শুনুন, মহৎ মানুষের নিষ্ঠুরতা সহ্য করার মতো মানসিক শক্তি আমার নেই। আমি নিতান্ত সাধারণ একটা মেয়ে। তাইতো আজ আমাকে বিদ্রোহী হতে হয়েছে। আপনি সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ রাখতে বলেছেন। আপনার কথার অবাধ্য পারতপক্ষে আমি হইনি। কিন্তু আপনার নিষ্ঠুরতার আঘাত সহ্য করার মতো শক্তি আমার নেই। তাইতো আপনার কথা অগ্রাহ্য করে আমাকে লিখতে হয়েছে। আপনি আমাকে মুক্তি দিয়েছেন কত মহৎ আপনি! কিন্তু আপনার কাছে এই দুর্বিষহ মুক্তি কি আমি চেয়েছি। আপনি নিজে ভেঙ্গে পড়েছেন। কিন্তু আমার ভাঙ্গনের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আপনি কেটে পড়তে চাইছেন। একটি মেয়ের ভিতরের ভাঙ্গন দেখার বা সরিয়ে দেবার কোন দায় আপনার নেই। কিন্তু আমি তো এভাবে কখনো আপনাকে কল্পনা করিনি। অথচ তা করার দরকার ছিল। আপনি যখন আলোকিত পথের অভিযাত্রী হয়েছেন, তখনই আমি আপনার সহযাত্রী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়েছি। সেই বিপদের মধ্যে কোন পিছুটান রাখিনি। জীবন-মৃত্যুর কোন পর্দা রাখিনি।br একটা মানুষ সত্যকে অবলম্বন করে নিশ্চিত মৃত্যুর গুহার দিকে এগিয়ে যায়, এটাকে নিয়ে কি এসব মামুলি হিসাব চলে? আপনি মারা যেতে পারতেন। যেকোনো সময় আপনি খুন হয়ে যেতে পারতেন? মরতে মরতে আপনি বেঁচে গেছেন। ডাক্তার বলেছে প্রপার ট্রিটমেন্ট হলে আরো 5-6 বছর আপনি বেঁচে থাকতে পারবেন। আশার কথা, যে তোড়জোরে ক্যান্সারের গবেষণা হচ্ছে, 5-6 বছরে হয়তো ক্যান্সার নির্ভুলের পন্থাই আবিষ্কার হয়ে যাবে। তখন আর আপনাকে মৃত্যু নিয়ে ভাবতে হবে না। অনেক বড় মানুষ ভুল করে। আগে একদিন আমি লিখেছিলাম। আপনি বড় মানুষ হয়েও আরেকবার ভুল করলেন। ডাক্তার বলেছেন আপনি 5-6 বছর বাঁচবেন। br অথচ আমি এমনি একটি ঝড়ো সময়ে আপনার সাথে জড়িয়েছি, যখন 5-6 ঘন্টা আয়ুরও কোন নিশ্চয়তা ছিল না। তা অবশ্য কোনো মানুষেরই থাকে না। কিন্তু আমাদের জানা কার্যকারণ ঘটিত জীবনঘাতি ঝুঁকির মধ্য দিয়ে যে সময়টা আপনি পেরিয়ে এসেছিলেন, আমি সেই গ্রহণ কালটার কথা বলছি। পৃথিবীর সবাই ছিল তখন আপনার বিরুদ্ধে। আপনার স্বজনরাও নিয়েছিল মুখ ফিরিয়ে। আমি খোঁটা দিচ্ছি না । কিন্তু তবুও না বলে পারছিনা। আপনার আয়ু যখন সেই আলো-আঁধারিতে কম্পমান ছিল, তখনও কিন্তু এই হতভাগিনী পিছিয়ে আসেনি । অথচ দেখুন, আজ কত ঝানু হিসেবে আপনি হয়েছেন। আমি যেখানে পাঁচ, ছয়, ঘন্টার হিসেবকেও আমল দিইনি, আপনি সেখানে 5-6 বছরের হিসেবকে সামনে এনে আমাকে তাড়িয়ে দিতে চাইছেন। আপনার এই নিষ্ঠুরতায় আমি খুব অপমানিত বোধ করছি। আপনি আমাকে বোঝার একটুও চেষ্টা করেননি। বাধ্য