
or
বাংলাদেশের একটি বিলের নামে 'গুলদহ' উপন্যাসের নামকরণের মধ্যেই ঔপন্যাসিক এর গল্পের সর্বজনীনতার ঈঙ্গিত দিয়েছেন। মানুষের নিত্য বলা কথ্য ভাষায় দৈনন্দিন লোমহর্ষক ঘটনা প্রবাহের সংমিশ্রণে রচিত বইটা সুখপাঠ্য...
Was this review helpful to you?
or
গুলদহ বিলে কচুরিপানা উঠাতে গিয়ে একটি মেয়ের মৃতদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও তেমন হদিস করতে পারে না। পরে কাহিনী এগুতে থাকলে একে একে গল্পের প্রত্যেকটি চরিত্রর সাথে পরিচয় ঘটতে থাকে, ঘটনাপ্রবাহ মোড় নিতে থাকে, প্রত্যেকটি ঘটনাই একটি অপরটির সাথে জড়িত। লেখকের প্রথম লেখা হিসেবে ভালই। তবে লেখক আঞ্চলিক ভাষায় পুরো বইটি লিখতে চেয়ে গুবলেট করে ফেলেছেন। খিচুড়ি হয়ে গেছে পুরোই। তাছাড়া গল্পটি আরেকটু সংক্ষিপ্ত করা যেতো। কিছু প্লট অহেতুক আনা হয়েছে।




