ভালোবাসা, আবেগকেন্দ্রিক একটি অভিজ্ঞতার নাম। একাকিত্বের নীলাচলে ভেসে বেড়ানো এক চিত্তাকর্ষক পুষ্পরেণু। প্রকৃতির বিচিত্র ধরনের অনুভূতি। প্রেমের গহ্বরে নিমজ্জিত ভাবনার আরাধ্য বিষয়। একে অপরের নিরবচ্ছিন্ন বন্ধন। যে ভালোবাসা মানুষ সৃষ্টির উদ্ভাবিত বিষয়। পৃথিবী সৃষ্টির প্রধানতম কারণ। ভালোবাসা একটি অগ্নিশিখা, যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য সব কিছুকেই জ্বালিয়ে দেয়! যা ব্যতীত ঈমানের অপূর্ণতা অপরিহার্য। কেননা, ইরশাদ হচ্ছে- যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায় তারা সুদৃঢ়। -সূরা বাকারা: ১৬৫
এটা জান্নাতের প্রেমপথের সর্বশ্রেষ্ঠ ভালোবাসা। যাতে প্রাপ্তির বন্দনায় আত্মার অনুরাগে উন্মাদিত হাজারো মুমিনের হৃদয়-মন। প্রশান্তির খোঁজে নিজের মধ্যে হারিয়ে যাওয়ার উপকরণ। তৃষ্ণার্ত হৃদয়ের প্রণয়পাত্র। অসুস্থ ব্যক্তির অন্তরের ব্যাধি। নিজেকে চঞ্চল ও প্রাণবন্ত করার অন্যতম মাধ্যম, যা পূর্ণতা পায় স্রষ্টাকে ভালোবাসার মাধ্যমেই। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, 'ঈমানদার ব্যক্তি আল্লাহকে ভীষণ ভালোবাসে।' -সূরা বাকারা: ১৬৫
হৃদয়ের সজীবতায় আর ভালোবাসার ছোঁয়ায় ঈমানদাররা সারাক্ষণ বিভোর হয়ে থাকে। প্রতিটি অঙ্গের কোনো না কোনো কাজ রয়েছে। আর তার মধ্যে থেকে হৃদয়ের কাজ হলো ভালোবাসা। আর আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন, তাকে পার্থিব মোহ থেকে রক্ষা করেন। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, আল্লাহ তায়ালা যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন। তাকে দুনিয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখেন, যেমন তোমাদের কেউ তার রোগীকে পানি থেকে বাঁচিয়ে রাখে। -সুনানে তিরমিযি: ২০৩৬
যেহেতু পার্থিব জীবনের মোহমায়া সব গুনাহের মূল। আর এই মায়া দূর করা সব কল্যাণের চাবিকাঠি। যে কারণে প্রিয়নবী সা. আল্লাহর ভালোবাসার পাত্র ছিলেন। কারণ, সব কিছুর ঊর্ধ্বে রয়েছে আল্লাহর ভালোবাসা। বিশেষ করে মুমিনের জীবনে আল্লাহর ভালোবাসাই সব কিছুর ঊর্ধ্বে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, 'বলো, তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের গোত্র, তোমাদের সে সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছ, আর সে ব্যবসা যার মন্দ হওয়ার আশঙ্কা তোমরা করছ এবং সে বাসস্থান, যা তোমরা পছন্দ করছ, যদি তোমাদের কাছে অধিক প্রিয় হয় আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে, তবে তোমরা অপেক্ষা করো আল্লাহ তাঁর নির্দেশ নিয়ে আসা পর্যন্ত। আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।' -সূরা তাওবা: ২৪