
User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
বই: মেঘপিয়াসী মন লেখিকা: ওয়াসিকা নুযহাত জনরা: সমকালীন প্রচ্ছদ: আশরাফুল ইসলাম প্রকাশনী: বর্ষাদুপুর পৃষ্ঠা: ৩২৩ মাথার উপরের বিশাল আকাশটাকে নিয়ে আমাদের ভাবনার শেষ নেই। কতো দূরে সেই আকাশ? কখনো কি ছোঁয়া যাবে? আর সেই আকাশে ভেসে বেড়ায় মেঘ। মেঘেদের দেশ কেমন হয়? কবি'র কলমে কতো কবিতা বইয়ের পাতায় উঠে এসেছে দূরের আকাশ, মেঘেদের নিয়ে। যদিও পৃথিলা কবিতা পড়েছে কিনা জানা নেই, তবে বাংলা সাহিত্য যে সে পড়েনি সেটা আমরা জানি। ওয়েষ্ট ভার্জিনিয়ায় বড় হওয়া মানুষ আর যাই পড়ুক বাংলা পড়তে জানবে না। নানা - নানী আর মায়ের কাছে বড় হওয়া পৃথিলা ছিলো সত্যিকার অর্থেই প্রিন্সেস। হ্যা, বাবার আদর থেকে সে বঞ্চিত তবে বাকি ৩ জন তাকে মাথায় করেই বড় করেছে। কিন্তু স্বপ্ন থেকে যেমন একদিন জাগতে হয় তেমনি পৃথিলার নির্ভেজাল জীবন থেকে হঠাৎ করেই আপন মানুষগুলো পরপারে পারি জমালো আর এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে ওর জন্য রেখে গেলো বিশাল একাকিত্ব, শুন্যতা। যতোক্ষনে পৃথিলা নিজের জীবনকে গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টায় আছে ঠিক সেই মুহূর্তে কোন এক গোধূলি লগনে প্রাসাদতুল্য বাড়ির সামনে হাজির হলো 'আকাশ' নামে এক বাং-গালি যুবক। বাবার ছেড়ে যাওয়ার কারণে হোক বা মায়ের একাকিত্ব, বাংলাদেশের মানুষের প্রতি পৃথিলার এক আকাশ সমান ঘৃণা। সেই কারণেই প্রথমে জায়গা দিতে চায়নি ছেলেটাকে। অনেকটা জোর করেই বাসায় থেকে যায়। আর দিন দুইয়েক পরেই হাজির হয় আকাশের বান্ধবী নাতাশা। বোকা পৃথিলা জানে না এদের আগমনেই বদলে যাবে তার সহজ সুন্দর জীবনটা। যার সাথে প্রথম দেখা থেকেই ঝগড়া, কথা কাটাকাটি, একটা সময় সেই ছেলেটাকেই ভালো লাগতে শুরু করলো। তার হাসিটা যেন দম বন্ধ করা সুন্দর। সবই ঠিক ছিলো কিন্তু নাতাশার আদিখ্যেতা চোখে পরার মতোই। গল্পটা কিছুদূর আগাতেই নাতাশার এই বাসায় আসার উদ্দেশ্য জানা গেলো। গল্পটা যতো আগালো, ভালো লাগা, বিরক্ত হওয়া, মাঝে মাঝে আকাশ পৃথিলা দুজনের উপরে রাগ লাগা শুরু করলো। মনের কথা প্রকাশ না করলে সেটার জন্য জীবনে কতো চড়া মুল্য দিতে হয় সেটা আকাশ পৃথিলাকে দেখে বোঝা যায়। তবে গল্পের শেষটা ছিলো একদম মন মতো। প্রত্যেকটা চরিত্রের আগমন এবং প্রস্থান ছিলো সুন্দর মতো। ছিলো না কোন তাড়াহুড়ো, অস্থিরতা। যদি কেউ জানতে চায়, গল্পটা কেমন? তাহলে বলবো, খুব সাধারণ কিন্তু লেখিকার লেখার গুনে গল্পটা সুন্দর হয়ে উঠেছে। একটা সহজ সুন্দর গল্পের ছলে আমাদের সমাজের কিছু চিত্র তুলে ধরা, বিদেশে গেলে মানুষের আশা এবং বাস্তবতা কেমন সেটা গল্পে উঠে এসেছে। যার পৃথিবীতে আপন মানুষ থাকে না, তার জন্য একা থাকা কতোটা যন্ত্রণার, মানুষ কিভাবে তাদের ব্যবহার করে সেটা কিছুটা হলেও উঠে এসেছে গল্পে। মুখে যতোই বলুক, আমরা তোমার আপন, সব সময় পাশে আছি কিন্তু বিপদে পরলে কাউকেই পাওয়া যায় না। উল্টো