এটা ঐতিহাসিক সত্য যে, আল-কুরআন নাযিলের সময় থেকেই আল-কুমআন অবমাননায় অপতৎপরতা চলে আসছে এবং যুগে যুগে তা অব্যাহত রয়েছে। তৎকালীন আরব সমাজে কুরআনকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি করা হয়েছে। কুম্মআন মানব রচিত বলে সন্দেহ থেকে শুরু করে কুমআনের অনুরূপ কিছু রচনার মতো দুঃসাহসিক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার ব্যর্থ প্রচেষ্টার কথা আমাদের সকলেরই জানা। আজও তেমন প্রচেষ্টা চালু আছে এবং এতে বিভিন্নরূপ ও মাত্রা যুক্ত হয়েছে। কিন্তু আল-কুমআনকে অপমান-অবমাননা করে কোনো ব্যক্তি-জাতি-গোষ্টি এর বিন্দুমাত্র ক্ষতিসাধন করতে পারেনি। বরং যারাই এম বিরুদ্ধে কথা বলেছে, তারাই লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়েছে। কারণ আল- কুরআন সম্প্রদায়ের জন্য বিশ্বপ্রতিপালকের পক্ষ হতে অবতারিত সর্বশেষ ও সর্বাধিক সম্মানিত হেদায়াতের বার্তা বিশেষ। তাই এর সংরক্ষণের দায়িত্বতাল আল্লাহ স্বয়ং নিজেই নিয়েছেন (আল-কুরআন ১৫৯)।
এরই ধারাবাহিকতায় আমরা দেখতে পাই যে, অবতরণকাল থেকেই আল- কুমআন বিভিন্নভাবে সংরক্ষিত হয়ে আসছে। এটি লিখিতভাবে কোটি কোটি পুস্তিকায় যেমন সংরক্ষিত তেমনই সাম্মা বিশ্বের সংখ্যাতীত হাফেজদের মাধ্যমে মুখস্থ ও স্মৃতিপটে অঙ্কিত হয়ে সদা সর্বত্র বর্তমান আছে এবং থাকবে।
আল-কুমআন আল্লাহর বাণী হওয়ায় এর সম্মান ও মর্যাদা অতুলনীয় এবং এম বিধান অলংঘনীয়। তাই কেউ যদি এর অবমাননা করে তাহলে সে নিশ্চয় ক্ষমার অযোগ্য অপরাধে অপরাধী হবে। তা সত্ত্বেও আমরা বিভিন্ন সময় দেখতে পাই যে, কেউ কেউ এরূপ অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। সে হয়তো বিশ্বাসী, নয়তো অবিশ্বাসী। হয়তো হতভাগা মুসলিম, নয়তো দুর্ভাগা অমুসলিম। এ ব্যাপারে ইসলামেন্স নির্দেশনা কী? এ অপরাধের শাস্তি কী হবে? কিভাবে তা বাস্তবায়ন কমা হবে? ইত্যাদি বিষয় আমরা অনেকেই জানি না। বিশেষত বাংলা ভাষাভাষি লোকদের মাঝে তেমন কোনো প্রামাণ্য লেখালেখি চোখে পড়ে না। তাই এ বিষয়টি পরিষ্কারভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য এ পুস্তিকায় একটি প্রয়াস চালানো হয়েছে মাত্র।
মো. ওবাইদুল্লাহ। জন্ম: ১ ডিসেম্বর ১৯৮৪, স্থান: দুয়ারপাল, পোরশা, নওগাঁ: মাতা: সাকেরা, পিতা: শায়খ মো. নোমান আলী (অধ্যক্ষ, আলাদীপুর দারুল হুদা সালাফিয়্যাহ মাদরাসা, সাপাহার, নওগাঁ)। শিক্ষাজীবনে তিনি মাদ্রাসা মুহাম্মাদীয়া আরাবীয়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা হতে ২০০২ সালে দাওরা হাদীস সম্পন্ন করেন। এরপর আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া হতে বি.এ (অনার্স) ও এম.এ উভয় পরীক্ষায় ১ম শ্রেণিতে ১ম স্থান অর্জন করে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন এবং একই বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে "আল-কুরআনে মানব সভ্যতা: একটি পর্যালোচনা" শীর্ষক শিরোনামের ওপর এম.ফিল এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। সর্বশেষ তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পি.এইচ.ডি ডিগ্রি লাভের উদ্দেশ্যে "ইসলামী শরী'আতে সম্পদ উপার্জন ও ব্যয়ের নীতিমালা" শীর্ষক শিরোনামের ওপর সকল ধাপ সম্পন্ন করে মৌখিক পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছেন। গবেষণা-প্রকাশনার ক্ষেত্রে: ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর ইসলামী বিশ্বকোষ বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত 'আল-কুরআনুল কারীম সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ' ১ম খণ্ডে তাঁর ১০টি নিবন্ধসহ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিভিন্ন গবেষণা জার্নালে ৪টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং আরো ২টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশের পথে। তিনি ইবন হাজার আসকালানী সংকলিত 'বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম' কিতাবের বাংলা ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'মুখতাসারু তাসহিলুল মারাম' এর ১ম খণ্ড সম্পাদনা করেন। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে "নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ইসলামের ভূমিকা: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত" (The role of Islam in preventing the abuse of women and children: perspective Bangladesh) শীর্ষক শিরোনামের ওপর ১টি প্রকল্প সম্পন্ন করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি বিভিন্ন সেমিনার ও ১টি আন্তর্জাতিক (অনলাইন) সেমিনার-এ অংশগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি শাহ মখদুম ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটি রাজশাহীতে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে কর্মরত আছেন। উল্লেখ্য যে, এটি লেখকের 'দি হলি কুরআন রিসার্চ সিরিজ' এর প্রথম বই।