হয়ে আমাকে আজ একটা প্রশ্ন করতে হচ্ছে। আচ্ছা, আপনার এই অসুখের কথা জানার পরে আপনি কি আপনার স্বজনদের তাড়িয়ে দিয়েছেন? br তারা কি এখন আপনার সাথে থাকেন না? নাকি স্বজনদের সেবা আপনি পরম মমতায় ভোগ করছেন? অথচ দেখুন,আপনার বান্ধবহীন অভিযাত্রার একমাত্র সহযাত্রীকে তাড়িয়ে দিতে আপনার একটুও বাঁধছে না । এতো নিষ্ঠুর আপনি হলেন কবে থেকে?br ইতিbr #অচেনা_আপনbr আপনাকে জানতেই হবেbr আখের শেষ কি হলো।
নাট্যকার ও কথাসাহিত্যিক মুহাম্মদ ফজলুল হক জন্মগ্রহণ করেন ব্রহ্মপুত্রের কোলঘেঁষা ময়মনসিংহ জেলা শহরের সন্নিকটে গৌরীপুর উপজেলাধীন বারুয়ামারী গ্রামে। তাঁর পিতা মো. বদর উদ্দিন ও মাতা জান্নাতবাসিনী ফাতেমা বেগম। সাত ভাই- বোনের মধ্যে লেখক ষষ্ঠ। শৈশব কেটেছে গ্রামের দুরন্তপনার মধ্যে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী লেখক ত্রিশাল মহিলা ডিগ্রি কলেজে পদার্থবিদ্যার সহকারী অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত। কন্যা ফাবিহা বিনতে হক, পুত্র ফয়জুল হক ও সহধর্মণী কোহিনূর নাহারকে নিয়ে সুখের সংসার। কোহিনূর নাহার নিজেও একজন শিক্ষক এবং তাঁরই অনুপ্রেরণায় লেখক এই বৈরী সময়েও কলম চালিয়ে যাচ্ছেন। লেখকের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দশ। উল্লেখযোগ্য উপন্যাস ইতিকথার পরের কথা, অচেনা আপন, মেয়েটি, মানুষের মন, কেউ কথা রাখেনি ও দেহকাব্য। এছাড়া তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের উপরও লিখেছেন দুটি বই। বিজ্ঞানবিষয়ক প্রবন্ধও লিখেছেন অনেকগুলো, যা জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। একসময় নিয়মিত কলাম লিখতেন মৃদুভাষী নামে। তাঁর দুটি উপন্যাসকে অবলম্বন করে চিত্রায়িত ও প্রচারিত হয়েছে ধারাবাহিক নাটক। কথাসাহিত্যিক পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি টিভি দর্শকদের কাছে একজন জনপ্রিয় নাট্যকার হিসাবে পরিচিত। বিটিভি ও বিভিন্ন চ্যানেলে তাঁর রচিত ধারাবাহিক নাটক মনময়ূরী, চেনাসুর, দশ বছর পরে, তাহাদের সুখ-দুঃখ, ধরতে হবে সুখ পাখিটা, মাটি প্রভৃতি দর্শকনন্দিত। এক ঘণ্টার অনেকগুলো নাটক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে। প্রচারের অপেক্ষায় আছে অনেকগুলো। চিত্রায়ণের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়ও আছে অনেকগুলো ধারাবাহিক ও এক ঘণ্টার নাটক। ছাত্রজীবনেই লেখক নাটক লেখার জন্যে পর পর তিনবার পাবলিক লাইব্রেরি সাহিত্য পুরস্কার ১৯৮৫, ১৯৮৬ ও ১৯৮৭ লাভ করেন। সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্যে তাঁকে দেয়া হয় মহাত্মা