তাদের কারণে মাঝে মাঝে জীবনে বিপদ বাড়ে। তবে হ্যা, কিছু মানুষ থাকে যারা সত্যিকারের বন্ধু হয়। পাশে দাড়ায়। আকাশ: গল্পের নায়ক, যাকে প্রথমে খুব সাধারণ একজন মানুষ মনে হলেও পরে বোঝা যায় সে কতোটা দায়িত্বশীল। জীবনের যে কোন প্রতিকূলতায় ভেঙ্গে না পরে দায়িত্ব নিতে জানে। সেটা মা, বোন হোক কি বউ বাচ্চা। মাঝে মাঝে বেশি চিন্তা করে ফেলে আর রাগ উঠলে মাথা ঠিক থাকে না সেটা একটা বেপার। পৃথিলা: গল্পের প্রাণ। পুরো গল্পটাই ওকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। মা নানীর আদরের পুতুল জীবনের নানা ঘটনায় এক সময় বড় হয়ে উঠে। বুঝে যায়, ওর বোকামীর কারণে কতোটা ভুগতে হচ্ছে ওকে। তবে হাল ছাড়ে না। জীবনের সব যন্ত্রণা যেন একাই বয়ে চলার পণ করে। তবে উপরওয়ালা তাকে নিরাশ করে না। যতোটা নেয়, তার দ্বিগুন তাকে ফিরিয়ে দেয়। নাতাশা: মানুষের মন যদি পরিচ্ছন্ন না হয় তবে নিজের মন মতো সব হওয়ার পরেও সেই মানুষটা শান্তিতে থাকতে পারবে না। নাতাশা তার সুন্দর উদাহরণ। আকাশ পৃথিলার জীবনটা নরক করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে এবং অনেকাংশে সফলও হয় তাও শান্তি নামক পায়রা আর ধরা দেয় না। আবিদ: ভালো মানুষের আড়ালে একজন স্বার্থপর মানুষ। যে সকলের চোখে একজন পার্ফেক্ট পুরুষ কিন্তু খুব কাছের না হলে বোঝা যায় না আসলে সে কতোটা ভয়ংকর। আর এই ভয়ংকর মানুষের পরিনতি ছিলো একদম পার্ফেক্ট। যেমন কর্ম তেমন ফল সে পেয়েছে। এরা ছাড়াও গল্পটাকে সুন্দর করতে আরো বেশকিছু চরিত্র ছিলো, যাদের উপস্থিতি গল্পটাকে পূর্নতা দিয়েছে। এই সকল চরিত্রের মাঝ দিয়ে আমরা সমাজের মানুষের ভালোটা যেমন দেখেছি তেমনই স্বার্থপরের মতো লেজ গুটিয়ে পালাতেও দেখেছি। ওয়াসিকা আপুর লেখা সব সময়ই সহজ, সাবলীল। একটা সাধারণ গল্পকে তার লেখার গুনে সুন্দর করে তোলে। ওয়াসিকা আপুর লেখা আমার ভালো লাগার অন্যতম কারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কে প্রাধান্য দেয়া। মানুষের সাথে প্রকৃতির যে মেলবন্ধন সেটা খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলেন আপু। অনেকের কাছেই বর্ণনা বিরক্তিকর লাগে বা মনে হয় দরকার ছিলো না। তবে আমার মনে হয় গল্পকে সুন্দর করতে পর্যাপ্ত বর্ণনার দরকার আছে। না হলে আপনি কল্পনা করবেন কিভাবে তাদের। ৩২৩ পৃষ্ঠার উপন্যাস বলবো না এক বসায় শেষ করতে পারবেন তবে শুরু করলে শেষ করার তাগিদ অনুভব করবেন। পরে কি হচ্ছে বা হবে এটা জানার তেষ্টা পাবে। গল্পের প্রচ্ছদ এবং নামকরণ গল্পের মতোই স্নিগ্ধ, সুন্দর। বইয়ের বাইন্ডিং, পৃষ্ঠা কোয়ালিটি ও চমৎকার। এ কারণে যারা বইটার পেছনে কাজ করেছে তারা একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য। বইটা উৎসর্গ করা হয়েছে "দিশা" নামের একজন আপুকে। উৎসর্গের ধরণ দেখে মনে হয়েছে উনি লেখিকা আপুর বান্ধবী। ভাগ্যবতী মানুষ, একটা বইয়ের উৎসর্গে থাকা মানে বইটার সাথে সেই মানুষটারও বেঁচে থাকা। 🤍 হ্যাপি রিডিং। 🫶




