সমসাময়িক ঘটনাবলীর আবেগপূর্ণ বর্ণনা থেকে প্রকৃত ইতিহাস কেবল ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় শর্মিলা বসুর বইটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে ইতিহাসের এই দীর্ঘ যাত্রা পথের শুরুতে প্রতিস্থাপন করেছে-ডেভিড ওয়াশত্রুক্রক, সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, ট্রিনিটি কলেজ, ক্যামব্রিজ। দুনিয়া কাপানো এ বইটিতে দক্ষিণ এশিয়ায় ১৯৭১ সালে সংঘটিত যুদ্ধে জড়িত উভয়পক্ষের স্মৃতিসমূহ ধারাবাহিকভাবে পুর্নগঠন করা হয়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় এবং তারপর শুরু হয় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ। এই যুদ্ধে পাকিস্তানের সহায়তায় ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। পাকিস্তানের পূর্ব খণ্ড পূর্ব পাকিস্তানের ভূমিতে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল এবং এই পূর্ব পাকিস্তান আলাদা একটি পৃথক রাষ্ট্রের রূপ নেয় যা বাংলাদেশ নামে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান পায়। লেখিকা শর্মিলা বসু সরেজমিনে অত্যন্ত গভীরতার সাথে ঘটনাসমূহের অনুসন্ধান করে ওই সংঘাতের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করেছেন। ১৯৭১ সালের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত এ যুদ্ধে যারা জয়ী হয়েছে তারা ও তাদের বক্তব্যসমূহ প্রাধান্য পেয়ে আসছে। অন্যদিকে যুদ্ধের সকল অংশীদারদের অনেকেই একপক্ষীয় কল্পকাহিনীর বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে আছেন। শর্মিলা বসু ঘটনাগুলোকে পুণরায় সাজিয়েছেন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাতকার নিয়ে, ঘটনার সাথে জড়িত সকল পক্ষের বাংলা ও ইংরেজীতে প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা থেকে, বিভিন্ন পুস্তক-সাময়িকী, সরকারি দলিলসমূহ, বিদেশী সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সহায়তা নিয়ে। তাঁর বইটি সংঘর্ষের প্রকৃতি সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাসমূহের বিপরীতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে এবং এখনো ১৯৭১ এর সংঘাত কিভাবে এ অঞ্চলকে প্রভাবিত করে চলেছে তার স্বরূপ উন্মোচন করেছে।
শর্মিলা বসু'র জন্ম ১৯৫৯ সালের ৪ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে। তাঁর পিতা ইংরেজীর অধ্যাপক শিশির কুমার বসু ও মাতা কৃষ্ণা বসু। তাঁর দাদা হচ্ছেন বিখ্যাত বাঙালি বিপবী নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু'র বড় ভাই শরৎ চন্দ্র বসু। শর্মিলা পিএইচডি করেছেন বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বর্তমানে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এ সিনিয়র রিসার্চ এসোসিয়েট হিসেবে কর্মরত।