গান্ধী পিস অ্যাওয়ার্ড-২০১৪। নাট্যকার ও কথাসাহিত্যিক মুহাম্মদ ফজলুল হক জন্মগ্রহণ করেন ব্রহ্মপুত্রের কোলঘেঁষা ময়মনসিংহ জেলা শহরের সন্নিকটে গৌরীপুর উপজেলাধীন বারুয়ামারী গ্রামে ১৯৬৫ সালে। তাঁর পিতা মো. বদর উদ্দিন ও মাতা জান্নাতবাসিনী ফাতেমা বেগম। সাত ভাই- বোনের মধ্যে লেখক ষষ্ঠ। শৈশব কেটেছে গ্রামের দুরন্তপনার মধ্যে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী লেখক ত্রিশাল মহিলা ডিগ্রি কলেজে পদার্থবিদ্যার সহকারী অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত। কন্যা ফাবিহা বিনতে হক, পুত্র ফয়জুল হক ও সহধর্মণী কোহিনূর নাহারকে নিয়ে সুখের সংসার। কোহিনূর নাহার নিজেও একজন শিক্ষক এবং তাঁরই অনুপ্রেরণায় লেখক এই বৈরী সময়েও কলম চালিয়ে যাচ্ছেন। লেখকের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দশ। উল্লেখযোগ্য উপন্যাস ইতিকথার পরের কথা, অচেনা আপন, মেয়েটি, মানুষের মন, কেউ কথা রাখেনি ও দেহকাব্য। এছাড়া তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের উপরও লিখেছেন দুটি বই। বিজ্ঞানবিষয়ক প্রবন্ধও লিখেছেন অনেকগুলো, যা জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। একসময় নিয়মিত কলাম লিখতেন মৃদুভাষী নামে। তাঁর দুটি উপন্যাসকে অবলম্বন করে চিত্রায়িত ও প্রচারিত হয়েছে ধারাবাহিক নাটক। কথাসাহিত্যিক পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি টিভি দর্শকদের কাছে একজন জনপ্রিয় নাট্যকার হিসাবে পরিচিত। বিটিভি ও বিভিন্ন চ্যানেলে তাঁর রচিত ধারাবাহিক নাটক মনময়ূরী, চেনাসুর, দশ বছর পরে, তাহাদের সুখ-দুঃখ, ধরতে হবে সুখ পাখিটা, মাটি প্রভৃতি দর্শকনন্দিত। এক ঘণ্টার অনেকগুলো নাটক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে। প্রচারের অপেক্ষায় আছে অনেকগুলো। চিত্রায়ণের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়ও আছে অনেকগুলো ধারাবাহিক ও এক ঘণ্টার নাটক। ছাত্রজীবনেই লেখক নাটক লেখার জন্যে পর পর তিনবার পাবলিক লাইব্রেরি সাহিত্য পুরস্কার ১৯৮৫, ১৯৮৬ ও ১৯৮৭ লাভ করেন। সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্যে তাঁকে দেয়া হয় মহাত্মা গান্ধী পিস অ্যাওয়ার্ড-২০১৪। সমাজের অসঙ্গতি তিনি তাঁর কলমের তুলিতে সাবলীল ভাষায় তুলে ধরেন একজন নির্মোহ পর্যবেক্ষকের মতো। নিজস্ব ধ্যান-ধরণা তিনি তাঁর উপন্যাসের চরিত্রগুলোর উপর কখনো আরোপ করেন না বলেই চরিত্রগুলো একদম রক্ত-মাংসের মানুষ হয়েই পাঠকের কাছে হাজির হয়। একবার পড়তে শুরু করলে শেষ না করলে পাঠক স্বস্তি পান না। এখানেই লেখকের বিশেষত্ব।